ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার বিকল্প নেই : রেণী

আপডেট: মার্চ ২৫, ২০১৭, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহীন আকতার রেণী বলেছেন, শিক্ষিত কন্যা হবে শিক্ষিত মা। সেই ঘরে আর দুঃখ রইবে না।’ শিক্ষিত জাতি গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বছরের প্রথমদিন বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের হাতে বই দিচ্ছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার বিকল্প নেই। শিক্ষিত জাতিই পারে একটি সুন্দর পৃথিবী উপহার দিতে। শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে।
গতকাল শুক্রবার সকালে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) চত্বরে অগ্রণী বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শিক্ষাজীবন একটি আনন্দময় সময়। এসময় নিজেকে সমাজ ও দেশের কাছে সুশিক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ার সময়। শিক্ষা জীবনে যে ভালোভাবে লেখাপড়া করেছে সে ততো উন্নতি করেছে। যারা উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে তারা নিসন্দেহে অধ্যাবসায় করেছেন।
তিনি আরো বলেন, নামে মাত্র শিক্ষিত হলে কোন কাজে আসবে না। আজ আপনার এখানে যারা উপস্থিত হয়েছে তারা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছিলেন। অনেকের হয়তো বা লেখাপাড়া শেষ হয়ে গেছে। কেউ চাকরি জীবনে আবার কেউ বা সংসার জীবনে। আপনাদের প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনেক পুরানো দিনের স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে। আপনার নিজের অবস্থান থেকে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবেন।
অনুষ্ঠানে ‘আবার মিলি প্রাণের বন্ধনে’ স্লো¬াগান সামনে রেখে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আমন্ত্রিত অতিথিসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিলে একটি আনন্দ র‌্যালি বের করে। র‌্যালিটি কলেজ চত্বর থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসে শেষ হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় সংগীতের তালে তালে পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে পুনর্মিলনীর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অতিথিরা।
পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী উর্মি বলেন, অনেক দিন পরে সবাইকে একসঙ্গে পেয়েছি। অনেক ভালো লাগছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে কখনো ভাবিনি যে আবার সবাই এক হবো। সব থেকে বেশি ভালো ভাগছে যে কাছের বান্ধবীরা আজ স্বামী ও সন্তানসহ কলেজে এসেছে। এটা অনেক মজার।
পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে অগ্রণী বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোশারফ হোসেন বাচ্চুর সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. রফিফুল আলম বেগ, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, তৎকালীন বিআইটির সাবেক পরিচালক এবং অগ্রণী বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ড. এএম রেজাউল করিম তালুকদার, অগ্রণী বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যক্ষ তহুরা আক্তার খাতুন, নওদাপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও নগর যুবলীগের সভাপতি রমজান আলী।
পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী সফিউল্লাহ সাফি ও বাবুল হোসেন ফিরোজ বলেন, অনেক ভালো লাগছে এই অনুষ্ঠানে এসে। অনেক পুরোনো দিনের স্মৃতি মনে পড়ে গেলো। আমাদের শিক্ষা জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতিবাহিত করেছি। পরে সকাল ১১টা দিকে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এসময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থীরাসহ বর্তমান ও সাবেক শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
বিকেল তিনটার দিকে দ্বিতীয় অধিবেশনে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে অগ্রণী বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সাইফুল হক’র সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আশীয়ারা খাতুন।
অগ্রণী বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সাইফুল হক বলেন, এতো বড় পরিসরে একটা অনুষ্ঠান করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এতো ছেলে মেয়েদের (আমার শিক্ষার্থী) একসঙ্গে দেখে খুব ভালো লাগছে। তারা যে ভালোবাসার টানে এই কলেজটিতে ছুটে এসেছে প্রিয় শিক্ষক-বা শিক্ষিকার কাছে। এটা অনেক আনন্দের। এই অনুষ্ঠানে মনে হয় কেউ একা আসেনি। সবাই পরিবার পরিজনদের নিয়ে এসে এই অনুষ্ঠান সাফল্যমণ্ডিত করেছে।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, কলেজের শিক্ষক আবদুর রোকন মাসুম ও সাবেক শিক্ষার্থী ড. সাজ্জাদ বকুল। পরে সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ মিলন মেলা শেষ হয়।