ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করলো নেসকো গ্রাহকদের সাথে সম্পৃক্তি-সমন্বয়ের প্রতি অগ্রাধিকার দিতে হবে : বিদ্যুৎ সচিব

আপডেট: জুন ১২, ২০২২, ৭:১৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র বাংলাদেশই শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। সাফল্যের সেই পথবেয়েই নেসকো ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করলো।

শনিবার (১১ জুন) সকালে রাজশাহীতে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডÑনেসকোর আইসিটি ভবন ও ডাটা সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়েছে। নগরীর রেলগেট সংলগ্ন নেসকো কার্যালয়ে ভারচুয়েলি আইসিটি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মো. হাবিবুর রহমান, বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও নেসকো লিমিটেডের চেয়ারম্যান মু. মোহসিন চৌধুরী, বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরউল্লাহ্-এনডিসি, জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল, নেসকো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিরুল ইসলাম, রাজশাহী নেসকো লিমিটেডের পরিচালক আবুল কাশেম, নেসকো লিমিটেডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শিরিন ইয়াসমিনসহ নেসকো লিমিটেডের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

বিকেলে রাজশাহী নেসকো লি.-এর প্রধান কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে ‘নেসকো’র ডিজিটাল যুগে প্রবেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মো. হাবিবুর রহমান। বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও নেসকো লিমিটেডের চেয়ারম্যান মু. মোহসিন চৌধুরী এঁর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরউল্লাহ্-এনডিসি ও জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মো. হাবিবুর রহমান বলেন, নেসকোকে গ্রাহক-বান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। গ্রাহক সেবার ক্ষেত্রে কম লাভ করেও গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে হবে। গ্রাহক সেবার সাথে অন্যকিছুর সাথে আপোস করা যাবে না।

তিনি বলেন, গ্রাহক সন্তুষ্টিই মূল কথা। গ্রাহকদের সাথে সম্পৃক্তি-সমন্বয়ের প্রতি অগ্রাধিকার দিতে হবে। গ্রাহকদের সার্বক্ষণিক পাশে রেখেই তাদের পর্যবেক্ষণ, ত্রুটি-বিচ্যুতি, অভিযোগ- এগুলোই উন্নত গ্রাহক সেবার উপাদান হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
প্রধান অতিথি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে গ্রাহকদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে চাই।

আর এটা তখনই সম্ভব হবে গ্রাহক যখন সম্পৃক্ত হবেন। কেবল তখনই নেসকোর পক্ষে মানসম্মত সেবা দেয়া সম্ভব হবে। আমরা গ্রাহকবান্ধব হতে চাই, গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। মধ্যসত্বভোগিদের অস্তিত্ব শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতা গ্রহণ করে তখন মাত্র ৪৭ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় ছিল। তারপরেও দিনে ৮/৯ ঘণ্টা লোডশের্ডি করতে হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণ, সাহসী ও দূরদর্শি নেতৃত্বের ফলে শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এই অসামান্য কৃতিত্বের জন্য একমাত্র বিদ্যুৎ বিভাগকে ‘স্বাধীনতা পদক’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। এই গৌরবে নেসকো লি.-ও অংশীদার।

সভায় নেসকোর বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মো. হাবিবুর রহমান বলেন, নেসকো এখন ১৬টি জেলার ৩৯টি উপজেলায় বিদ্যুৎ সেবা দিয়ে আসছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত গ্রাহকসেবা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে নেসকো কাজ করছে। এ জন্য সবকিছুই ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে।

সেই লক্ষ্যে নেসকো ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করেছে। এছাড়াও সত্যিকার অর্থে বিদ্যুৎ সেবা দিতে হলে ডিজিটাইজেশন, অটোমেশন, স্মার্ট ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম ও স্মার্ট গ্রিড সেবাগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। নেসকোতে জিওগ্রাফি ইনফরমেশন সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে।

ফলে নেসকো অল্প সময়ের মধ্যে গ্রাহক সেবার মান বৃদ্ধি করে সন্তুষ্টি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে, যা প্রশংসার দাবিদার। টেকসই ও মানসম্মত গ্রাহক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে গ্রাহকসেবা কেন্দ্র ও হটলাইন সেবা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করার আহবান জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ১৭ লাখ গ্রাাহকের মধ্যে ইতোমধ্যে ৫ লাখেরও বেশি গ্রাহককে স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট সিস্টেমের আওতায় আনা হয়েছে। অবশিষ্ট ১২ লাখ গ্রাহককে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।

নেসকো লিমিটেডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শিরিন ইয়াসমিন এঁর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন নেসকো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিরুল ইসলাম। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আনওয়ার হোসেন, নেসকো লিমিটেডের পরিচালক আবুল কাশেম, সোনালী সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক লিয়াকত আলী, রাজশাহী চেম্বারের পরিচালক সদরুল ইসলাম প্রমূখ।
সভায় নেসকো লিমিটেডের পরিচালক, সরকারি কর্মকর্তা, নাগরিক প্রতিনিধি ও সংবাদকর্মিগণ উপস্থিত ছিলেন।