ডিজেল-কেরোসিনের দাম ২৩% বাড়ল

আপডেট: নভেম্বর ৪, ২০২১, ১:৩৬ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক


দেশের বাজারে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়েছে সরকার।
বুধবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়ে বলা হয়, রাত ১২টার পর থেকেই বাড়তি দাম কার্যকর হবে।
এই সিদ্ধান্তের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিকে কারণ দেখানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার শুধু ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য প্রতি লিটার ভোক্তা পর্যায়ে ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা পুনর্র্নিধারণ করেছে।”
বাংলাদেশে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল ব্যবহার হয়, তার ৭৩ শতাংশের বেশি ডিজেল। সড়ক ও নৌ পরিবহন, কৃষির সেচ পাম্প এবং বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ নানা ক্ষেত্রে ডিজেলের ব্যবহার রয়েছে।
বিপিসির হিসাবে, ২০১৯-২০২০ বছরে সংস্থাটি ৫৫ লাখ ৩

হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে। এরমধ্যে ডিজেলের পরিমাণ ৪০ লাখ ২৩ হাজার মেট্রিক টন।
ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বাস ভাড়া বাড়ানোর দাবি তুলেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েতুল্লাহ।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “করোনা মহামারীর কারণে এমনিতেই পরিবহন খাত মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত। এরমধ্যে লকডাউন উঠতে না উঠতেই নতুন করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ধকল পরিবহন খাত বহন করতে পারবে না।
“সরকার আমাদের সাথে আলোচনা ছাড়াই জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন সরকার ও বিআরটিএর উচিৎ অতি দ্রুত পরিবহন ভাড়া সমন্বয় করা।”

বাস ভাড়া বাড়ার পাশাপাশি ডিজেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ভাড়া বেড়ে যবে বলে পণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কাও রয়েছেন।
যেসব বাড়িতে কিংবা দোকানে গ্যাস ব্যবহার হয় না, সেখানে কেরোসিনের চুলায় রান্না হলে জ্বালানি বাবদ খরচও বেড়ে যাবে।
পেট্রোল, অকটেনসহ অন্য কোনো জ্বালানি তেলের দাম এই দফায় বাড়ানো হয়নি।
গত কিছু দিন ধরেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর আলোচনা চলছিল।
জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বিপিসি বলে আসছিল, সরকার নির্ধারিত আগের দরে ডিজেল বিক্রি করতে গিয়ে এখন তাদের প্রতি লিটারে ১৩ থেকে ১৪ টাকা লোকসান হচ্ছে।
এরপর জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছিলেন, এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম ‘অ্যাডজাস্ট করতে হবে’।

দাম বাড়ানোর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “আন্তর্জাতিক বাজারে জালানি তেলের মূল্য ক্রমবর্ধমান। বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বগতির কারণে পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়মিত সমন্বয় করছে।
“ভারতে গত ১ নভেম্বর তারিখে ডিজেলের বাজার মূল্য প্রতি লিটার ১২৪.৪১ টাকা বা ১০১.৫৬ রূপি ছিল, অথচ বাংলাদেশে ডিজেলের মূল্য প্রতি লিটার ৬৫ টাকা অর্থাৎ লিটার প্রতি ৫৯.৪১ টাকা কম।”
পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বর্তমানে ক্রয়মূল্যের চেয়ে ডিজেল লিটার প্রতি ১৩ টাকা এবং ফার্নেস অয়েল লিটার প্রতি ৬ টাকা কমে বিক্রি করায় প্রতিদিন প্রায় ২০ কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে বলে দাবি করছে সরকার।
“অক্টোবর ২০২১ মাসে বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম কর্পোরেশন বিভিন্ন গ্রেডের পেট্টোলিয়াম পণ্য বর্তমান মূল্যে সরবরাহ করায় মোট ৭২৬.৭১ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।”
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ