ডিমের ফেরিওয়ালা আজাহার আলীর স্বাচ্ছন্দের সংসার

আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০১৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ


রাশেদুল হক ফিরোজ, বাগমারা
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের লাড়–পাড়া গ্রামের আজাহার আলী একজন ডিমের ফেরিওয়ালা। সুদীর্ঘ ২৫ বছর ধরে তিনি বিভিন্ন মুরগির খামার থেকে ডিম ক্রয় করে ফেরি করে বিক্রি করেন তিনি। এই পেশার মাধ্যমে তিনি সংসার নিয়ে সুখে স্বাচ্ছন্দে জীবনযাপন করছেন। স্ত্রীসহ তার সংসারে রয়েছে দুই ছেলে ও এক মেয়ে।
তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খামার থেকে ডিম কিনে তিনি বাগমারা ও আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ফেরি করে বিক্রি করেন। এ ব্যবসায় তার যথেষ্ঠ সুনাম রয়েছে। বাগমারার যাত্রাগাছি, শিকদারী, ভটখালী, বারুইহাটি এবং আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জসহ বিভিন্ন বাজার এলাকার খাবার হোটেল এবং বিভিন্ন দোকানে ডিম পৌঁছে দেয় মৃত আয়েজ উদ্দিনের ছেলে আজাহার আলী। খাবার হোটেল ছাড়াও তার কাছ থেকে ডিম কিনে নিয়ে অনেক দোকানদার তা খুচরা মূল্যে বিক্রি করেন। খামার থেকে কেনা দামের চেয়ে একটু বেশি দামে বিক্রি করে লাববান হচ্ছেন তিনি।
আজাহার আলী জানান, ফেরি করে ডিম বিক্রি করাতে তার অনেক ভালো লাগে। এই পেশায় তিনি সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন। এই পেশার মাধ্যমে তিনি কিছু জমি বন্দক নেয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি ব্যবসার শুরুতে ডিম কিনে ভ্যানে করে বিক্রি করলেও গত কয়েক বছর আগে তিনি মোটরসাইকেল কিনেছেন। মোটরসাইকেলে ঝুড়ি বানিয়ে সেখানে ডিম নিয়ে ফেরি করছেন তিনি। প্রতিদিন সকালে হামিরকুৎসা ও বিভিন্ন খামার থেকে ডিম কিনে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে সেগুলো বিক্রি করেন। এর আগে তিনি ডিম সরবরাহ করে আত্রাই থেকে আসার পথে যোগীপাড়া ইউনিয়নের নাগপাড়া ফাঁকা রাস্তায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে লক্ষাধিক টাকা খুঁইয়েছেন। সেসময় আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মনোবল হারান নি তিনি। আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন আজাহার আলী। বর্তমানে তিনি খামার থেকে সাতশ চল্লিশ টাকা শ দরে ডিম ক্রয় করে তা আটশ টাকা শ দরে বিক্রি করছেন বলে জানিয়েছেন। এলাকায় তিনি ডিম বিক্রেতা হিসেবে সুনামের সঙ্গে ধরে রেখেছেন ওই পেশা। একজন সৎ ব্যবসায়ী হিসেবে এই পেশা ধরে রাখতে চান তিনি।