ডেঙ্গুর প্রকোপ II সার্বক্ষণিক মশা নিধন কার্যক্রম প্রয়োজন

আপডেট: নভেম্বর ২৫, ২০২৩, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

 

একটা সময় ডেঙ্গুকে বলা হতো গ্রীষ্ম মৌসুমের রোগ। তবে বর্তমানে সারা বছরই ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকছে। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা ধরণা করছিলেন, শীত আসলে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমবে। কিন্তু ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমশই দীর্ঘয়িত ও ভয়ংকর হচ্ছে। রাজশাহীতে শনিবার (২৪ নভেম্বর) ২৪ ঘণ্টায় ৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বাড়তি রোগীর চাপ সমলাতে এখনো হিমশিম খেতে হচ্ছে। এরমধ্যে চলছে চিকিৎসা সামগ্রীর কৃত্রিম সংকট। এতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সুতরাং রোগাক্রান্ত হওয়ার আগেই প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান উপায় মশা নিধন কার্যক্রমে কঠোর নজরদারি থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সার্বক্ষণিক মশা নিধন কার্যক্রম একান্তই জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেড় হাজারের অধিক ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। শুরুতে রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা গেলেও এখন সারা দেশেই প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে সিংহভাগ রোগীই ঢাকার বাইরের। এরমধ্যে অন্যতম অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থা নিলে এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ এতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করত না। এক্ষেত্রে যারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত। এছাড়া ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি বা গাফিলতি রয়েছে কি না? তাও খতিয়ে দেখা জরুরি। কেননা দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার এখন সবচেয়ে বেশি। ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে স্যালাইনের কৃত্রিম সংকটসহ কিছু অব্যবস্থার অভিযোগও উঠেছে। এসব দিকেও দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।
ডেঙ্গু রোগ এডিস মশার মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে। রাজশাহীর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও এ মশার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় নি। যা খুবই উদ্বিগ্নের। ডেঙ্গুকে এখন সারা বছরের রোগ বিবেচনা করেই এডিস মশা ও এ রোগ নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।
এডিস মশা প্রতিকূল জলবায়ুর সঙ্গেও টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জন করতে শুরু করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেও এ প্রজাতির মশার উৎপাত বেড়েছে। এ বিষয়গুলো মাথায় রেখেই সংশ্লিষ্টদের মশা নিধন কার্যক্রম চালাতে হবে। মশা নিধনের ওষুধ নির্ধারণ করতে হবে অবশ্যই কীটতত্ত্ববীদদের পরামর্শ অনুযায়ী। ওষুধ ক্রয়ে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না হয়, তাও কঠোরভাবে মনিটরিং করতে হবে। ওষুধ ছিটাতে হবে বছরজুড়ে এবং তা সর্বত্র ও সমানভাবে। এর পাশাপাশি এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়। সুতরাং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে ডেঙ্গু মোকাবিলা করতে হবে।