ড. রেজাউল হত্যা ছয় মাসেও চার্জশিট না দেয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হতাশা

আপডেট: অক্টোবর ২৩, ২০১৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ


রাবি প্রতিবেদক
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যার ছয় মাসেও চার্জশিট জমা দিতে পারে নি পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এসে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, পররাষ্ট্রপতিমন্ত্রী ও পুলিশের মহাপরিদর্শক। কিন্তু ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশ চার্জশিট দাখিল করতে না পারায় হতাশা প্রকাশ করেছেন পরিবার ও বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তবে পুলিশ বলছে, তদন্তে ভালো অগ্রগতি হয়েছে। যথাসময়ে চার্জশিট দেয়া হবে।
অধ্যাপক রেজাউলের মেয়ে রেজওয়ানা হাসিন শতভি বলেন, ‘শুনেছি মূল আসামি নাকি দেশে নেই, ভারতে পালিয়েছে। তাকে ধরার জন্য আমাদের এখানে কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে কিনা? ছয়মাসেও চার্জশিট জমা না দেওয়ায় আমি ও আমার পরিবার হতাশ হয়ে পড়ছি।’
দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরুর দাবি জানিয়ে বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. শহীদুল্লাহ্ বলেন, ‘হত্যাকা-ের ছয়মাস অতিবাহিত হলেও তদন্তে তেমন কোনও সন্তোষজনক অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি না। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত চার্জশিট জমা দিয়ে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা হোক। আমরা আর কোন শিক্ষককে হারাতে চাইনা।’
ইংরেজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মাসউদ আখতার বলেন, ‘রেজাউল স্যারের হত্যাকা-ের ছয়মাস পেরিয়ে যাচ্ছে, এই ছয়মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আন্দোলন করেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তে কিছু অগ্রগতি হয়েছে জানানো হলেও এখনো চার্জশিট জমা দেওয়া হয়নি।’
এদিকে, ড. রেজাউল হত্যা মামলার চারজন আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সময় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এদের মধ্যে রাজশাহীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক হাসান, ঢাকার কাশলীতে তারেক হাসান নিলু ওরফে ওসমান ও সুলতান মাহমুদ ওরফে কামাল এবং বগুড়ার শেরপুরে রিপন। এছাড়া ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে হাফিজুর নামে এক শিবিরকর্মী পুলিশ হেফাজতে ‘অসুস্থ’ হয়ে মারা যায়। গ্রেফতারকৃতদের চারজন অভিযোগ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে বলেও জানা যায়। ১৬ মে জেএমবি সদস্য মাসকাওয়াত হাসান সাকিব এবং ২২ মে আব্দুস সাত্তার ও তার ছেলে রিপন আলী জবানবন্দি দেয়। অন্য একজনের নাম জানা যায়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজশাহী মহানগর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক রেজাউস সাদিক বলেন, ‘আমরা প্রায় শতভাগ কাজ শেষ করে ফেলেছি। খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমরা অভিযোগপত্র জমা দিতে পারবো বলে আশা করছি।’
এদিকে অধ্যাপক রেজাউল হত্যার ছয় মাস পূর্তিতে ক্যাম্পাসে মৌন মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহীদুল্লাহ কলাভবনের সামনে থেকে একটি মিছিল বের করে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ‘মুকুল প্রতিবাদ ও সংহতি মঞ্চে’ এসে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগপত্র না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
গত ২৩ এপ্রিল অধ্যাপক রেজাউলকে নিজ বাসার পাশেই গলাকেটে হত্যা করা হয়। ওই দিন বিকেলে অধ্যাপকের ছেলে রিয়াসাত ইমতিয়াজ সৌরভ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের নামে নগরীর বোয়ালিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ