ঢাকনাহীন ড্রেন, আতঙ্কে নগরবাসী

আপডেট: মার্চ ১২, ২০১৭, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন রাস্তার পাশের ড্রেনগুলোর ঢাকনা ভেঙে পড়েছে। কিন্তু সেগুলো সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই কারও। অথচ এই ঢাকনাহীন ড্রেনের কারণে ঘটছে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা। ফলে আতঙ্কিত পথচারী। এ অবস্থায় জনস্বার্থে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) ও রাজশাহী ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যুয়ারেজ অথরিটির (ওয়াসা) বিরুদ্ধে মামলা করেছেন আদালতের একজন বিচারক।
গতকাল শনিবার নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার ধারে ফুটপাতে ড্রেনের ঢাকনা ভেঙে পড়েছে। এতে ওই ড্রেনের মধ্যে বিভিন্ন আবর্জনা গিয়ে মিশছে। অকেজো হয়ে পড়ছে ড্রেনের পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা। অনেক সময় ময়লা-আবর্জনা গিয়ে মেশার কারণে ড্রেনের পানির নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে একটু বৃষ্টি হলেই নগরীর অনেক অঞ্চল জলমগ্ন হয়ে পড়ে।
নগরীর গ্রেটার রোড এলাকার বাসিন্দা শরিফ আহমেদ বলেন, ড্রেনের ঢাকনা না থাকার কারণে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে। ছেলেমেয়ে সাথে থাকলে আর ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়া হয় না। বর্ষাকাল এলে পরিস্থিতি আরো ভয়ানক দাঁড়ায়। ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমার কারণে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
সিপাইপাড়া এলাকার বাসিন্দা তাহমিদ আহমেদ বলেন, ড্রেনের ঢাকনা না থাকার কারণে অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। অথচ কর্তৃপক্ষের কোনো গুরুত্ব নেই। মাসের পর মাস ঢাকনাবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকে ড্রেনগুলো কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো গুরুত্ব দেয় না। রাজশাহী মেডিকেলের হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে বহির্বিভাগ পর্যন্ত রাস্তার ধারের ফুটপাতে অনেক জায়গায় ড্রেনে ঢাকনা নেই।
এর প্রেক্ষিতে গত বুধবার রাজশাহীর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক জাহিদুল ইসলাম নিজের আদালতেই এ ফৌজদারি মিস মামলা দায়ের করেন। মামলায় রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলী, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে বিবাদি করা হয়েছে।
মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, ঢাকনা ভেঙে পড়ে রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন রাস্তার ফুটপাতগুলো পায়ে হেঁটে চলার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। বেশ কিছু ড্রেনে ঢাকনা নেই, আবার কিছু ঢাকনা ভাঙা অবস্থায় আছে। বাদির আশঙ্কা, এসব স্থানে যে কোন সময় পথচারী বা শিশুরা পড়ে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। এর দায় কোনোভাবেই বিবাদিরা এড়াতে পারেন না।
তাই বিবাদিদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামি ২০ মার্চ তাদেরকে সশরীরে কিংবা প্রতিনিধির মাধ্যমে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আদেশের এই অনুলিপি ১৫ মার্চের মধ্যে বিবাদিদের ওপর জারি করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মামলার আরজিতে শিশু জিহাদের বিষয় তুলে ধরে বলা হয়, ঢাকার কমলাপুরে নির্মাণাধীন একটি ভবনের পাশে খোলা পাইপের ভিতর পড়ে শিশু জিহাদের মৃত্যু হয়। এই দুর্ঘটনার কারণে দায়িত্বে অবহেলার অপরাধে পেনাল কোডের ৩০৪ ধারার দ্বিতীয় অংশ অনুযায়ী বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার সাজা হয়েছে। কাজেই উল্লিখিত অবস্থা রোধে বিবাদিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, আদালত কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। তবে ড্রেনে ঢাকনা বসানোর প্রস্তুতি আগে থেকেই নেওয়া হয়েছিল। আজ রোববার থেকে ড্রেনে ঢাকনা বসানো হবে।