ঢাকায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে রসুনের দাম

আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০১৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক
গত এক মাস ধরে কমছেই না রসুনের দাম। ক্রমেই ক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেশি ও বিদেশি সব ধরনের রসুনের দাম। গত এক মাসের ব্যবধানে কেজিতে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেড়েছে রসুনের দাম।
শুক্রবার রাজধানীর জিগাতলা, নিউমার্কেট কাঁচাবাজারসহ কয়েকটি বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, নতুন রসুনের আশায় আমদানি কমেছে। যার কারণে দাম বেড়েছে। এ ছাড়া চীনে রসুনের দাম বেশি থাকায় আমদানি কমার একটি বড় কারণ। দেশি পুরোনো রসুনের মৌসুম এখন প্রায় শেষ। আর সব নতুন রসুন উঠতে আরো সময় লাগবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাইকারি বাজারের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর খুচরা বাজারে। পাইকারদের কাছ থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি চীনা রসুন কিনতে হচ্ছে ১৮২ টাকা। আর বিক্রি করা হচ্ছে ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা। আর দেশি রসুন পাইকারি কিনতে হচ্ছে ১৪০ টাকা কেজি। খুচরা বিক্রি করা হচ্ছে ১৫০ টাকা।
আমদানিকারক ও পাইকারেরা কারসাজি করে এখন রসুনের দাম বাড়িয়েছেন এমন ধারণা রয়েছে অনেক খুচরা বিক্রেতাদের। তারা বলেন, এক মাস আগে যে রসুনের পাইকারি দাম ছিল প্রকারভেদে ১০০-১৫০ টাকা, সে রসুন এখন ১৪০-১৮২ টাকায় কিনতে হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, ‘বাজারে দেশি রসুনের মজুদ কম। বিদেশি রসুন বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলেই দাম বেশি। তবে চলতি মাসের শেষের দিকে নতুন রসুন এলে দাম কমে আসবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা নাটোর, ফরিদপুর ও পাবনার রসুন বেশি বিক্রি করি। চীনে রসুনের দাম বাড়ায় দেশের রসুনেরও দাম বেড়েছে।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত মাসে পাইকারি বাজারের দেশি রসুনের মণ ছিল ৪ হাজার টাকা। আর ভালো মানের (আকারে বড়) রসুনের মণ ৪ হাজার ৪০০ টাকা। এক মাসের ব্যবধানে দেশি রসুনের মণপ্রতি দাম হয়েছে ৫ হাজার ৬০০ থেকে। যা ১ হাজার ২০০ টাকার মতো বেড়েছে।
এ ছাড়া এক মাস আগে আমদানি করা চীনা রসুনের বস্তা (২০ কেজি থাকে) ছিল ২ হাজার ৮০০ টাকা। যা বর্তমান দাম ৩ হাজার ৬৪০ টাকা।
রসুনের দাম বাড়ার কারণ ব্যাখ্যায় নিউমার্কেটের পাইকারি ব্যবসায়ী হারুন মোল্লা বলেন, ‘এখন দেশি পুরাতন রসুনের মৌসুম শেষ। নতুন মাল আসতে শুরু করেছে। তবে বাজারে এর প্রভাব পড়তে সময় লাগবে। কারণ, নতুন রসুন ওজনে কম ধরে। অন্যদিকে খুব দ্রুত পচে যায়। খুচরা দোকানিরা ঘাটতির ভয়ে এ রসুন দোকানে রাখে না।’
জিগাতলার ব্যবসায়ী ইলিয়াস আলী বলেন, ‘গত সপ্তাহে চায়না রসুন ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছি। আজ (শুক্রবার) এর দাম আরো বেড়ে হয়েছে ১৯০ টাকা। পাইকারদের কাছে শুনেছি চীনে হঠাৎ করে রসুনের দাম বাড়ার ফলে তাদের নাকি বেশি দামে আমদানি করতে হচ্ছে। তাই এর দাম বেড়েছে। রাইজিংবিডি

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ