ঢাকায় রাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, বিচারের দাবিতে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২, ৮:০৬ অপরাহ্ণ

ছন্দা রায়

রাবি প্রতিবেদক


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ ঢাকার মুগদা এলাকা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় রাবি ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে তার বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

ওই শিক্ষার্থীর নাম ছন্দা রায়। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলায়। তিনি তার স্বামীর সঙ্গে ঢাকার মুগদায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

ছন্দার মেজ বোন দ্বীপা রায় বলেন, তিন মাস আগে পছন্দের ছেলের সঙ্গে তাকে বিয়ে দেই। তার স্বামী উত্তম কুমার বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-পরিচালক হিসেবে কর্মরত। চাকরি সূত্রে স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় থাকতো আমার বোন। সোমবার বিকেলে নিজ রুমের ফ্যানের রডের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও বলেন, আমার বোন মৃত্যুর আগে একটি সুইসাইড নোট লিখে গেছে। তাতে লিখা ছিল- আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমি তার হাতের লেখার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছি এটা ওরই হাতের লেখা।

ছন্দা রায়ের স্বামী উত্তম কুমার রায় বলেন, আমি অফিস থেকে দুপুরে ছন্দাকে বারবার ফোন দিচ্ছিলাম। কিন্তু সে রেসপন্স করেনি। বিকেলে এসে দেখি দরজা ভেতর থেকে আটকানো। বারবার বলার পরও দরজা খুলছিল না। আমি বাসার কেয়ারটেকারকে নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখি আমার স্ত্রী সুইসাইড করেছে।

এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. ফরিদ উদ্দীন খান বলেন, মৃত্যুর খবরটি আমরা মেনে নিতে পারছি না। তিন মাস হলো মাত্র বিয়ে হয়েছে। এরই মধ্যে সে আত্মহত্যা করেছে। কী এমন হয়েছে তার সঙ্গে জানি না। তার মৃত্যুর জন্য সমাজ, পরিবার ও তার স্বামী দায়ী। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচারের দাবি জানাই।

রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় সংলগ্ন মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম তুহীন বলেন, ঢাকার মুগদা থানা এলাকায় এই ঘটনা। তাই সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তারা দেখভাল করছে।

ঢাকার মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন মীর বলেন, ছন্দার আত্মহত্যার বিষয়ে ফোন পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে আমরা ঝুলন্ত অবস্থায় ছন্দার লাশ উদ্ধার করি। সেখানে একটি চিরকুটে লেখা ‘আমার মৃত্যুর জন্য আমি দায়ী।’

মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন মীর আরও বলেন, একটি ইউডি মামলার এজাহার দিয়েছে নিহতের পরিবার। আমরা মামলা নথিভুক্ত করেছি। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা সেটা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখলে হয়তো বলা যাবে। ইতোমধ্যে আমরা ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি মর্গে পাঠিয়েছি। আশাকরি দ্রুত রিপোর্ট আমাদের হাতে আসবে।

এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী ছন্দা রায়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সহপাঠীরা। মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে মানববন্ধন থেকে তাঁরা এই দাবি জানান।

কর্মসূচিতে বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে আত্মহত্যার পরিসংখ্যান অনুসারে দেখতে পাই, ছন্দার বয়সে এ রকম সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো নয়। সে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেছে। তাঁর অর্থনৈতিক অবস্থাও খুব একটা খারাপ ছিল না। এ অবস্থায় সদ্য বিয়ে করা একটা মেয়ে কোনো অবস্থাতেই আত্মহত্যা করতে পারে না। এটাকে আত্মহত্যা আমরা বলতে পারি না। নিশ্চয়ই এর পেছনে অনেক গভীর কোনো ঘটনা লুকিয়ে আছে। তাই আমরা চাই এর সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং যাঁরাই এর পেছনে জড়িত তাঁদের সর্বোচ্চ বিচার আমরা আশা করছি।’

ছন্দার সহপাঠী আরিফা আক্তার বলেন, সে খুবই হাসিখুশি একটা মেয়ে ছিল। বিয়ের মাত্র আড়াই মাসে এমন একটা সিদ্ধান্ত নিল, তা আমাদের মানতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। সে নিশ্চয়ই কোনো মানসিক কষ্টে ছিল, এ জন্য এত বড় একটা পদক্ষেপ নিয়েছে। তাই আমরা চাই যে বিষয়টার সুষ্ঠু তদন্ত হোক।

মানববন্ধনে ছন্দা রায়ের সহপাঠী জাবেদুল ইসলামের সঞ্চালনায় ছন্দার সহপাঠী ও বিভাগের অন্য শিক্ষার্থীরা বক্তব্য দেন। কর্মসূচিতে বিভাগের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ও সহপাঠী উপস্থিত ছিলেন।

ছন্দা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। চলতি বছরের মার্চে তিনি স্নাতকোত্তর পরীক্ষা শেষ করেছেন। এখনো পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। গত ৮ জুলাই ছন্দার সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপপরিচালক উত্তম কুমারের বিয়ে হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ