ঢাকের তালে মণ্ডপে উঠলো দেবী

আপডেট: অক্টোবর ৫, ২০১৯, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


নগরীতে মণ্ডপে উঠেছে প্রতিমা-সোনার দেশ

গতকাল শুক্রবার সন্ধায় উৎসবমুখর আয়োজনে মণ্ডপে তোলা হয়েছে প্রতিমা। এর মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব। রং তুলির আঁচড়ে সেজেছে দুর্গা, লক্ষ্মী, স্বরসতী, গনেশ, কার্তিকসহ বিভিন্ন পশুর মূর্তি। বর্ণিল সাজে বৈচিত্রময় প্রতিটি মন্ডপ। ঢাক-ঢোল, খোল করতাল, সুগন্ধী আর আগরবাতির সমন্বয়ে এক অন্য রকম পরিবেশ। ‘বল হরি, হরি বল’ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে প্রতিটি মণ্ডপে।
এমন আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়ে প্রতিটি মণ্ডপে ঢেকে রাখা প্রতিমার চাদর সরানো হয়। বিভিন্ন পদের ফল-ফলাদির ভোগ দিয়ে বরণ করা হয় দেবীকে। প্রতিটি মণ্ডপে সন্ধ্যার পরে বসানো হয় ষষ্ঠীর ঘট। মন্ত্রে মন্ত্রে পুরোহিত শুরু করেন ষষ্ঠীপূজার আচার। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাসে প্রতিটি মূর্তির রয়েছে আলাদা বিশেষত্ব, আলাদা বৈশিষ্ট্য। বিশেষত্ব অনুযায়ী একেক মণ্ডপে একেক রকমের প্রতিমা। যেমন লক্ষ¥ী, সমৃদ্ধি, বিকাশ, ধনৈশ্বর্যের ও অভ্যুদয়ের প্রতীক। গণেশ কার্যসিদ্ধির দেবতা। হিন্দু পুরাণের নিয়মানুসারে অন্যান্য দেবতার আগে গণেশের পূজা করতে হয়।
মহিষাসুর অসুর বা দেবদ্রোহী। তাই দেবী প্রতিমার পদতলে দলিত এই অসুর ‘সু’এবং ‘কু’ এর মধ্যকার চিরকালিন দ্বন্দ্বে অশুভ শক্তির উপর শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক। দুর্গার ‘দ’ অক্ষরে দৈত্যনাশক, উ-কার বিঘ্ননাশক, রেফ রোগনাশক, ‘গ’ অক্ষরে পাপনাশক ও অ-কার শত্রু নাশক বোঝানো হয়। অর্থাৎ দুর্গ নামক অ’সুরকে যিনি বধ করেন তিনিই নিত্য দূর্গা। এবং সরস্বতী জ্ঞানশক্তির প্রতীক। তাই অশুভ শক্তির অবসান ঘটিয়ে শুভ শক্তির জয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে পূজা। মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে করছেন প্রার্থনা। দেবী দূর্গার কছে চাইছেন বর।
সার্বজনীন উৎসব হিসেবে নানা আনুষ্ঠানিকতা পালন করছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। সন্ধ্যার আগেই ভোগ নিয়ে অনেকেই ছুটেছেন মণ্ডপে। নারীরা ব্যস্ত ভোগ সাজাতে।
নগরীর কুমারপাড়ার যুথী সেন বলেন, আজ (শুক্রবার) সন্ধ্যায় মা কে থানে (মণ্ডপ) তোলা হবে। ঢাকের তালে তালে উৎসবমুখর পরিবেশে মা কে ফলের ভোগ দিয়ে বরণ করা হবে। আমাদের মন্দির প্রস্তুত কিছুক্ষণ পর পুরোহিত এসে মায়ের চাদর সরাবেন। এখন ঢাক বাজানো হচ্ছে, সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতি করা হবে। সবাই একসাথে হবো, পুজা করবো তাই ভালোই লাগছে।
প্রবীণ অনিমা সেন বলেন, আজকে ষষ্ঠী; সন্ধ্যার পর ষষ্ঠীর ঘট বসিয়ে আরতির মধ্যে দিয়ে পূজা করা হবে। আজকে ভোগ হিসেবে ফলফলাদি দেয়া হবে। কালকে সপ্তমীতে সকাল, দুপুর, রাতে আরতি করা হবে। সপ্তমীতে রান্না করে ভোগ দেয়া হবে। মহাঅষ্টমী, মহানবমীতেও তিনবার আরতি করা হবে। বিজয়াদশমীতে শেষ পূজা করে উৎসবের মধ্যে দিয়ে পদ্মায় প্রতিমা বিসর্জন করা হবে।
নগরীতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে দূর্গা পূজার প্রথম দিন অর্থাৎ ষষ্ঠীপূজা উৎসব মূখর পরিবেশে পালিত হয়েছে। দুর্গোৎসব উপলক্ষে মণ্ডপে রয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। সাদা পোশাকে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন পুলিশ। এছাড়া নিয়মিত টহলে রয়েছে পুলিশসহ র‌্যাবের সদস্যরা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ