ঢাবি ভিসি নিয়োগে তিয়াত্তরের লঙ্ঘন: ৩১ সিনেট সদস্য

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৭, ১:১০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের নিয়োগে ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আদেশের ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ ঘটেছে বলে অভিযোগে তুলেছেন কয়েকজন সিনেট সদস্য।
নতুন উপাচার্য নিয়োগে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটানো হয়নি বলে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের পর মঙ্গলবার বিকালে এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ তোলেন বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের ৩১ জন সদস্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহ বিবৃতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করে আসা অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন।
ভোট ছাড়াই উপাচার্য প্যানেল চূড়ান্ত করা নিয়ে সমালোচনা এবং কয়েকজন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটের করা মামলায় ওই প্যানেলের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যাওয়ার এক মাসের মাথায় সরকারের তরফ থেকে এ সিদ্ধান্ত আসে।
৩১ জন সিনেট সদস্যের বিবৃতিতে বলা হয়, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটে গৃহীত সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করে উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ-১৯৭৩ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের ওপর আঘাত এবং সিনেটকে অকার্যকর করার নানামুখী ষড়যন্ত্রের পথ সুগম হয়েছে বলে আমরা মনে করি।”
বিএনপিপন্থি সমর্থকদের বর্জন, সরকার সমর্থকদের একাংশের আপত্তি এবং শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে গত ২৯ জুলাই সিনেটের সভায় ভোট ছাড়াই উপাচার্য প্যানেল চূড়ান্ত করা হয়।
বিকল্প কোনো প্রস্তাব না থাকায় আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামাল উদ্দিন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও নীল দলের আহ্বায়ক আবদুল আজিজকে নিয়ে তিন সদস্যের প্যানেল সিনেটের অনুমোদন পায়।
নিয়ম অনুযায়ী ওই তিনজনের মধ্য থেকেই একজনকে পরবর্তী উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল রাষ্ট্রপতির। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ গত ৩ অগাস্ট ওই প্যানেলের পরবর্তী কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়।
রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্ধারণ না করেই উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের জন্য সিনেটের বিশেষ সভা ডাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্ট যে রুল দিয়েছিল, তা চার সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলে আপিল বিভাগ।
সেই আদেশে বলা হয়, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিকই উপাচার্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে যাবেন।
এ বিষয়ে আগামী ৩ অক্টোবর হাই কোর্টে শুনানির দিন নির্ধারিত রয়েছে। তার আগেই ১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশের ১১ (২) ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্যানেলের বাইরে থেকে অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানকে উপাচার্যের দায়িত্ব দিলেন।
সিনেট সদস্যদের বিবৃতিতে বলা হয়, “উপাচার্য নিয়োগের উদ্দেশ্যে গত ২৯ জুলাই সিনেট কর্তৃক তিন সদস্যের প্যানেল বিষয়ে একটি রিট আবেদন আদালতে বিচারাধীন এবং এই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক স্বপদে বহাল থাকবেন বলে উচ্চ আদালতের একটি সিদ্ধান্ত রয়েছে।
“এমতাবস্থায় অন্য একজনকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া সরকার, উচ্চ আদালত ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিব্রতকর।”
অধ্যাপক আখতারুজ্জমানের নিয়োগে বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ মঙ্গলবার তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট তিনজনের একটি প্যালেন নির্বাচন করে রাষ্ট্রপতিকে দিতে পারে। সেখান থেকে রাষ্ট্রপতি একজনকে উপাচার্য করতে পারেন, নাও করতে পারেন। বাইরে থেকেও তিনি নিয়োগ দিতে পারেন।
“রাষ্ট্রপতি আইনি ক্ষমতাবলে নিয়োগ দিয়েছেন, নিয়োগে শর্ত যা লেখা থাকে তাই লেখা হয়েছে। এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়নি।”
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ