তবুও অনীহা মাস্কে বাধ্যবাধকতাই সমাধান

আপডেট: জানুয়ারি ১৭, ২০২২, ৫:৩১ অপরাহ্ণ

করোনা ভাইরাস সংক্রমণে রাজশাহী ইয়োলো জোনে থাকলেও যে দ্রুততার সাথে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে তাতে স্বস্তির অবস্থান অচিরেই পাল্টে যাবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করতে যে ধরনের সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োাজন ছিল তা মানুষের মধ্যে অনুপস্থিত। রাজশাহী মহানগরীর সর্বত্রই স্বাস্থ্য সুরক্ষা মানার কোনো আগ্রহই মানুষের মধ্যে লক্ষ করা যাচ্ছে না। সরকারের ১১ দফার বাধ্যবাধকতা শুরু থেকে রোববার পর্যন্ত চারদিন অতিবাহিত হয়েছে কিন্তু সরকারি বাধ্যবাধকতা পালনের কোনো গরজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এই প্রবণতাই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়িয়ে দিয়েছে। শেষ পরিণতি লকডাউনের দিকেই যাচ্ছে- এমন আশংকা করা অযৌক্তিক হবে না। উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে লাগাম দিতে প্রশাসনের ভূমিকা এই মুহূর্তে প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজশাহী মহানগরীর ছোট যানবাহনগুলোর চালকদের প্রায় সকলেই মাস্ক ব্যবহার করছেন না। তাদের যানে যে সব যাত্রী পরিবহণ হচ্ছে তাদের অধিকাংশেরই মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে না। করোনা ভাইরাস দ্রুত সংক্রমণ ছড়াতে এই পরিস্থিতি বেশ সহায়ক তা বলাই বাহুল্য। ওই প্রতিবেদনে চকিত জরিপ-তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, নগরীর সিএন্ডবি মোড়ে প্রায় ১ ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ গাড়িতেই যাত্রী ও চালক কেউ মাস্ক পরেন নি। এখানে গণনায় প্রায় ৬শো রিকশা চালকের মধ্যে ৩৪৮ জন রিকশা চালক মাস্ক ছাড়ায় চলাফেরা করছেন। এছাড়া বাকি ২৫২ জনের মধ্যে ১৭৫ জনের কাছে মাস্ক থাকলেও তা ছিলো হাতে অথবা থুতনিতে। প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে, লক্ষীপুর মোড়েও। এখানে গণনায় প্রতিনিধিত্বকারী ৬শোর মধ্যে ৪২০ জনকে মাস্ক ছাড়াই চলাচল করতে দেখা গেছে। বাকি ১৮০ জনের মধ্যে ৯৭ জনের কাছে মাস্ক থাকলেও তা সঠিক নিয়মে পরেন নি। অন্যান্য যানবাহনের চালকদের ক্ষেত্রে একই অবস্থা বিরাজ করছে।
করোনা ভাইরাসের লাগাম টেনে ধরার জন্য সরকারের ১১ দফা বাধ্যবাধকতা মানতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জররি হয়ে পড়েছে। ‘মাস্ক ছাড়া যানবাহন চলবে না- যাত্রী উঠবে না”- এমন একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছতে না পারলে পরিস্থিতি মুহূর্তেই ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। দোকানপাট- ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রেস্টুরেন্ট কিংবা অফিস সমূহে বাধ্যবাধকতার শর্ত মানাতে কালবিলম্ব করা সমীচীন হবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ