তবুও বেতন নিবেন না মমতা

আপডেট: মার্চ ১২, ২০১৭, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



দেশের সবচেয়ে কম বেতনের মুখ্যমন্ত্রী তিনি৷ মাত্র সাড়ে আট হাজার টাকা৷ যদিও একটি পয়সাও নেন না৷ শুক্রবার বিধানসভায় বিধায়কদের ভাতা বৃদ্ধির বিল পাস হওয়ায় পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেতন বেড়ে দাঁড়াল ২৭০০১ টাকা৷ এবারও তিনি নিজের সিদ্ধান্তেই অনড় থাকছেন৷ নিজের বই ও গান লেখা থেকে প্রাপ্ত রয়্যালটির টাকা দিয়েই নিজের খরচ চালিয়ে নেবেন বলে আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷
মাত্র ৫১ ভোট পেয়ে শোচনীয় হার প্রতিবাদের মুখ শর্মিলার
মমতা দীর্ঘ সময় লোকসভার সদস্য ছিলেন৷ কিন্তু কখনও বিমানে বিজনেস ক্লাসে চড়েননি৷ এখন তাঁর পেনশন পাওয়ার কথা মাসিক পঞ্চান্ন হাজার৷ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে তাও নিচ্ছেন না৷ ব্যবহার করেন না সরকারি গাড়ি৷ সরকারি অর্থ বাঁচাতে মুখ্যমন্ত্রীর কৃচ্ছ্রসাধনের কথা এদিন বিধানসভায় উল্লেখ করেন পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ বেতনসহ আনুষঙ্গিক ভাতা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর৷ সব মেলালে টাকার অঙ্কটা খারাপ নয়৷ ৮৬,৩০১ টাকা৷ কিন্তু তিনি কিছুই নেবেন না৷ পার্থবাবু বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যা করেছেন, সারা দেশে সেই নজির নেই৷”
এদিন বিধানসভায় বেতন বিল পাস হল৷ এখন মন্ত্রীরা বেতন পাবেন ২২ হাজার টাকা৷ আগে পেতেন ৭৫০০ টাকা৷ প্রতিমন্ত্রীদের বেতন ৭৩০০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াল ২১,৯০০ টাকা৷ ১১,৭০০ টাকা থেকে স্পিকারের ব্তেন বেড়ে দাঁড়াল ২৭,০০০ টাকা৷ ডেপুটি স্পিকার পাবেন ২১,৯০০ টাকা৷ মাইনে বাড়ছে বিরোধী দলনেতারও। ১০,২০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২২ হাজার টাকা৷ বিধায়কদের বেতনও বাড়ানো হল পাঁচ হাজার টাকা৷ তবে কমিটি মিটিং ও ভাতা মেলালে একজন বিধায়কের মোট বেতন ৩৮ হাজার টাকা৷ সেটার সঙ্গে যুক্ত হল আরও পাঁচ হাজার টাকা৷ মন্ত্রীরা বিধায়কদের থেকে কম পেতেন৷ এবার থেকে আর সেটা থাকবে না৷
এদিকে, বামফ্রন্ট জানিয়ে দিয়েছে তাদের কোনও বিধায়ক বর্ধিত ভাতা নেবেন না৷ জোটসঙ্গী কংগ্রেসের অবশ্য ভিন্ন্ সুর৷ তাদের সহকারী দলনেতা নেপাল মাহাতো সভার মধ্যে প্রস্তাব দেন, অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন ও আনুষঙ্গিক সুবিধা বাড়ানো হোক৷ নেপালবাবু বলেন, ‘আমরা বর্ধিত বেতন নেব৷ তবে যা বৃদ্ধি হয়েছে তা আশানুরূপ নয়৷’ বামফ্রন্টের পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী আবার উল্টো সুরে বলেন, ‘নিজেদের বেতন নিজেরাই বাড়াচ্ছি এটা হতে পারে না৷ একটি কমিটি বা কমিশন গড়ে দিক রাজ্য৷’ বিল পেশের পর নিজেদের বক্তব্য রেখেই বেরিয়ে যান বিরোধী বাম-কংগ্রেস বিধায়করা৷ পার্থবাবু বলেন, ‘সুজনবাবু ভয় পাচ্ছন দ্রুত প্রাক্তন হয়ে যাবেন বলে৷’- সংবাদ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ