তরমুজের দাম বেশি, কমেছে বিক্রি

আপডেট: এপ্রিল ১৮, ২০১৭, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


নগরীর বাজারে তরমুজের দাম বেড়েছে। ফলে বিক্রি কমেছে তরমুজের। এবছর পর্যাপ্ত পরিমাণ তরমুজ আমদানি না থাকায় বেড়েছে তরমুজের দাম। চৈত্রের অতিরিক্ত গরমে জনজীবনের ক্লান্তি দূর করতে তরমুজের গুরুত্ব রয়েছে অপরিসীম। মৌসুমী ফল হিসেবে তরমুজের প্রতি আগ্রহ থাকে ক্রেতাদের। তরমুজ ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে, গতবছরের তুলনায় এবার তরমুজের সরবরাহ কমেছে। বাজারে দুই ধরনের তরমুজ বিক্রি হচ্ছে যার একটি বাংলালিংক ও অপরটি কালো তরমুজ নামে বলা হয়।
গরম মৌসুমে মানব শরীরে পানির তৃষ্ণা দূর করতে ডাবের পানি, শসা, আনারসের পাশাপাশি তরমুজের চাহিদা ব্যাপক রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবছর তরমুজের বেচাবিক্রি অর্ধেকে নেমে এসেছে। আমদানি কম থাকায় বাজারে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে তরমুজ। এবার বড় আকারের ৫ থেকে ১০ কেজি ওজনের তরমুজ প্রতিকেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা এবং ছোট আকারের তরমুজ ৫ কেজির নিচে ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চৈত্রের প্রখর রোদে পুড়ছে দেশ। গরমে জনজীবন হয়ে ওঠেছে দুর্বিসহ। ঘরের বাইরে বের হলেই অতিরিক্ত ঘামে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন শ্রমজীবীসহ সবশ্রেণির মানুষ। নগরীর বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার ধারে বিক্রি হচ্ছে বেল, পেঁপে, লেবুর শরবত ও আখের রস। তরমুজের শরবত ও ঠাণ্ডা বরফের অন্যান্য শরবত প্রতি গ্লাসের মূল্য রাখা হচ্ছে ৫ থেকে ২০ টাকার মধ্যে। এরমধ্যে রিকশাচালক, অটোচালক ও দিনমজুর-শ্রমিকসহ পথচারীরা তৃষ্ণা মেটাতে কিংবা একটু স্বাদ নিতে ছুটে যাচ্ছেন এসব দোকানে।
নগরী শালবাগান এলাকার ব্যবসায়ী ফল ভাণ্ডারের মালিক মোশারফ হোসেন জানান, বাজারে গরমের রসালো ফল তরমুজ প্রায় শেষের দিকে। নগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ও ওলিগলির বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হচ্ছে এই ফল। সুস্বাদু এই ফলের স্বাদ নিতে অনেকেই ভিড় জমাচ্ছেন দোকানগুলোতে। তরমুজের স্বাদ আগের মতো না থাকলেও স্বাভাবিক রয়েছে।
তিনি জানান, ছোট বড় দুই ধরনের তরমুজ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এবার ৫ থেকে ১০ কেজি ওজনের তরমুজের প্রতি মণ ১ হাজার ১৫০ টাকায় এবং ৫ কেজির নিচে প্রতি মণ তরমুজ ৮শ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের তরমুজ প্রতিকেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা এবং ছোট আকারের তরমুজ ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নগরীর শালবাগান বাজারে তরমুজ ক্রেতা শেফালি বেগম বলেন, প্রচণ্ড গরমের কারণে তরমুজের চাহিদা থাকে। প্রতি বছরই অনেকগুলো তরমুজ খাওয়া হয়। গরমের দিনে তরমুজ খেতে ভালই লাগে। এভাবে গরম থাকলে তরমুজ খাওয়ার চাহিদা আরো বাড়বে। বাড়ির জন্য ৫ কেজি ওজনের তরমুজ কিনেছি। এদিকে স্বাভাবিকের তুলনায় তরমুজের দাম অনেক বেশি বলে মনে করছেন ক্রেতারা।
তরমুজ ক্রেতা শরিফুল ইসলাম ও শাহিনুল ইসলাম জানান, অন্যবারের তুলনায় এবার তরমুজের দাম বেশি। তবে স্বাদ কম মনে হচ্ছে। ১৮০ টাকায় ৬ কেজি ওজনের একটি তরমুজ কিনেছি। এই তরমুজটি আকারে খুব বেশি বড় বলা যাবে না। সে তুলনায় বাজারে দামটা অনেক বেশি মনে হচ্ছে।
এদিকে বেশি দামে বিক্রির বিষয়ে তরমুজ ব্যবসায়ীরা জানান, এবছর তরমুজের আমদানি কম। রাজশাহীতে বেশিরভাগ তরমুজ বরিশাল থেকে আমদানি করা হয়ে থাকে। সেখানকার ব্যবসায়ীদের মতে, বরিশালের তরমুজ উৎপাদন এলাকাগুলো পানিতে ডুবে গেছে। তাই এবার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে তরমুজ। গত বছর এসময় প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু এবার ব্যবসা মন্দা যাচ্ছে। এবছর প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ