তরুণদের মুক্তিযুদ্ধের ছড়া: কল্পনার শৌর্য-উল্লাস

আপডেট: ডিসেম্বর ১৫, ২০১৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ

ইলিয়াস বাবর


উত্তাল একাত্তরের মহান বিজয় আমাদের অহঙ্কারের শ্রেষ্ঠ ভিত্তি। একাত্তর পূর্বেকার আন্দোলন-সংগ্রাম, রক্ত-প্রাণ দান এ বিজয়কে করে তোলে আরো হৃদয়গ্রাহী এবং আবেগাশ্রিত। ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণ দিয়ে ধন্য হয়েছেন, কেউবা সম্মুখ যুদ্ধের অভিজ্ঞতা নিয়েÑ দেশের বাইরে থেকেও যুদ্ধের অংশিদার হয়ে। মা-বোনেরা ইজ্জত খুইয়েছেন, অকালে হারিয়েছেন স্বামী-ভাই-বাবা কিংবা প্রিয়জন। স্বাধীনতার চেতনা অবিনাশি এবং জাতিগতভাবে বেঁচে থাকার সর্বোত্তম রসদ। ফলে, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য অর্জন না করলেও, রক্ত¯œাত এ অভিজ্ঞতায় নিজেদের জারিত করার সুযোগ না পেলেও, নিয়ত দেশ গড়ায় ঢেলে দিচ্ছে নিজেদের সবটুকু। তা হচ্ছে দেশের কৃষি-শিল্প-দাপ্তরিক কিংবা দেশের বাইরে গিয়ে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে অথবা উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পর দেশে ফিরে এসে সেবাদানের মাধ্যমে ক্রমাগত স্বদেশ উন্নয়নের সড়কে সামিল হয়ে।
শিল্প-সাহিত্যে আসা তরুণেরাও গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের শৌর্য-উল্লাসে ভাসতে চায় তাদের কলম-মননে। কবি-সাহিত্যিকেরা সংবেদনশীল বলে তারা ক্রমশ ছাড়িয়ে যেতে চান কল্পনা; দেশকে দেখতে চান অনতিক্রম্য মঙ্গলময় দূরত্বে। এক্ষেত্রে পূর্বসুরি মহৎ সাহিত্যিকদের অবদান শ্রদ্ধাভরে স্বীকার্য। একজন শামসুর রাহমান যদি ‘স্বাধীনতা তুমি’ না লিখতেন, আজকের তরুণ জানতেন না কীভাবে লেখতে হয় স্বাধীনতার কবিতা; একজন আল মাহমুদ ‘একুশের কবিতা’ না লিখলে এসময়ের তরুণরা জানতেন না কীভাবে মেলাতে হয় ফাগুন মাসের আগুন; একজন নির্মলেন্দু গুণ ‘স্বাধীনতা- এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’ না লিখলে আমরা জানতাম না বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কীভাবে নিয়োজিত হতে হয় শব্দের ভেলায়। এভাবে বাংলা সাহিত্যের মহত্তম সাহিত্যিকেরা তরুণদের পথ প্রর্দশকের ভূমিকায় থাকেন সব সময়-ই। তবে বাাঙালি তথা বাংলাদেশে বসবাসকারিদের সবচেয়ে বড় সুবিধা আমরা পেয়েছি ভাষা আন্দোলন বা মুক্তিযুদ্ধের গৌরববাহী সেই সাথে শোকাকুল অভিজ্ঞান; যা আমাদের শিল্প-সাহিত্যের সব শাখাতেই আনে গতি, আনে বৈশ্বিক মানের পরিবর্তন। ফলত আজকের দিনে লিখতে আসা তরুণের প্রথম লাইন-ই হয়ে ওঠে মুক্তিযুদ্ধময়Ñ বাংলাদেশময়। গৌরবের বংশিবাদক কে না হতে চায়?
ছড়াসাহিত্যের কর্মীরা সদা তৎপর ছন্দের দ্যোতনায়, অনুপ্রাসের আকস্মিকতায়, চিত্রকল্পের সামঞ্জস্যতায় সমাজপ্রচলিত অসঙ্গতি, চলমান কুসংস্কার কিংবা ইতিহাসের রঙিন ঘুড়িটাকে ধরতে। আধুনিক কবিতার দুর্বোধ্যতা, চিত্রকল্প নির্মাণের বিমূর্ততা সাধারণ পাঠককে অনেক সময় অসহায় করে তোলে। আমপাঠক চায় নিয়মানুবর্তিতায় চলা প্রকৃতিতে মিলের ঐশ্বরিক ঐক্যের যুথবদ্ধতা। ছড়া এক্ষেত্রে সময়ের চাহিদা মেটাতে পারঙ্গম। আয়তনে খুব বড় নয়, চটুল বয়ান, মেদহীন বাহুল্যের শৈল্পিক আশ্রয় ছড়া আর কে দিতে পারে? শিশু তো বটেই সব বয়েসিদের মানস-চাহিদা ছড়া পূরণ করে যায় অতলের চোরা¯্রােতে।
হুমায়ুন আজাদ বলেন- ‘ছড়ায় অর্থ থাকে গভীর গোপনে, অনেক তলে লুকিয়ে, সে ধরা দিতে চায় না, কেননা তার অর্থটা বড় নয়।’ এই অতলান্তের স্রোত বেয়ে ছড়ার শরীর হয়ে বয়ে যায় ইতিহাসের দায়দেনা, সময়ের আগ্রহ, জাতির বীরত্বপূর্ণ অনুষঙ্গগুলো। সাহিত্যের অন্যান্য মাধ্যমের চেয়ে ছড়ায় তা এসেছে ভিন্নভাবে-সরাসরি। খ্যাতিমান ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন বলেনÑ ‘সাহিত্যের অন্যান্য মাধ্যমের তুলনায় ছড়ায় এই প্রতিফলন অত্যন্ত স্বচ্ছ। আর সে কারণেই দেখি, প্রাচীন ছড়ায় বাঁধা আছে ইতিহাস।’ মুক্তিযুদ্ধের গৌরবতিলক সবসময়ই ছড়া রচনায় পেছনে বাতিঘর হিসেবে কাজ করে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের লেখকরা তাদের লেখায় কোন না কোনভাবে এনেছেন মুক্তিযুদ্ধের অনুষঙ্গ। এক্ষেত্রে কবি রাশেদ রউফ-র উক্তি প্রণিধানযোগ্যÑ ‘বাংলাদেশের ছড়ায় প্রতিফলিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় নানা আখ্যান, ধ্বনিত হয়েছে শৌর্য-বীর্যের প্রদীপ্ত অহংকার, উন্মোচিত হয়েছে বাঙালি জাতির স্বরূপ-চেতনা।’ উপর্যুক্ত বক্তব্যের সত্যতা আমরা নিচের ছড়াগুলোয় অবশ্যই দেখবো। এখানে উল্লেখ্য, এ প্রজন্মের ছড়াসাহিত্যিকদের ভাবনা বর্তমান দেশীয় প্রেক্ষাপট ইত্যাদির সাথে পূর্বাপর যুদ্ধকালীন ছড়াশিল্পীদের ভাবনা তৎসময়ের বাস্তবতা ইত্যাদির সাথে অমিল লক্ষণীয়। তবুও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে প্রবাহমান আজও, ভবিষ্যতের জন্যেও।
লাল-সবুজের পতাকার লাল টুকটুকে সূর্যটা শহীদদের পবিত্র রক্তে পাওয়া। সুতারাং শহীদদের রক্তই খাঁটি এবং পবিত্র। এসময়ের তরুণ তুর্কির ছড়ায় দেখা যাক-
লাল সবুজের ঐ পতাকা
রক্ত দিয়ে ঘেরা
মুক্তিসেনার রক্ত খাঁটি
সবার চেয়ে সেরা। ‘শহীদ স্মৃতির বন্দনা’: সোহেল বীর
যে বীর যাবতীয় সামাজিক লাভালাভ পেছনে ফেলে, লোভের ফাঁদে পা না দিয়ে বরণ করে যন্ত্রণা; প্রাণপ্রিয় স্ত্রী সন্তান কিংবা আদরের ভাই-বোন বিপদের মুখে রেখে গ্রহণ করেন বিজয়ের শপথÑ তাঁদের জন্য সবটুকু শ্রদ্ধা ঝরে তরুণদের ছড়ায়। হৃদয়ের কুটিরে জমা থাকে ভালোবাসা। যেমনÑ
যে বীরেরা দেশের জন্য
হাসতে হাসতে মরে
তাদের প্রতি শ্রদ্ধা-স্যালুট
জমা হৃদয় ভরে। ‘মুুক্তিযুদ্ধের ছড়া’: মোল্লা আল আমিন
এ স্বপ্নের বীজ কে ছড়ালো? কে তর্জনি উঁচিয়ে ডাক দিয়ে গেল তন্দ্রাহত লোকালয়ে? এমনিতেই কি কেউ জেগে ওঠে? এ পৃথিবীর যাবতীয় বিস্ময় বুকে নিয়ে একজন শুনিয়ে যায়- স্বাধীনতার কথা। তার ডাকে বাঙালি পায় শক্তি-সাহস। ছড়ায় দেখা যায়-
একটি পাখি ডাক দিয়ে যায়
একাত্তুরে
শৃংখল ভাঙ্গার গান শুনিয়ে
রাত দুপুরে।
সেই পাখিটির ডাক শুনে সব
বীর সেনানি
গর্জে উঠো বললো তারা
মরতে জানি। ‘মুক্ত আকাশ’: রাজীব রাহুল
সেই সুরামাখা ডাকে বাঙালি পায় দিশা। জীবনকে তুচ্ছ করে ঝাঁপিয়ে পড়ে শত্রুমুখে। অস্ত্রহীন তো কী হয়েছে? দৃঢ় মনোবল আর অকৃত্রিম দেশপ্রেম খালি হাতের বাঙালি অস্ত্র সজ্জিত হানাদারদের হটিয়ে রচনা করে নতুন ইতিহাস। ছড়ার ছন্দে দেখি, নাছির বিন ইব্রাহিম ‘লাল সবুজের বাংলাদেশ’ ছড়ায় বলেন, ‘তুচ্ছ করে নিজের জীবন রক্তকে দেয় ঢেলে/ দুশমনের সঙ্গে কারা খালি হাতেই খেলে!’
সবার আগে দেশ। স্বাধীন দেশের শপথে কঠিন মনোবলে আর সবকিছুকে শূন্যজ্ঞান করে কীভাবে গিয়েছিলেন মুক্তিসেনা কিংবা কল্পনাবিলাসি কবি? ঘরের শত্রু বিভীষণদের আচরণ ছিল ঘৃণ্য। চূড়ান্তভাবে মানবসত্ত্বার বিকৃত উল্লাস। কল্পনার ভেলায় দেখা যায়Ñ
যখন আমি মধুপুরের বনে
মা মাটি দেশ সঙ্গে আছে শপথ মনে
ঘরের শত্রু দিচ্ছে হানা ভয়ের পরিবেশ
মরণজয়ী হবো আমি সবার আগে দেশ। ‘যুদ্ধ দিনের কথা’: আখতারুল ইসলাম
বিজয় এসেছে কিন্তু সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক সফলতা কাঙ্খিতভাবে আসেনি। পঁচাত্তুরে জাতির জনকের নৃশংসভাবে খুন হওয়া দেশটাকে নিয়ে যায় ভিন্ন দিকে। যাঁর ডাকে উদ্বেলিত একটি জাতি, তাঁর কেন এমন পরিণতি? তাঁর উদারতার সুযোগে স্বাধীনতা যুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি তথা এদেশীয় কুলাঙ্গারদের অপতৎপরতা রয়েছে চলকের ভূমিকায়। ছড়ায় কখনো আসে তা সরাসরি, কখনো ইশারা-ইঙ্গিতে। নিচের ছড়ায় যেমনটা আঁকা-
সেদিন যদি হতো তোদের
ধ্বংস অবশেষ
আজ থাকতো ভালো আমার
প্রিয় বাংলাদেশ।
মারবো ছুড়ো ঘৃণার বুলেট
যদি থাকে লাজ
দুর হয়ে যা পাকিস্থানে
বাংলা ছেড়ে আজ। ‘ঘৃণার বুলেট’: অভিলাষ মাহমুদ
তবুও থেকে যায় পরাজিতদের আত্মা। সময়-অসময়ে ভর করে তাদের মুখোশ। হতাশা বেড়ে যায় জনজীবনে। তরুণ ছড়াকর্মী তাই নিরুপায় প্রশ্ন তোলেনÑ
ডিসেম্বরে ষোলয় এসে
খুলল তালা, খুলল কি?
পাকের মতো বাংলাতে আজ
চলছে কেন উল্লুকি! ‘তালা’: শাহাদাৎ শাহেদ
বিভীষিকাময় সে পর্ব শেষে আমরা পাই বাংলাদেশ। স্বাধীন স্বদেশ। বিজয় নামের সে কাঙ্খিত সোনার হরিণ। সে বিজয় কী রকম; কী রূপ? ছড়ায় শোনা যাকÑ
বিজয় আমার শীতল হাওয়ায় লাল সবুজের চাদর
বিজয় আমার মায়ের বুকে ¯িœগ্ধ কোমল আদর
বিজয় আমার সাগর জলে সচ্ছ জলের ধারা
বিজয় আমার ফুটন্ত ফুল আলোকবর্ষি তারা। ‘বিজয় আমার’: আহমেদ পলাশ
বিজয়কে চিহ্নিত করতে তরুণ ছড়াকর্মীরা নিয়ে আসেন চেনা-অচেনা নানা উপমা। কখনো তা রবীন্দ্রনাথ-নজরুলে, কখনো জয়নুল-হাশেম খানের তুলিতে; বঙ্গবন্ধু তো আছেন-ই! আর নিজের সত্ত্বায় মিলমিশ করে ছড়ায় বলেনÑ
বিজয় আমার হৃদাকাশে ঝলমলে এক রবি
বিজয় আমার লক্ষ ফুলের অঙ্কিত এক ছবি।
বিজয় আমার ভোর বিহানে পাখির কলতান
বিজয় আমার দামাল ছেলের মহৎ অবদান। ‘বিজয়’: মিজান মনির
বিজয়ের গৌরবস্মারক হয়ে আমাদের মুক্ত আকাশে ওড়ে লাল-সবুজের পতাকা। এই পতাকা জাতির প্রতিনিধি হয়ে যায় জাতিসংঘের দপ্তরে, হিমালয়ের চূড়ায় কিংবা খেলার মাঠে। এ মহৎ প্রাপ্তিতে আমাদের ছড়াকর্মীরা অর্বননীয় সুখ-অনুভবে ভাসেন ছড়ায়:
এই পতাকা বিজয় গাঁথা
সবার অহঙ্কার
এই পতাকা বীর বাঙালির
শ্রেষ্ঠ উপহার।
এই পতাকা পদ্মা-মেঘনা
হাজার নদীর দেশ
এই পতাকা শোষণমুক্ত
স্বাধীন বাংলাদেশ। ‘এই পতাকা লাল সবুজের’: আল জাবিরী
বিজয়ের শিক্ষা এগিয়ে যাওয়ার। বরাবরই এদেশের উপর ছিল জাতীয় এবং আর্ন্তজাতিক চক্রান্তের নীল নকশা। এতে তেল-জল দিয়ে যায় দেশিয় অর্বাচিনেরা। তবুও স্বাধীনতার সবক মনে জাগিয়ে দেন ছড়ায়-
স্বাধীনতা রক্তে কেনা
রাখবো সবাই ধরে
ভুলে গিয়ে দ্বন্দ্ব সকল
থাকব স্বাধীন ঘরে। ‘স্বাধীনতা’: হাওলাদার সিরাজ
প্রতিবারই স্বাধনিতার মাস আসে আমেজ আর হুজুগে বাঙালিরা জেগে ওঠে মেকি চেতনাচর্চায়। দেশপ্রেম সব সময়ের জন্য, সব কালের জন্য। তবুও উত্তাল মার্চ মনে করিয়ে দেয় আগুনমাখা দিনের কথাÑ
স্বাধীনতার মাসে
লাল সবুজের নিশান হাতে
ফুলকলিরা হাসে।
স্বাধীনতার মাসে
মুজিবুরের কণ্ঠ বাজে
তারুণ্যের উল্লাসে। ‘স্বাধীনতার মাসে’: শামীম খান যুবরাজ
ছড়ার আবেদন সার্বজনীন। ছড়াশিল্পীর নিপুণতায় কোন কোন ছড়া হয়ে ওঠে একেকটি সময়-পরিক্রমার ল্যাম্পপোস্ট। তা সম্ভব হয় ছড়ার সহজবোধ্যতা, ইতিহাসময়তা, ছন্দের কারুকাজ কিংবা শব্দ নির্বাচনে হৃদয়তার কল্যাণে। মুক্তিযুদ্ধের একেকটা দিক নিয়ে রচনা হয়েছে এবং হচ্ছে অনেক অনেক ছড়া। এ প্রয়াস সম্পর্কে ড. আহমেদ মাওলা বলেন, ‘ফুল, পাখি, নদী, সবুজ ঘাস, আকাশ বাতাসের বিচিত্র অনুভবে আমাদের ছড়াকারেরা স্বদেশ প্রেমও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে রূপায়িত করেছেন সচেতন শিল্পপ্রয়াসে।’ এটাও ঠিক, মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৃজনমান সব সাহিত্যই যেমন কালের বিচারে টিকে যায় না তেমনি বাদ যায় না ছড়াক্ষেত্রও। এটা অবশ্য শিল্প-সাহিত্যের কালিক নিয়তি; এতে শিল্পী খাটো হয় না বরং জাতিয়তাবোধের চেতনায় নিজেকে আরো বেশি জারিত করে মেতে ওঠার রসদ পাওয়া যায়। মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ অংশগ্রহণের সুযোগ না পেলেও এখনকার তরুণ ছড়াকর্মীরা নিয়ত ছড়াচর্চা অব্যাহত রাখে এবং তা মাটিঘেঁষা, ঐতিহ্যঘেঁষাÑ সর্বোপরি সেখানে মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গ আসে বিপুলভাবে। হ্যাঁ, চর্বিতচর্বণ বা একঘেঁয়েমিতার দোষও লক্ষ করা যায় বেশ কিছু ক্ষেত্রে।
পত্রস্থ অনেকেরই ছড়ার বই এখনো আসেনি, কারো কারো ছড়ার বইয়ে আছে কিছু মুক্তিযুদ্ধ-ভাষা আন্দোলনের চেতনামাখা ছড়া। কোন কোন তরুণ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে লিখেন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছড়াগল্প। এক্ষেত্রে আল জাবিরী-র ‘প্রাণের দামে দেশ কিনেছি’ পালন করে পাইওনিয়ারের ভূমিকা।
তরুণ মানেই সম্ভাবনা, দুষ্টঘাত উপড়ে দেয়ার দ্রোহ, গণজাগরণের উল্লাসময়তা, সাহিত্য-সৃজনে বাঁক ফেরানোর নতুন আলো, নতুন স্বর তৈরির অধ্যাবসায়। এবং এ কারণেই কবি-প্রাবন্ধিক রাশেদ রউফ শোনান আশার কথাÑ ‘যতই দিন অতিবাহিত হচ্ছে, আমাদের জাতির সবচেয়ে গৌরবময় আখ্যান ‘মুক্তিযুদ্ধ’ নিয়ে তত বেশি রচিত হচ্ছে ছড়া। সংখ্যাপ্রাচুর্য্যে ও পাণপ্রাচুর্য্যে মুক্তিযুদ্ধের ছড়া ভবিষ্যতে আরো শিল্পসফল হয়ে উদ্দীপ্ত করবে আমাদের চেতনাকে, এ আশাবাদ ব্যক্ত করা যায় অনায়াসে।’