‘তরুণরা জঙ্গি হয়ে যাচ্ছে, কারণ শিল্পচর্চা নেই’

আপডেট: জানুয়ারি ৪, ২০১৭, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সফিউল আলম রাজা। ২০১১ সালে তিনি রাজধানীতে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ভাওয়াইয়া স্কুল’। এবার তিনি প্রতিষ্ঠা করলেন ‘কলতান সাংস্কৃতিক একাডেমি’। মিরপুরের পল্লবী এলাকায় ১ জানুয়ারি এই একাডেমির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
নতুন একাডেমি প্রতিষ্ঠা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে এনটিভি অনলাইনের সঙ্গে আলাপ করেছেন রাজা।
আপনার ‘ভাওয়াইয়া স্কুল’ রয়েছে। আবার ‘কলতান সাংস্কৃতিক একাডেমি’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। কারণ কী?
সফিউল আলম রাজা : আমি দীর্ঘদিন ধরে পল্লবী এলাকায় বাস করছি। এখানকার স্থানীয় লোকেরা আমার শিল্প ও সংগীতচর্চা ভীষণ পছন্দ করেন। তাঁরা আমাকে অনেক দিন ধরে বলেছিলেন, ‘রাজা ভাই, আপনি এখানে থাকেন। অথচ পল্লবীতে কোনো সাংস্কৃতিক একাডেমি নেই। আপনি তো চাইলে একটা একাডেমি করতে পারেন।’ মূলত তাঁদের অনুপ্রেরণায় আমি নতুন আরেকটি একাডেমি করলাম। আর ‘ভাওয়াইয়া স্কুল’ সেগুনবাগিচায় আগে ছিল। এখন সেটা পল্লবী-মিরপুর সাড়ে ১১ বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন জায়গায় আমরা এনেছি। নতুন একাডেমিটাও একই জায়গায়। এ ছাড়া দীর্ঘ দুই যুগ তো শিল্পকলা একাডেমি, চারুকলা ও শহীদ মিনার এলাকায় গান করলাম। সেখানে তো সংস্কৃতির একটা দারুণ আবহ আছেই। আমি চাই, পল্লবী এলাকায়ও সংস্কৃতির এমন একটা আবহ তৈরি হোক। নানা কর্মব্যস্ততার মধ্যে যাঁরা শাহবাগ কিংবা শিল্পকলা একাডেমি এলাকায় যেতে পারেন না, তাঁরা পল্লবীতেই সুস্থধারার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের স্বাদ যেন পান। এখানকার ছেলেমেয়েদের সংস্কৃতি চর্চার জন্য যেন দূরে যেতে না হয়-এমন ভাবনা থেকেই পল্লবী এলাকায় ‘কলতান’ প্রতিষ্ঠা করলাম।
কলতান সাংস্কৃতিক একাডেমিতে কী কী শেখানো হবে?
সফিউল আলম রাজা : সংগীত ছাড়াও দোতারা, বাঁশি, বেহালা, গিটার, তবলা, অভিনয়, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কনের ক্লাস হবে। এ ছাড়া জনপ্রিয় ক্ল্যাসিকাল শিল্পী তপন কান্তি টানা দুই মাস এখানে উচ্চাঙ্গসংগীতের কর্মশালা করবেন। প্রতিটা বিভাগের জন্য সুপ্রতিষ্ঠিত শিক্ষকরা ক্লাস নেবেন।
ভাওয়াইয়ার প্রচার-প্রসারে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। কখনো কি ক্লান্তি অনুভব করেছেন?
সফিউল আলম রাজা : একদম না। দেখুন, এখনকার অধিকাংশ ছেলেমেয়ে শিল্পচর্চা করে না। তাদের দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে অনেকটাই অজানা। দেশের তরুণরা এখন জঙ্গি হয়ে যাচ্ছে। এর অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হলো, তারা শিল্পচর্চার মধ্যে নেই। এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত।
লোকসংগীতের অন্যতম একটি ধারা ভাওয়াইয়া। এই ধারা ছাড়াও সংস্কৃতির অন্যান্য ধারাও আমাকে দারুণভাবে টানে। যেহেতু সংস্কৃতি যে কাউকেই চিন্তাশীল, সৃষ্টিশীল, মানবিকতা তথা মানুষ হয়ে ওঠার পেছনে বড় ভূমিকা রাখে, সেহেতু এই সংস্কৃতি নিয়েই আরো বেশি কাজ করার মধ্য দিয়ে শিশু-কিশোর, তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ও শিকড়মুখী করাতে হবে।
আপনি তো পেশায় সাংবাদিক ছিলেন। সংগীতশিল্পী হিসেবে যেমন অনেক পুরস্কার পেয়েছেন, তেমনি সাংবাদিকতা করেও অনেক পুরস্কার পেয়েছেন। সম্প্রতি সাংবাদিকতা থেকে অবসর নিয়েছেন। আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী ?
সফিউল আলম রাজা : এটা সত্যি, সাংবাদিকতা করে ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুরস্কার’, ‘ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার’, ‘ডেমক্রেসিওয়াচ হিউম্যান রাইটস অ্যাওয়ার্ড’, ‘ইউনেস্কো ক্লাব অ্যাসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড’সহ অনেক পুরস্কার পেয়েছি। বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত বেঙ্গল বিকাশ প্রতিভা অন্বেষণে লোকসংগীত বিভাগে (ভাওয়াইয়া নিয়ে) ২০০৬ সালে সারা দেশে শ্রেষ্ঠ শিল্পী হিসেবে বিজয়ী হয়েছি। এখন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতা করতে চাই। নিজের প্রতিষ্ঠিত দুটো একাডেমি আরো সমৃদ্ধ করতে চাই। আমার বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলায়। সেখানে শান্তি নিকেতনের আদলে একটি ভাওয়াইয়া ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখি, যেখানে নিয়মিত ভাওয়াইয়ার চর্চা ও গবেষণা হবে। থাকবে ভাওয়াইয়া মিউজিয়ামও।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ