তানোরের খাল-বিলগুলো এখন মরা খাল

আপডেট: এপ্রিল ১, ২০১৭, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

লুৎফর রহমান, তানোর


রাজশাহীর তানোর উপজেলার খাল-বিল পানিশূন্য হয়ে সেগুলো বর্তমানে মরাখালে পরিণত হয়েছে। খাল-বিলগুলোর সংস্কারে বিভিন্ন সংস্থা বারবার স্বারকলিপি প্রদান করেও কোন আশার আলো দেখা যায় নি। খাল-বিলগুলো দেখে ভাবাই যায় না এসব খাল-বিলই বর্ষাকালে ভয়ঙ্কর রুপ ধারণ করে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নিশ্চিহ্ন করে দেয়। এ অঞ্চলের সবগুলো নদ-নদী ও খাল-বিল পানিশূন্য হয়ে পড়ায় সেগুলো এখন আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে।
একসময় এসব খাল-বিল দিয়ে নৌকা-স্ট্রিমারসহ নানা নৌযান চলাচল করতো। আর এখন তা মরা খালে রুপ নিয়েছে। এ নিয়ে কথা হয় তানোর উপজেলা বণিক সমিতির সভাপতি সারওয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন, এখনকার প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা তানোর বিলকুমারি বিলের ( শীব নদীর)  চেহারা দেখে ভাবতেই পারবেন না এক সময় এ অঞ্চলের  উপর দিয়ে পালতোলা নৌকা ও স্ট্রিমারসহ বিভিন্ন নৌযান চলাচল করত। এক সময়ের প্রাণচাঞ্চল্য ভরা নৌঘাটগুলো এখন বিপন্ন। পানিশূন্যতার কারণে সবগুলো নৌঘাট নিশ্চিহ্ন হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে স্থায়ী মৎস্যজীবীরা এখন তাদের নৌকা ভাসিয়ে মাছ ধরতে পারছেন না। বেকার জীবন-যাপন করছেন তারা।
তানোর বিলকুমারী সাহিত্য পরিষদের সভাপতি কবি রেজাউল ইসলাম বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের শহর বন্দরে যাতায়াত করার একমাত্র উপায় ছিল নৌপথ। বর্তমানে বর্ষার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোনো রকমে দুই একটি নৌযান চলাচল করতে দেখা যায়। কার্তিক মাসের শুরুতে আর এসব নৌযান দেখা যায় না। এ অঞ্চলের নৌপথের নদ-নদী ও খাল-বিলগুলো নাব্যতা সঙ্কটে পানিশূন্য হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু কালের বিবর্তনে এখন শুধু সবই কাল্পনিক। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রতিবছর অব্যাহত পানি হ্রাসের ফলে নদীগুলো নিজেদের অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। তানোরে খাল বিলগুলো এখন নামেই পরিচিত বাস্তবে নদীর কোন অস্তিত্ব নেই।  এ অবস্থায় এঅঞ্চলকে খরাপ্রবনের হাত থেকে রক্ষা পেতে নদ-নদী ও খাল-বিলগুলো সংস্কারসহ সংরক্ষণ প্রয়োজন মনে করেন তিনি।
এ নিয়ে তানোর পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী জানান, জেলা শহরে বিভিন্ন কাজ কর্মের জন্য এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র পথ ছিলো নৌপথ। সারাবছর পালতোলা নৌকায় কিংবা স্ট্রিমারে করে খুব সহজেই মোহাম্মদপুরের এই খাড়ির উপর দিয়ে তানোরে শিবনদী হয়ে রাজশাহী পৌঁছা যেত। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসবের আর কোনো দেখা মিলে না। মূলত পানি সঙ্কটের কারণে নৌযোগাযোগ নেই বললেই চলে। তিনি তানোরে ঐতিহ্যবাহী শিবনদী ও খাল বিলের নৌপথ রক্ষা জন্য উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদী ও খাল-বিলের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানান।
এ বিষয়ে তানোর বিএমডির সহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন সংগঠনের স্বারকলিপির পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্প তৈরি করে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন পেলেই বিলকুমারী বিলের খনন কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ