তানোরের সবজি যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন বাজারে

আপডেট: এপ্রিল ২২, ২০১৭, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

লুৎফর রহমান, তানোর



রাজশাহীর তানোরে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সবজি চাষ। ফলে একদিকে যেমন সবজির চাহিদা পূরণ হচ্ছে, অন্যদিকে বেকারত্ব থেকেও রক্ষা পাচ্ছে। নব্বই দশকের দিকে তানোর উপজেলার জনসাধারণের সাহিদা মেটাতো মোহনপুর উপজেলার সবজি দিয়ে। বর্তমানে তানোরে বিপুল পরিমান সবজি উৎপাদনের ফলে আর মোহনপুর উপজেলার সবজির প্রয়োজন পড়ে না। এলাকাবাসীর চাহিদা মিটিয়ে সারাদেশের বিভিন্ন বাজারে সরবারহ হচ্ছে এখানকার সবজি।
সরজমিনে উপজেলার বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, তানোর বাজার, মু-মালা বাজারসহ উপজেলার প্রতিটি হাটগুলোতে স্থানীয় সবজি চাষি ও ব্যবসায়ীদের আনাগোনায় মুখরিত। যে কোন বাজারে গিয়ে স্থানীয় ক্রেতারা অনায়াসেই নিজ এলাকার সবজি কিনতে পারছে। এলাকার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন সরবরাহ করে থাকেন এখানকার কৃষকরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সবজি চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তানোর উপজেলার কৃষকের এক সময় প্রধান আয়ের উৎস্য ছিল ধান চাষ। কিন্তু নব্বই দশক হতে ধান গাছে ছত্রাকের আক্রমণে ধানগাছ মরে নষ্ট হয়ে যায়। কৃষকের প্রধান অর্থকারী ফসল ধান নষ্ট হওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে  ধানের চেয়ে সবজিতে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা উচু জমিগুলোতে সবজি চাষ আরম্ভ করে। পরে ধীরে ধীরে এই অঞ্চলের কৃষকরা সবজি চাষে বেশি মুনাফা পাওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে উচু ও নীচু জমিতে ব্যাপকহারে সবজি শুরু করে।
উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৪ হাজার সাত হেক্টর জমিতে আলু, এক হাজার তিন হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ, সাত হেক্টর জমিতে লালশাক, আট হেক্টর জমিতে পুঁইশাক, নয় হেক্টর জমিতে পাটশাক, ৭৫০ হেক্টর জমিতে মিষ্টিকুমড়া, ৮৬০ হেক্টর জমিতে লাউ, তিন হেক্টর জমিতে শিম রোপণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও সবজি গ্রাম হিসেবে ধানতৈড়, তালন্দ নিজপাড়া, যোগীশো, প্রকাশনগর, প্রাণপুর, পাঁচন্দর, মু-মালা সাদিপুরকে ঘোষণা করা হয়েছে। এখানকার সবজি চাষিরা বছর জুড়ে খেতে বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষ করে দ্ররিদ্রতা দূর করে সংসারে এনেছে সচ্ছলতা।
তানোর গোল্লাপাড়া গ্রামের সবজি চাষি আবদুল জলিল জানান, আমি এক সময় অভাবের জন্য মানুষের কাজ করে কোন মতে দিন পার করতাম। পাঁচ বছর পূর্বে মোহনপুর উপজেলার সবজি চাষি সাইদুর রহমানের পরামর্শে নিজের জমি না থাকায় অন্যের ১৫ শতক জমি লীজ নিয়ে বেগুন, করলা, বরবটি চাষ শুরু করি এবং প্রথম বছরে আমি সবজি বিক্রি করে সব খরচ বাদ দিয়ে মাসে ২০-৩০ হাজার টাকা লাভ করি। বর্তমানে ৬-৭ বিঘা জমিতে সারা বছর বিভিন্ন সবজি চাষ করি।
প্রকাশনগরের সবজি চাষি শরিফুল ইসলাম বলেন, এ বছরে শীতকালীন আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফুলকপি, পাতাকপি, পালংশাক, লালশাক, শিম, টমেটোসহ বিভিন্ন প্রজাতির সবজির ভালো উৎপাদন হয়েছে। আমি সরাসরি ঢাকার কাওরানবাজার সবজি আড়তে সরবরাহ করে ভালো দরে বিক্রি করেছি।
এ বিষয়ে তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, তানোর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বেশ কিছু গ্রামের কৃষকরা সবজি উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন শহরে রফতানি করে থাকে। বিষয়টি এলাকার জন্য গর্বের। আগামী দিনগুলোতে নতুন নতুন প্রজাতির মানসম্মত সবজি চাষ উৎপাদিত হবে। আর চাষিরা তাদের উৎপাদিত ফসল নায্যমূল্য দিয়ে বিক্রি করতে পারবে। কেন না বর্তমান সরকার কৃষকরা যেন তাদের ফসলের নায্যমূল্য পাই। সেজন্য নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। আর সরকারের সেই সুফলগুলো আমার পক্ষ থেকে কৃষকদের দেয়ার জন্য সাধ্যমতো সহযোগিতা করে যাবো বলে তিনি বলেন।