তানোরে অধ্যক্ষ লাঞ্ছিত অসহিষ্ণুতা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে

আপডেট: মার্চ ২৯, ২০১৭, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

সরকার সমর্থক বিশেষ করে আওয়ামী লীগের একটি ক্ষুদ্র অংশ ক্রমশই অসহিষ্ণু হয়ে উঠছেÑ যার দায়ভার পুরো সংগঠনকে নিতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বিচ্ছিন্নভাবে হলেও এসব অসহিষ্ণুতা সরকারের ভাবমূর্তির ক্ষতি করছে।
ক্ষমতার প্রভাব দেখাতে গিয়ে এক সাথে অনেক মানুষের জন্য অসম্মানের কারণ হয়ে উঠছে। একই সাথে মানুষ কখনো কখনো অসহায় ও হতাশা বোধ করছে। বিষয়টি গভীর উপলব্ধির সময় এসেছে।
রাজশাহীর তানোরে শিক্ষার্থীবরণ, বিদায় ও বিজয় দিবসের আলোচনাসভায় ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রধান অতিথি না করার কারণে সভাপ- করে কলেজ অধ্যক্ষকে চড়-থাপ্পড় মেরে স্যান্ডেল পেটা করেছেন জনৈক ইউপি চেয়ারম্যান। তিনি সরনজাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতিও। রোববার বেলা ১২টার দিকে সভা চলাকালীন উপজেলার সরনজাই ডিগ্রি কলেজ চত্বরে ন্যক্কারজনক এ ঘটনাটি ঘটে। এঘটনায় কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসস্তোষ বিরাজ করছে।
এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশে মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্যানুযায়ী অভ্যাগত অতিথি ও কলেজের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে ওই চেয়ারম্যান তার লোকজনসহ অনুষ্ঠানের মঞ্চে হামলা চালান এবং স্বয়ং চেয়ারম্যান কলেজ অধ্যক্ষকে মারপিট করেন। ওই চেয়ারম্যানের কা-জ্ঞানহীন আচরণে তার সমর্থকরা হয়ত তাকে বাহবা দিবে কিন্তু শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ এটাকে নিশ্চয় মোটেও ভালভাবে নিবে না। বরং ওই কলেজের সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভ্যাগত অতিথিদের জন্যও বিষয়টি খুবই অপমানজনক। জনপ্রতিনিধি জনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার জায়গায় অপমানজনক কা-টই করে বসলেন।
তার এই কা-জ্ঞানহীন আচরণে তিনি কি নিজেই লাভবান হলেন? তিনি ঘটনা ঘটিয়ে মোটেও অনুতপ্ত ননÑ বরং তার কৃতকর্মের জন্য দাম্ভিকতাই প্রকাশ করেছেন। তিনি যে ক্ষমতাবান, প্রভাবশালী এটা বুঝিয়ে ছেড়েছেন উপস্থিত জনদের। তার দাম্ভিকতাই বলে দেয় যে, তিনি ওই ঘটনা ঘটিয়ে বীরত্ব প্রকাশ করতে মোটেও লজ্জাবোধ করেন নি। তার ভাষায় পুরো ইউনিয়নবাসী তাকে সম্মান করলেও ওই অধ্যক্ষ তাকে গ্রাহ্য করে না। তাই তিনি অধ্যক্ষকে উচিৎ শিক্ষা দিয়েছেন।
একজন জনপ্রতিনিধির সম্মানের দৌড় যদি এমনই হয় তা হলে নির্বিবাদী জনসাধারণের লজ্জা পাওয়া উচিৎ যে, তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি মানুষের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করে সম্মান নিতে চান না। বলপ্রয়োগ করে তিনি সম্মান আদায় করতে চান। যে শিক্ষার্থী তার অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত হতে দেখলো সেকি ওই চেয়ারম্যানকে সম্মান জানাতে পারবে? কেননা চেয়ারম্যান তো ওই শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেনÑ অবশ্য এটা যদি চেয়ারম্যান সাহেব বুঝতে পারেন!
যাহোক, ওই চেয়্রাম্যান তো ক্ষমতাসীন দলের ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি। তিনি কি তার ন্যক্কারজনক কৃতকর্মে  ঐতিহ্যবাহী সংগঠন আওয়ামীলীগের কিংবা সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করলেন?
এই ঘটনা হয়তো থানা পুলিশ পর্যন্ত শেষ পর্যন্ত নাও যেতে পারে কিন্তু এর প্রভাব ঘটনাস্থলে যারা ছিলেন তারা কিন্তু খুব সহজে ভুলতে পারবেন না। ব্যক্তির এ ধরনের ঔদ্ধত্য আচরণের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। এর প্রতিকার না হলে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটতেই থাকবে। নিশ্চয় এর পরিণতি মোটেও সুখের নয়। অতীত অখিজ্ঞতা তা-ই বলে। অতএব সময় থাকতেই সাধু সাবধান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ