তানোরে আমন খেতে কারেন্ট পোকার আক্রমন || ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা

আপডেট: অক্টোবর ১, ২০১৭, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

লুৎফর রহমান, তানোর


রাজশাহীর তানোরে আমন খেতে কারেন্ট পোকার আক্রমনের মহামারি আকার ধারন করেছে। ফলে এবার আমন ধানের ফলন বিপর্যারে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একের পর এক কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোন ভাবেই দূর করা যাচ্ছে না এ রোগ। ফলে চাষিরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।
উপজেলার আমন খেতে গিয়ে এলাকার চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, যে সব জমিতে আলু চাষ করা হয়েছিলো ওই সব জমিতে রোপণ করা ৪৯ জাতের ধানে ব্যাপক হারে কারেন্ট পোকার আক্রমন দেখা দিয়েছে। দিনের পর দিন কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোন ভাবেই দূর হচ্ছে না কারেন্ট পোকা। সেই সাথে দেখা দিয়েছে ইঁদুরে উৎপাত। আমন ধানের গাছের পাতা কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে ইঁদুর।
কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, উপজেলায় এবারে আমন চাষ হয়েছে ২১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে । তার মধ্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭৫০ হেক্টর জমির ধান । এর মধ্যে ৪৯ জাতের ধান চাষ হয়েছে ১৫৪৭ হেক্টর , ব্রি ৫২ ১৫০ হেক্টর , ৫১ জাতের ১১৬০ হেক্টর , ব্রি ৬২ জাতের ১৫০ হেক্টর , ৫৬ জাতের ১২৫ হেক্টর , ৩৪ জাতের ৩২০ হেক্টর , ৫৭ জাতের ২০ হেক্টর ,৭ জাতের ১৯৫০ হেক্টর , স্বর্ণা ১৪ হাজার ৮১২ হেক্টর , স্থানীয় সুগন্ধী বা চিনি আতপ ১২৬৪ হেক্টর জমিতে।
চান্দুড়িয়া ইউপি এলাকার কৃষক সাজ্জাদ জানান, সাড়ে ৬ বিঘা জমিতে ৪৯ জাতের আমন ধান রোপণ করেছি। কোন ভাবে কারেন্ট পোকার আক্রমন দূর করা যাচ্ছে না। ধান গাছের গোড়া খেয়ে পুরো পাতা লাল করে ফেলছে। একাধিকবার কীটনাশক দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না । কীটনাশক কিনতে কিনতে পকেট খালি হয়ে গেলেও পোকা জমি থেকে যাচ্ছে না । ভিরতাকো দানাদার বিষ দিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না। একই এলাকার অনিলের ৬ বিঘা জমিতে মহামারি আকার ধারন করেছে কারেন্ট পোকার আক্রমন।
কলমা ইউপি এলাকার আমন চাষি মহাসিন জানান, ১২ বিঘা জমিতে ব্রি ৫১ জাতের ধান লাগিয়েছিলাম। পুরো ১২ বিঘা জমিতে কারেন্ট পোকা, মাজরা পোকার আক্রমণে ধানের পাতা লালচে হয়ে গেছে। এমিস্টারসহ বিভিন্ন প্রকার কীটনাশক প্রয়োগ করেও পোকা দূর হচ্ছে না । একই এলাকার মোশাররফের ৯ বিঘা জমিতে একই অবস্থা ।
এ বিষয়ে উপপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শমসের আলী জানান, রোগ বালাই দূর করতে হলে নিয়মিত ধান খেত পর্যবেক্ষণ ও সন্ধ্যার দিকে আলোক ফাঁদ জালিয়ে পোকার উপস্থিতি নির্ণয় করতে হবে। পোকার উপস্থিতি দেখা গেলে ইউরিয়া সার জমির উপরিভাগে প্রয়োগ বন্ধ করে উপরিভাগে এমওপি সার প্রয়োগ করতে হবে। জমিতে পানি থাকলে শুকিয়ে ফেলে জমি ও আইলের আগাছা পরিষ্কার রাখতে হবে। দুই হাত পরপর ফাড়ি দিয়ে আলো বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা করতে হবে। পোকার উপস্থিতি দেখলে কীটনাশক অনুমোদিত মাত্রায় ধান গাছের গোড়া ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে।
এর সঙ্গে গ্ল্যামোর, পাইটাফ, প্লেনাম, লামা, কারেনশর্ট, পাইরাজিন, সানফিজিন, কোরটান, ফুলস্টপ, পাইরিড, চাবি, স্পসিন ও কারটাপিড কীটনাশকগুলো স্প্রে করতে হবে । ধান ফসলে বিএলবি ও বিএলএস রোগ দেখা দিলে ইউরিয়া সার প্রয়োগ বন্ধ করে পটাশ সার বিঘা প্রতি ৫ থেকে ৭ গ্রাম হারে দিতে হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, এসব রোগ দমনে ১০ লিটার পানিতে ৬০ গ্রাম পটাশ ৬০ গ্রাম সালফার (৮০ ডব্লিউপি) ২০ গ্রাম দস্তা (মনোজিংক) মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করতে হবে। এছাড়াও অনুমোদিত মাত্রায় ব্যাকটিরিয়া নাশক যেমন ব্যাকট্রোবান, ক্রোসিন, টিমসেন স্প্রে করতে হবে । তিনি আরো বলেন, ধানের ফসলে বাদামী গাছ ফড়িং বা কারেন্ট পোকা দমনে করনীয় শিরোনামে ১০ হাজার লিফলেট তৈরি করে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে এবং প্রতিদিন কৃষক সমাবেশ করে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ