তানোরে আমন খেতে পাতাপোড়া, ঝলসানো ও আগালমরা রোগ || দিশেহারা কৃষক

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৭, ১:৩১ পূর্বাহ্ণ

লুৎফর রহমান, তানোর


রাজশাহীর তানোরে আমন খেতে পাতাপোড়া, পাতা ঝলসানো ও আগালমরা পচন রোগ দেখা দিয়েছে। সেই পোকার আক্রমণে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। একের পর এক কীটনাশক ব্যবহার করে কোক্রমেই সেই পোকা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছেন না চাষিরা। ফলে ধানের সেই পচন দূর করতে কৃষকদেরকে নানামূখী প্রদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে।
গতকাল সোমবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, খোল পোড়া এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আমন ধানের খেত খড়ের মতো হয়ে পড়েছে। আর কিছু কিছু জমিতে ধানের গাছের আগা থেকে মরতে মরতে নিজের দিকে এসে খড়ে পরিণত হয়ে পড়েছে। আবার অনেক জমিতে পাতাপোড়া পাতা ঝলসানো রোগও দেখা যাচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন ধানের মাঠে সেই পচন রোগ দূর করতে সকাল থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত কৃষকদের কীটনাশক স্প্রে করতে দেখা যাচ্ছে।
চিমনা গ্রামের মাঠে কথা হয় কৃষক আসরাফুলের সঙ্গে। তিনি জানান, চার বিঘা জমিতে আমন ধান রোপণ করেছি। ঈদের চার-পাঁচ দিন ব্যাপক ভ্যাপসা গরম শুরু হয়। সেই গরমেই ধরেছে পচন। একাধিকবার কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোন কাজ হচ্ছে না। পচন কোনমতে দূর হলে দেখা দিয়েছে মাজরা পোকার আক্রমণ।
কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক আবদুর রাজ্জাক জানান, এ রোগ শুধু তার জমিতে নয়, উপজেলার প্রতিটি ধানী মাঠে পচন ও পাতাপোড়া, ঝলসানো, আগালমরা রোগের আক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এসব রোগ দূর করতে চাষিদের মূল ভরসা হয়ে পড়ে কীটনাশক দোকানিরা। তাদের পরামর্শে একের পর এক কীটনাশক ব্যবহার চাষিরাও বাকিতে অধিক দামে কিনে প্রয়োজনের তুলনায় বেপরোয়াভাবে স্প্রে করছেন কীটনাশক।
তবুও দেখা মিলছে না কৃষি দফতরের ব্লক সুপারভাইজারদের। তাদের মাঠে কোন সময় দেখা পাওয়া যায় না বলে একাধিক কৃষকরা অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে কৃষি দফতরের ব্লক সুপারভাইজার শমসের আলী জানান, এ রোগ নির্মূল করতে জমির পানি শুকিয়ে দিতে হবে। সেই শুকানো কাদা মাটি জমিতে প্রতিবিঘা ৭ থেকে ৮ কেজি পটাশ সার ছিটাতে হবে। ছিটানোর ৫ থেকে ৬ দিনের মধ্যে জমিতে পুনরাই সেচ দিতে হবে। অথবা প্রতি ১৬ লিটার পানির সঙ্গে থ্রিয়োভিট, কুমুলাস, সালফক্স ওই জাতীয় ১শ গ্রাম পাউডার, ১শ গ্রাম পটাশ সার, সিলেটের জিংক ১০ গ্রাম হারে স্প্রে করতে হবে। তাহলে এ রোগ নির্মূল করা সম্ভব পর হবে বলে এ কৃষিবিদ জানান।
উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারে উপজেলায় আমন ধান চাষাবাদ হয়েছে ২১ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে। বন্যার পানিতে ৭১০ হেক্টর রোপিত আমন ধান ডুবেছে ।
এ বিষয়ে কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কৃষি উপসহকারী অফিসারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। রোগ বালাই দূর করতে যাযা করা দরকার সেটাই করা হচ্ছে। তারপরও কোন কৃষক রোগ দূর করতে না পারলে কৃষি বিভাগ অথবা ব্লক সুপার ভাইজারদের সঙ্গে পরামর্শ নিতে পারবেন। এ রোগ নির্মূলে মাইকিং করে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ