তানোরে আলুর খেতে সবুজের সমারোহ

আপডেট: জানুয়ারি ১৮, ২০২২, ১১:১৭ অপরাহ্ণ


তানোর প্রতিনিধি:


রাজশাহীর তানোরে মাঠে মাঠে এখন আলু আবাদ। ঠান্ডা কুয়াশাচ্ছন্ন আবহওয়ায় গাছ সবল রাখতে ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে ব্যস্ত চাষিরা। এ উপজেলায় রবি মওসুমের এলাকার প্রধান অর্থকরি ফসল আলু। গত ৩ থেকে ৪ ধরে সকাল হতে কুয়াশা ঝরছে। দুপুরে থাকছে রৌদের প্রখরতা। যা আলুর আবাদের জন্য ক্ষতিকর। তাই এমন আবহওয়ায় আলুর গাছে পচন ঠেকাতে বাড়তি পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে চাষীরা।

জানা গেছে, বিগত বছরগুলোতে আলুর ভালো ফলন ও দাম পেয়ে লাভের আশায় অধিক আলু চাষে কৃষকরা ঝুঁকেছে। যদিও গত বছর স্টোরে আলুর দাম কম, শ্রমিক সংকটসহ হিমাগারের বেশি ভাড়ায় আলু চাষিদের লোকসান গুনতে হয়েছে। মওসুমের শুরু থেকে আলুর মূল্য হ্রাস ও হিমাগারভিত্তিক চক্রের কারণে কৃষকরা আলু নিয়ে গত বছর বিপাকে পড়ে। তবে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে চলতি বছর উপজেলায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে।

বর্তমানে অধিকাংশ মাঠের আলু গাছের বয়স মাঝামাঝি। ইতিমধ্যে আগাম জাতের আলু উত্তোলন শুরু হয়েছে। তবে বর্তমানে বাজারে ৪০০ টাকা মন দরে খুচরা বাজারে কেজিতে ১২ টাকায় আলু বিক্রি চলছে। আলুর ফলন ভালো পেলেও দাম কমে উৎপাদন খরচ নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন রয়েছে।

চিমনা গ্রামের আলু চাষি আবদুল হায় লাভলু জানান, অতিরিক্ত দামে সার, কিটনাশক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন উপকরণ ক্রয়ে আলু চাষে বেশি খরচ পড়েছে। যে হারে জমিতে আলু চাষে খরচ হয়েছে। সে হারে মূল্য না বাড়লে লোকসান হবে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

দুবইলগ্রামের আলু চাষি সেলিম উদ্দিন জানান, জমির আলু এখন মাঠে মাঠে এক থেকে দেড় ফুট আকারের আলুর গাছ বড় হয়েছে। পুরো আলু উঠতে এখনো এক থেকে দেড় মাস সময় লাগবে। বর্তমানে আলুর গাছের মাঝ বয়স। গাছ যাতে মড়কে নষ্ট না করতে পারে এই জন্য বিভিন্ন ধরনের ছত্রানাশক স্প্রে করতে হচ্ছে। ঘন কুয়াশায় আলুর গাছ পচন থেকে রক্ষা পেতে এলাকার কৃষকরা গাছে ছত্রানাশক করমিল, এন্ডোফিল জে মিটালেক্স, রেডোমিলসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ স্প্রে করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সামিমুল ইসলাম জানান, হঠাৎ করে আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। এই জন্য আলুর জমিতে পরিমিতভাবে ছত্রাকনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন আলুর খেতে কৃষি কর্মকর্তারা যাচ্ছেন। এবং কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত আলুর খেত অনেক ভালো রয়েছে। এভাবে আর ১৫ থেকে ২০ দিন আলুর গাছকে সুস্থ্য সবল রাখতে হবে। তাহলে এবছর বিগত কয়েক বছরে চেয়ে ভালো ফলন হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।