তানোরে আলুর জমিতে ধান রোপণে ব্যস্ত কৃষক

আপডেট: মার্চ ২৫, ২০২১, ১০:২৪ অপরাহ্ণ

লুৎফর রহমান, তানোর:


রাজশাহীর তানোরে আলু উত্তোলনের পর ধান রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। দিন রাত এক করে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যেন কে কার আগে রোপণ করে শেষ করতে পারেন এমন ভাবেই চলছে রোপণের কাজ। এতে করে বেড়েছে শ্রমিকের কদর। ফলে দম ফেলার সময় নেই শ্রমিক চাষিদের। জানা গেছে, উত্তর বঙ্গের অন্যতম কৃষি প্রধান এলাকা হিসেবে পরিচিত উপজেলাটি। এই উপজেলায় ধানের পরে প্রধানতম চাষাবাদ হয় আলুর। গত প্রায় এক মাসের বেশি সময় ধরে চলছে আলু উত্তোলনের কাজ, যা এখনো চলমান রয়েছে। যাদের আলু উত্তোলন শেষ হয়েছে তাঁরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ধান রোপণ করে ফেলছেন।
তাদের মধ্যে লুৎফর নামের এক কৃষকের সাথে কথা হয় তিনি জানান ইতিপূর্বেই সবেমাত্র আলু উত্তোলন শেষ হয়ে পড়ায় ধান রোপণ শেষের দিকে। প্রায় ৯০ বিঘা জমিতে আলু রোপণ করে অধিক খরচের কারনে ৪০ বিঘা জমিতে ধান রোপণ করা শেষ হয়েছে। তিনি চিমনা মাঠে রোপণ করেছেন। একই মাঠে হাবিবুর ৪০ বিঘা, তানোর মাঠে আশরাফুল ৭ বিঘা, ইয়াসিন ১৫ বিঘা, সাফিউল ১৫ বিঘা, কৃষ্ণপুর মাঠে খালেকের ২০ বিঘা, কাশেমের ২০ বিঘা, সিন্দুকাই মাঠে হালিমের ৮ বিঘা সহ উপজেলা জুড়েই চলছে আলু উত্তোলনের পর ধান রোপণের কাজ।
কৃষক হান্নান জানান, ধানের দাম বেশি হওয়ার কারনে আলুর এক বিঘা জমি রোপণ করতে প্রায় ৮ হাজার টাকা মত খরচ হচ্ছে। আবার বীজের রয়েছে সঙ্কট, তবে বহিরাগত শ্রমিকরা থাকার কারনে সব কিছু দ্রুত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে উপজেলায় বোরো ধানের দুই ধরনের হিসেব নিকেস করে থাকেন কৃষি দপ্তর। শীতের দিকের রোপণকৃত এবং আলু উত্তোলনের পর যে ধান রোপণ হয় তার।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে উপজেলায় সব মিলে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুল ইসলাম জানান কৃষকরা আলু উত্তোলন ভালো ভাবে করছেন, কোন ধরনের প্রতিকূল আবহাওয়া নেই এবং ধান রোপণ করতে পারছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন আলুর যেমন ফলন ভালো হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসলে বোরো ধানেরও আশানুরূপ ফলন হবে বলে ধারনা করেন এই কর্মকর্তা।