বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

তানোরে আলু খেতের যত্নে ব্যস্ত চাষিরা

আপডেট: December 21, 2019, 12:40 am

লুৎফর রহমান, তানোর


অনুকূল আবহাওয়া ও এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের মোড়ক না থাকায় ভাল ফলনের আশা করছেন চাষিরা। এখন আলু খেতের টপডেসিংগের যত্নে (সারিতে মাটি তোলা) নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। গতবারের লোকসান থেকে বাঁচতে আলু রোপন করেছেন ব্যবসায়ী ও চাষিরা। তবে দাম নিয়ে শঙ্কা কাটছে না তাদের।
গত মৌসুমে আলুতে তেমন লাভ না হওয়ায় উপজেলা আলুচাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এবারে ১৩ হাজার ৬৯৬ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ হাজার ২শ’ হেক্টর জমিতে। গত বছরের চেয়ে কম আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৪৯৬ হেক্টর।
চলতি রবিশস্য মৌসুমে আলুর ভাল ফলনের সম্ভাবনা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে চাষিরা। মাঠে মাঠে এখন শুধু আলু গাছের সবুজ রঙের সমারোহ।
স্থানীয় কৃষি বিভাগের যথাযথ পরামর্শ ও আবহাওয়া ভাল থাকলে এবং রোগবালাই মুক্ত আলু খেত বিরাজ করলে আলুর সর্বোচ্চ ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রামীণ জনপদের প্রান্তিক কৃষকরা এবার ডায়মন্ড, কার্ডিনাল জাতের আলু বেশি লাগিয়েছেন। যথাসময়ে মাঠ থেকে আলু ঘরে তুলতে পারলে এবং দাম ভাল থাকলে কৃষকের লাভ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
আলু খেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে মাঠজুড়ে। সেচকার্য, সারিতে মাটি তোলা, রাসায়নিক সার প্রয়োগ এবং কীটনাশক স্প্রে করছেন চাষিরা। তবে সত্যিকার অর্থে লোকসান গুণতে গুণতে অর্থকরি ফসল আলুচাষ এখন ব্যবসায়ীদের দখলে। এবার অনেক প্রান্তিক চাষি ব্যবসায়ীদের কাছেই লিজ দিয়েছেন জমি। এ সুযোগে ব্যবসায়ীরাও কমদামে লিজ নিচ্ছে এসব জমি। প্রান্তিক চাষিরা আবাদ থেকে ফিরে আসায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শমসের আলী বলেন, রবি মৌসুমের অর্থকরি ফসল হিসেবে স্থান করে নিয়েছে আলু। উপজেলায় কমবেশি সবএলাকায় আলুর চাষ হচ্ছে। এরমধ্যে পাঁচন্দর সরনজাই, তালন্দ ইউনিয়নে বিপুল পরিমাণ জমিতে আলুর চাষাবাদ হচ্ছে।
গত মৌসুমে আলু ওঠার সময় প্রান্তিক চাষিদের ব্যাপক লোকসান হয়। অনেকে আর আলু রোপণ করবে না বলে প্রতিজ্ঞাও করেন। উৎপাদনকৃত আলুতে দাম না পেয়ে অনেকে সার-বীজের দাম নিয়ে হিমসিম খেয়েছেন। আবার লোকসানের ধকলে এবং সার-বীজ ও কীটনাশকের দোকানে বাকি পরিশোধ না করতে পেরে বাড়ি ছেড়ে ছিলেন অনেকেই।
গতবার আলুচাষ করেছিলেন চিমনা গ্রামের রবিউল ইসলাম তিনি বলেন, আলুচাষ করে লোকসান গুনেছেন। তাই এবারে তিনি চাষ করছেন না। তার জমি লিজ নিয়েছেন মোহনপুর উপজেলার তোজ্জামেল হক। রবিউল ইসলামের মত অনেকেই এবারে আলুচাষ থেকে বিরত আছেন। এই সুযোগে হিমাগারে রাখেন এমন আলু ব্যবসায়ীরা কমদামে জমি লিজ নিচ্ছেন। এতে প্রান্তিক কৃষক আরো একবার ঠকছেন।
তানোরে গোল্লাপাড়া মাঠে আশরাফুল ইসলামের ডিপে মোহনপুর উপজেলার আলু ব্যবসায়ী শাফিউল ইসলাম গতবছর ৩০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। এবারো তিনি ৮০ বিঘা জমিতে আলু রোপন করেছেন। তিনি স্বীকার করেন, গতবার উঠতি সময়ে কৃষক আলুতে লোকসান গুনেছেন। হিমাগারে যারা রেখেছেন তাদের কিছু লাভ হয়েছে। আবার কোনো কোনো কৃষকের বিক্রি এবং উৎপাদন খরচ সমান হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আলুচাষে প্রচুর টাকার দরকার হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পোকামাকড়সহ কাণ্ডপচা ও নাভিধসা মোড়কে ব্যাপক ক্ষতি হয়। আলুচাষ একটি ঝুঁকিপূর্ণ ফসল। তবে এবারে আলু চাষে আবহাওয়া অনুকূল মনে হচ্ছে। এবং এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের মোড়ক না থাকায় ভাল ফলন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরে প্রান্তিক চাষি কমেছে। বেড়েছে প্রজেক্ট। তবে আবহাওয়া ভাল থাকলে ফলন ভাল হবে বলে আশা করেন তিনি।