তানোরে ‘করোনা’য় বৈষম্যের শিকার ১৫ হাজার প্রতিবন্ধী

আপডেট: এপ্রিল ২, ২০২০, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ

তানোর প্রতিনিধি :


রাজশাহীর তানোরে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেনারেল রিলিফ (জিআর) বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই বরাদ্দ বিতাণের ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিরা প্রতিবন্ধীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছেন। ফলে পুরো উপজেলার প্রায় ১৫ হাজার কর্মহীন প্রতিবন্ধীরা ঘরে বসে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
জানা গেছে, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় মানবিক সহায়তা হিসেবে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফততর থেকে গত ২৪ ও ২৮ মার্চ জেনারেল রিলিফ (জিআর) প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৬০০ মেট্রিকটন চাল তানোর উপজেলায় বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বরাদ্দের এসব চাল বিতরণ করেন পরিষদের মেয়র ও চেয়ারম্যানের তালিকা মোতাবেক প্রত্যেক অসহায় অসচ্ছল ব্যক্তিকে ১০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা।
সেইমতে বরাদ্দের এসব চাল গত ৩০ মার্চ উত্তোলন করে ৩১ মার্চ বিতরণ করতে দেখা গেছে। কিন্তু সরকারি বরাদ্দের এসব রিলিফের চাল উপজেলার কোন প্রতিবন্ধীকে দেয়া হয়নি।
তবে, এনিয়ে তানোর আন্দোলন প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি সামশুল আলম বলেছেন, প্রতিবন্ধীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইউনিয়ন ও পৌর পরিষদের মেয়র ও চেয়ারম্যানরা সরকারি সাহায্য ও সেবা প্রদানে উদাসিন।
ওই সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক আলম আলী আক্ষেপ করে বলেন, অসহায় অসচ্ছল ব্যক্তি বলতে প্রথমে প্রতিবন্ধীকে বোঝায়। মুন্ডুমালা এলাকায় শহিদুল ইসলাম ওরফে ভুদল (১৯) নামে তার পরিচিত এক শারীরিক প্রতিবন্ধী রয়েছে। তার কোন কর্মক্ষমতা নেই। বর্তমানে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে তাকেসহ পুরো উপজেলার কোন প্রতিবন্ধীকে এতোটুকু সাহায্য ও সহায়তা দেয়া হয়নি।
বেসরকারি এক সংস্থার জরিপে, তানোরে প্রায় ১৫ হাজারের উর্দ্ধে বিভিন্ন ধরণের প্রতিবন্ধী রয়েছে। এদের মধ্যে শুধু দুই হাজারের মতো প্রতিবন্ধী সরকার থেকে ভাতা পায়। তাও আবার সাড়ে ৩ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে।
এব্যাপারে ওই সংস্থার ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক গৌতম চৌধুরী বলেন, বর্তমানে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ঘরের বাইরে বের হতে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। একারণে প্রতিবন্ধীরাও টানা ১৪ দিন ধরে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে। অনেক প্রতিবন্ধীর কোন কর্মক্ষমতা নেই। ভিক্ষাবৃত্তি ও সাহায্য সহায়তার উপর নির্ভর করে তাদের জীবন চলে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘরে অবস্থান করায় অনেক প্রতিবন্ধীদের ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ হয়ে পড়েছে। তিনি প্রতিবন্ধী হলেও তাকে এতোটুকু চাল দেননি চেয়ারম্যান ও মেম্বার।
এব্যাপারে মুন্ডুমালা পৌরসভার মেয়র গোলাম রব্বানীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও রিসিভ হয়নি।
তবে, এবিষয়ে উপজেলার বাঁধাইড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেছেন, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় মানবিক সহায়তা হিসেবে ‘জিআর’ প্রকল্পের আওতায় অসহায় অসচ্ছল ব্যক্তিকে ১০ কেজি করে চাল দেয়া হয়। কিন্তু প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে ওইভাবে বলা হয়নি। এজন্য তাদের ভাগ্যে জোটেনি বলেন তিনি।

এবিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মতিনুর রহমান বলেন, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রতিবন্ধীদের মানবিক সহায়তার জন্য সরকার ও কোন জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে কোন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিবন্ধীদের সাহায্য সহায়তা করতে মন চায়। কিন্তু উপায় নেই বলে আপেক্ষ করেন এই কর্মকর্তা।
এব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় মানবিক সহায়তার জন্য ‘জিআর’ প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ইউপি চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রদের মানুষের ঘরে ঘরে চাল ও ডাল পৌঁছে দিতে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ