তানোরে কর্মীসভায় যুবমৈত্রী নেতাদেরকে কৃষকের পিটুনি || পুলিশের হস্তক্ষেপে রক্ষা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৭, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

তানোর পৌর প্রতিনিধি


রাজশাহীর তানোরে ওর্য়াকার্স পার্টির কর্মীসভায় নেতাদেরকে স্থানীয় কৃষকরা গণপিটুনি দিয়ে আটক রাখার ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতাদের উদ্ধার করে। গত সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার মাদারীপুর বাজারে ঘটনাটি ঘটেছে। এনিয়ে যুবমৈত্রীর নেতাদের সমন্ধে এলাকায় বিরুপ মন্তব্য বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিগত তিন বছর আগে উপজেলা যুবমৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক শিমুল আহম্মেদ ও জেলা যুবমৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক মাইনুল উপজেলার কামারাগাঁ ইউনিয়ন এলাকার মাদারীপুর গ্রামের খলিল ও মতিউরের কাছ থেকে বিএমডিএর গভীর নলকূপের অপারেটর পদে নিয়োগের জন্য ৪০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু খলিল ও মতিউর গভীর নলকূপের অপারেটর পদে আজও নিয়োগ পান নি। যার ফলে নিরুপাই হয়ে গত দু’সপ্তা আগে শিমুল আহম্মেদের বিরুদ্ধে তারা তানোর থানায় অভিযোগ দেন।
এ অবস্থায় সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টায় উপজেলার মাদারীপুর বাজারে ইউনিয়ন ওর্য়াকাস পার্টির কর্মী সভা শুরু হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলার পবা উপজেলার ওর্য়াকাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা কমিটির অন্যতম সদস্য কমরেড় আবদুল মান্নান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন তানোর উপজেলা যুবমৈত্রীর সভাপতি আবু-বক্কর ও সাধারণ সম্পাদক শিমুল আহম্মেদ ছাড়াও তানোর পৌর যুবমৈত্রীর আহবায়ক আবদুল জলিল।
নিজের এলাকায় বেশ কিছুদিন পর শিমুলকে দেখতে পেয়ে খলিল ও মতিউর তার লোকজন নিয়ে সভাস্থলে হাজির হন। সভা শেষ হবার একপর্যায়ে রাত অনুমান সাড়ে ৭টার দিকে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে শিমুল ও উপজেলা যুবমৈত্রীর সভাপতি আবু-বক্করকে পিটুনি দেন খলিল ও মতিউর। পরে টাকা আদায়ের জন্য তাদের আটক রাখা হয়। খবর পেয়ে তানোর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু রায়হান সরদার তার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এসময় পুলিশ খলিল ও মতিউরের কাছে বিস্তারিত জেনে আটক শিমুল ও অন্যান্য নেতাদের উদ্ধার করেন। পরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরহাদের নেতৃত্বে বিষয়টি মীমাংসা হয়।
এনিয়ে খলিল হোসেন জানান, পেশায় নাইটগার্ড আর দিনে কৃষি কাজ করেন তিনি। তার বন্ধু মতিউর পেশায় কৃষক হলেও বর্তমানে মাইক্রোবাস চালান। তানোর উপজেলার মাদারীপুর গ্রামে তাদের বসতবাড়ি। গ্রামে অবস্থিত বিএমডিএর গভীর নলকূপের অপারেটর হবেন তারা। এজন্য বিগত দিন বছর আগে পূর্ব পরিচিত তানোর উপজেলা যুবমৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক শিমুল আহম্মেদের সরণাপন্ন হন। শিমুল তাদেরকে অপারেটর নিয়োগ দেবার নামে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু আজও অপারেটর পদে নিয়োগ পান নি তিনি ও তার বন্ধু মতিউর। নিরুপাই হয়ে তারা শিমুল ও তার নেতাদের পিটুনি দিয়ে আটক করে রাখেন।
এ বিষয়ে উপজেলা যুবমৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক শিমুল আহম্মেদ জানান, বিএমডিএর গভীর নলকূপে অপারেটর পদে নিয়োগের জন্য খলিল ও মতিউরের কাছে টাকা নেয়ার বিষয়টি সত্য। টাকা নিলেও তিনি আত্মসাৎ করেন নি। জেলা যুবমৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক মাইনুল ও তানোর উপজেলা যুবলীগের এক প্রভাবশালী নেতা টাকাগুলো হাতিয়ে নেন। এজন্য তিনি এখন অপমানিত ও অপদস্ত।
এনিয়ে জেলা যুবমৈত্রীর সভাপতি মনিরুদ্দিন আহম্মেদ পান্না বলেছেন, তানোর উপজেলা যুবমৈত্রীর সভাপতি আবুবক্কর ও সাধারণ সম্পাদক শিমুল আহম্মেদকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য বহিষ্কার করা হয়। তারা কোন অপকর্ম করলে তাদের শাস্তি পেতে হবে। তাদের কুকর্মে যুবমৈত্রী দায়বদ্ধ নয়।
জানতে চাইলে তানোর থানার উপপরির্দশক (এসআই) আবু রায়হান সরদার জানান, খবর পেয়ে তিনি সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক নেতাদের উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয়ভাবেই তারা আপোষ-মীমংসা হবে মর্মে পুলিশ তাদের উভয়পক্ষকে সুযোগ দেন বলে জানান এই পুলিশ অফিসার।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ