তানোরে গাছে গাছে আমের গুটির সমারোহ || চাষিদের মুখে হাসি

আপডেট: মার্চ ৩১, ২০১৭, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

লুৎফর রহমান, তানোর



রাজশাহীর তানোরে গাছে গাছে আমের গুটিতে ভরে উঠেছে। গাছে গুটির সমারোহে চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। আমের সবুজ গুটিতে এখন শোভা পাচ্ছে গাছগুলো। কোন কোন গাছে পাতা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। আম চাষিরা গাছ ও গুটির যতেœ ব্যস্ত সময় পার করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছরের চেয়ে এবার আমের উৎপাদন ভালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উপজেলার ৩৬০ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। আম গাছের পরিমাণ প্রায় ৩৩ হাজার। গত বছর আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ৮শ মেট্রিক টন। এবারে এখন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ না করা হলেও যে হারে গুটি দেখা যাচ্ছে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গতবারের চেয়ে দিগুণ আম উৎপাদন হবে বলে ধারাণা করছে কৃষি অধিদফতর।
এবারে মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়াগত কারণে পর্যাপ্ত মুকুল আসতে দেরি হলেও প্রতিটি গাছে এখন আমের গুটিতে ভরপুর। তবে বড় আকারের গাছের চেয়ে ছোট ও মাঝারি গাছে বেশি গুটি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে এবার আম গাছে ভালো আমের গুটি দেখা যাচ্ছে। আর তার সঙ্গে দেখা দিয়েছে আম চাষিদের চোখে রঙ্গিন স্বপ্ন।
উপজেলার একাধিক চাষি জানান, মুকুল বের হতে যে তাপমাত্রা প্রয়োজন, বাতাসে সে তাপমাত্রা ছিল। ফলে আম গাছে বেশি গুটি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আবার হঠাৎ করে তাপমাত্রা বেড়ে গেলে গুটির স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্টের আশঙ্কা দেখা দিবে। যার কারণে আমের ফলন ব্যাহত হতে পারে। মৌসুমের শুরুতেই তানোরে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলন হবে বলে ধারণা করছে আম চাষিরা। তাই আম চাষিদের মুখে হাসি ও মনে লেগেছে আনন্দের ঢেউ।
উপজেলার কামারগাঁ ইউপির শ্রীখন্ডা গ্রামের আমচাষি আলমগীর হোসেন জানান, আম গাছে প্রচুর পরিমান গুটি ধরতে দেখা যাচ্ছে। মুকুল আসার আগে থেকেই আম বাগানের পরিচর্যা করেছেন তিনিসহ এ অঞ্চলের অনেক আম চাষিরা। সার গাছের গোড়ায় পানি সেচ বের হওয়া মুুকুলে কীটনাশক ¯েপ্র, বাগান পরিষ্কারসহ বিভিন্ন পরিচর্যায় করেছেন তারা। এখন আবারো গুটি নিশ্চিত করতে ওষধ ¯েপ্র করবেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, এ উপজেলা খরা প্রবণ এলাকা। অন্য উপজেলার চেয়ে অনেক উচুঁ এলাকা হওয়ায় পানির স্তর অনেক নিচে থাকে। ফলে এ অঞ্চলের মাটি অত্যন্ত কড়া। যার কারণে অন্য এলাকার আমের চেয়ে এ উপজেলার আমের স্বাদ একটু বেশি।
এ বিষয়ে তানোর উপজেলার কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, আম গাছে পরিচর্যা নেওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে কৃষকদের। যেকোন সময় এ্যানথাস জোনিত রোগ হতে পারে। এর জন্য প্রতিটি চাষিকে কার্বোডাজিং গ্রুপের ওষুধ ব্যবহার করতে বলা হচ্ছে।