তানোরে চলছে আলু পরিষ্কার পরিছন্নর ও বস্তাজাতকরণের কাজ

আপডেট: মার্চ ২৪, ২০২০, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ

লুৎফর রহমান,তানোর


তানোরে কৃষকের বাড়িতে আলুর স্তুপ-সোনার দেশ

রাজশাহীর শহর থেকে ৩০ কিলমিটার দূরে উপজেলা তানোর। এ উপজেলার মানুষের একসময়ে একমাত্র চাষ ছিল ধান। কিন্তু ধান চাষে বার বার লোকসানের শিকার হওয়ায় কৃষকরা ধান চাষের পরিবর্তে ঝুঁকে পড়েন আলু চাষে।
উপজেলাটি সাতটি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এরমধ্যে পাঁচন্দর, সরনজাই, চান্দুড়িয়া, কামারগাঁ ইউনিয়নসহ তানোর পৌরসভার প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ আলুর আবাদ করে আর্থিকভাবে সফলতা অর্জন করেছেন। মৌসুমের শুরুতে বাড়ির উঠানে উঠানে আলু স্তুপ। প্রতিটি ঘরে চলছে আলু বস্তাজাতকরণ ও বিক্রির জন্য পরিষ্কার করার কাজ। নারী-পুরুষ বাড়ির কিশোর-কিশোরী সবাই আলু নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ আলুর খেত। এরই মধ্যে অনেক চাষি বেশি লাভের আশায় খেত থেকে আলু উত্তোলন করে বাড়ির উঠানে নিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পর তা বস্তাজাত করা হচ্ছে।
তানোর উপজেলার কৃষকদের উৎপাদিত আলুকে কেন্দ্র করে গ্রামে গ্রামে একাধিক পাইকারি ব্যবসায়ী বাড়ি বাড়ি গিয়ে কৃষকদের আলু কিনতে তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন কিংবা চুক্তি করছেন।
উপজেলার শতভাগ কৃষকের মধ্যে ৮০ ভাগ কৃষক আলুর আবাদ করেছেন। গ্রামে যেসব কৃষকের নিজস্ব জমি নেই, তারা অন্যের জমি লিজ নিয়ে আলুর চাষ করেছেন। প্রতিদিন এই উপজেলা থেকে ২০০-৩০০ ট্রাক আলু দেশের বিভিন্ন শহরে সরবরাহ করা হচ্ছে। অন্য বছরের চেয়ে এবার আলুর ফলন যেমন বাম্পার হয়েছে তেমনি দামও বেশ ভালো পেয়েছেন বলে কৃষকদের দাবি।
বর্তমানে প্রতি বিঘা জমিতে ১০০ থেকে ১২০ মণ হারে আলু উৎপাদন হচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে কৃষকরা প্রতি কেজি আলু ২০-২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলেও বর্তমানে প্রতি কেজি আলু তা ১১-১২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
চিমনা গ্রামের আলুচাষি নুরুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে আমার ১২ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেছি। এরই মধ্যে বেশির ভাগ জমির আলু তুলে বিক্রি করে দিয়েছি। প্রতি বিঘা আলু চাষে উৎপাদন পর্যন্ত খরচ হয়েছে ২৬-৩৬ হাজার টাকা আর তা থেকে আয় হয়েছে ৫০-৬০ হাজার টাকা।
অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার আলুর দাম অনেক বেশি পাওয়া গেছে। পুরো মৌসুমজুড়ে আবহাওয়া ভালো থাকায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। আমাদের গ্রামে আলুর চাষ করেনি এমন চাষি খুঁজে পাওয়া যাবে না।
লছিরামপুর গ্রামের কৃষক এনামুল ইসলাম বলেন, আমাদের গ্রামকে আলুর গ্রাম বলা যায়। আমাদের গ্রামের যত মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত তার শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষ কমবেশি আলুর চাষ করে থাকেন। গ্রামের যে লোকটি অন্যের খেতে শ্রম বিক্রি করে খান তিনিও অন্যের জমি লিজ নিয়ে আলুর আবাদ করেছেন।
প্রতিটি বাড়ির উঠানে উঠানে আলু স্তুপ করা আছে। গ্রামে এবার ৫০০-৬০০ বিঘা জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। আমার নিজেরই সাড়ে ১২ বিঘা জমিতে আলুর চাষ রয়েছে। আমাদের গ্রামের উত্তর মাঠে গোলাম রাব্বানী নামের এক চাষি সবচেয়ে বেশি আলুর আবাদ করেছেন। তার এ বছর ৮০ বিঘা জমিতে আলুর চাষ রয়েছে। এবছর আলুর ফলনও বাম্পার হয়েছে, আবার দামও ভালো পাওয়া গেছে। এবার যে দাম পাওয়া গেছে, বিগত ১৫ বছরেও আলুর এমন ভালো দাম পাওয়া যায়নি।
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুল ইসলাম বলেন, চলতি বছর উপজেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ১২ হাজার ৭০০ হেক্টর জমি হলেও চাষ হয়েছে ১৩ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে। এবার আলুর ফলন ও দাম দুই-ই ভালো।