তানোরে ডাসকোর পুকুর খননে পানিবন্দী গ্রামবাসী

আপডেট: মে ৮, ২০১৭, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

তানোর পৌর প্রতিনিধি


রাজশাহীর তানোরে ডাসকো নামের এক বেসরকারি সংস্থার অপরিকল্পিত পুকুর পুনর্খননে গ্রামের অর্ধেক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পুকুরের কাটা পলিমাটি রাস্তায় দায়সারাভাবে ফেলে রাখা। ফলে একপ্রকার বন্দী দশায় দুর্ভোগে জীবন-যাপন করছেন গ্রামের মানুষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভূগর্ভের পানির ওপর চাপ কমাতে ডাসকো নামের এক বেসরকারি সংস্থা তানোর উপজেলার তালন্দ ইউনিয়ন এলাকার আড়াদিঘি পুকুর পুনর্খননের উদ্যোগ নেয়। নামমাত্র টেন্ডার দেখিয়ে সমঝতার নিরিখে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর খনন কাজ শুরু করা হয়। নিয়ম অনুয়ায়ী ৮শ ফিট দৈর্ঘ ও ২শ ফিট প্রস্থ রাখা, ৫ ফিট গভীর করে খনন করা ও কাটামাটি সংরক্ষিত স্থানে রাখতে হবে। কিন্তু এসব নিয়মের কোন কিছুর তোয়াক্কা করা হয় নি।
এনিয়ে আড়াদিঘি গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য সামশুদ্দিন জানান, পুকুরের মাটি কেটে ইচ্ছেমতো রাস্তায় ফেলে যেনতেনভাবে রাখা হয়েছে। গ্রামের সমতল ভূমি হতে এক থেকে দেড় ফিট উঁচু করে কাটা পলিমাটি রাস্তায় ফেলা হয়েছে। ফলে গ্রামের পানি নিষ্কাশন ও যাতায়াত ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কিংবা চেয়ারম্যান পানি নিষ্কাশন ব্যাপারে উদ্যোগ নেয় নি। ফলে গ্রামবাসী তাদের বাড়ি-ঘর ও উঠান বৈঠক নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
আড়াদিঘি গ্রামের সাবেক সদস্য মনির হোসেন জানান, পুকুরের গভীরতা পাঁচ ফিটের জাগয়ায় তিন ফিট থেকে সাড়ে তিন ফিট কাটা হয়েছে। দৈর্ঘ্য ৮শ ফিটের স্থলে ৫শ থেকে সাড়ে ৫শ ফিট ও প্রস্থ ২শ ফিটের স্থলে দেড়’শ ফিট কাটা হয়। এক্ষেত্রে সিডিউল মোতাবেক কাজ করা হয় নি। কিন্তু কাজ সম্পূর্ণ ছাড়াই সংশ্লিষ্টরা খনন শেষ দেখিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, এমন পুকুর পুনর্খননে ব্যয় ধরা হয় ৪০ লাখ ২১ হাজার ৪৭৯ টাকা। এরমধ্যে জনগণের অংশীদারিত্ব থেকে ৮ লাখ ৪ হাজার ২৯৬ টাকা, ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব হতবিল থেকে ৪ লাখ ২ হাজার ১৪৮ টাকা ও ডাসকোর প্রকল্প অনুদান হতে ২৮ লাখ ১৫ হাজার ৩৫ টাকা দেয়া হয়।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রোপাইটার রিপন রহমান জানান, ডাসকোর দেখভালরত কর্মকর্তার নির্দেশে কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। এখন বৃষ্টির পানিতে পুকুরে পানি জমেছে। ইচ্ছা করলেই খনন কাজ শুরু করা সম্ভব নয় বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।
এনিয়ে ডাসকোর জেলা সমন্বয়কারী বন্দনা রাণীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংশ্লিষ্ট পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে সংযোগ বিছিন্ন করে দেন।
এ বিষয়ে তালন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জানান, গ্রামের পানি নিষ্কাশন ও রাস্তায় চলাচলের সুব্যবস্থার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তবে পুকুর খননে অনিয়ম ব্যাপারে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হন নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ