তানোরে তীব্র শীতে গবাদিপশুর জবুথবু অবস্থা

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২২, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

তানোর প্রতিনিধি:


রাজশাহীর তানোর উপজেলায় তীব্র শীতে গবাদিপশুরা জবুথবু হয়ে পড়েছে। অতি শীতে মানুষ গরম কাপড় পরিধান করলেও গবাবি পশুদের সে রকম কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না মালিকরা। ফলে অতি শীতে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে গবাদি পশু বিশেষ করে গরু এবং ছাগল।

তানোর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এ রকম চিত্র দেখা গেছে। পাশাপাশি কনকনে ঠান্ডায় চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন তানোর পৌর সদরের শিবদীর সংলগ্ন বসবাসরত শীতলি পাড়া কুঠিপাড়া,তানোর খাদ্যগুদামের পার্শ্বের পাড়ের ছিন্নমূল মানুষ ও জেলেরা।

এই সব ছিন্ন মূল মানুষের চাহিদার তুলনায় গরম কাপর না থাকায় খড় কুটা দিয়ে আগুন জালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছে ছিন্নমূল মানুষ। নিজেদেরকে শীতের কবল থেকে রক্ষা করার জন্য নানা ভাবে চেষ্টা চালিয়েও গরম কাপড়ের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে নিম্ম আয়ের সাধারন মানুষ।

এছাড়াও তীব্র শীতে মানুষের পাশাপাশি কাতর গবাদিপশুরা। এদিকে তানোর উপজেলার ছিন্নমূল মানুষ তাদের এই কষ্টের মধ্যেও তাদের পোষা প্রাণিদের শীত নিবারনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

তাদের থেকেও জরুরি হয়ে পড়েছে এসব প্রাণিদের শীত নিবারন করা। উপজেলার সকল স্থানে দেখা যায় গরু ছাগলকে শীত নিবারণের জন্য পাটের বস্তা গায়ে পড়িয়ে রাখতে।
এনিয়ে কথা হয় মুণ্ডুমালা হাট, চিমনা,কৃষ্ণপুর, জিতপুর, উচাডাঙ্গা, খাড়িকুল্লা এলাকার স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ও গরু পালনকারীদের সাথে তারা বলেন, শীতের সময় কষ্ট শুধু মানুষের না। এই কষ্ট পশু পাখিরও। বরং মানুষের থেকে পশু-পাখির কষ্ট আরও বেশি হয়। কারণ, মানুষ অনেক পোশাক পড়তে পারে। কিন্তু পশু পাখি পারে না।

তারা আর বলেন, আমাদের যেমন শীত লাগে, এবং শীতে যেমন আমরা গাঁয়ে চাদর, কম্বল,কিংবা জ্যাকেট ব্যবহার করি তেমনি পোষা প্রাণীদের ও শীত আছে, তাই আমরা এদের যত্ন নেই, এবং তাদের শীত নিবারনের জন্য পাটের বস্তা গায়ে দিয়ে রাখি। কারণ, গবাদিপশু আমাদের অনেক উপকার করে। তাই তাদের দিকেও সবাইকে উচিৎ মানুষের মতই খেয়াল রাখা।

এনিয়ে সাদিপুর গ্রামের নাসিমুল ইসলাম জানান, আমার গরুর গোয়াল ঘরের মধ্যে খড় বিছিয়ে রেখেছি। এছাড়াও গরুর শরীরে বস্তা গায়ে পড়িয়ে (ঝুল) করে দিয়েছি। মাঝে মধ্যে রাতে গোয়াল ঘরে গিয়ে খোজখবর রাখি। এভাবেই আমি গবাদিপশু গুরুর দিকে লক্ষ রাখি। কারণ তারা আমাদের মতোই রক্তমাংসের প্রাণি।