তানোরে ধানে কারেন্ট পোকার আক্রমণ, বিপাকে চাষি

আপডেট: জুন ৫, ২০২০, ১০:০৬ অপরাহ্ণ

লুৎফর রহমান, তানোর:


তানোরে কারেন্ট পোকা দমন করতে খেতে স্প্রে করছেন এক কৃষক- সোনার দেশ

করোনা আতঙ্কের মধ্যেই তানোরে বোরো ধান কারেন্ট পোকার হাত থেকে রক্ষা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চাষিরা। রাজশাহীর তানোর উপজেলায় বোরো ধানে ব্যাপক হারে কারেন্ট পোকাসহ নানা ধরনের পোকার আক্রমণ শুরু হয়েছে।
উপজেলায় বোরো ধানের চাষ হয় দুই ভাগে। ইতোপূর্বেই প্রথম ধাপের বোরো ধান কাটা মাড়াই শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায় বলতে আলুর উত্তোলনের পর রোপণ করা বোরো ধান কাটার পর্যায়ে আছে।
শুক্রবার (৫জুন) দুপুরে চিমনা মোহর যোগীশোসহ উপজেলার বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা যায়, দুপুরে কারেন্ট পোকা থেকে ফসলকে রক্ষা করতে বিষ স্প্রে করছেন চাষিরা।
আবার আম্পানের ঝড়ে শীষে শীষে ঘর্ষণ লেগে কালো আকার ধারণ করেছে জমির ধান। এতে করে ফলনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন চাষিরা। তবে এ পোকার থেকে রক্ষা পেতে কৃষি অফিসের সুপারভাইজাররা জমিতে গিয়ে কৃষকদের নানা পরামর্শ দিচ্ছেন।
জানা গেছে, এ উপজেলার মানুষের প্রধান আয়ের উৎস ধান। ধান চাষে দেশের মধ্যে অন্যতম প্রধান অঞ্চল হিসেবে পরিচিত উপজেলাটি। খাদ্যের ঘাটতি মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধান যায় এ উপজেলা থেকে। ধান চাষের পরে হয় আলু চাষ। বিগত বছরগুলোতে ধানের দাম না পেয়ে হতাশায় ভুগছিলেন এলাকার কৃষক।
যারা আম্পানের ভারি বর্ষণের আগে পোকা দূর করতে কীটনাশক দিয়েছিলেন তাদের জমিতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ কিছুটা কম।
যোগীশো গ্রামে রফিকুল ইসলাম, গোলাম রাব্বানী, চিমনা গ্রামের রবিউল ইসলামসহ একাধিক চাষি জানান, কম বেশি উপজেলার প্রায় জমির ধান কারেন্ট পোকার আক্রমণের মুখে পড়েছে।
এছাড়াও ধানতৈড় গ্রামে ফজলুর জানান, দুই বিঘা জমিতে ধান রোপণ করে একাধিকবার বিষ স্প্রে করেও কোনো কাজে আসছে না। কৃষি দফতর থেকে পরামর্শ নিচ্ছি, কিন্তু তাতেও কোনো আশার আলোর দেখা পাই নি।
কৃষ্ণপুর গ্রামের মশিউর রহমান জানান, দোকানিদের পরামর্শে জমিতে কীটনাশক দিই। একটাতে কাজ না হলে আরেকটা দিচ্ছে। তাদের কথামত দেয়া হচ্ছে বিষ।
প্রাণপুর গ্রামের কামরুজ্জামান বলেন, ৭ বিঘা জমিতে ধান কারেন্ট পোকার আক্রমণ থেকে বাচাঁতে কয়েকবার বিষ স্প্রে করেছি, কোনো কাজেই আসছে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুল ইসলাম জানান, এবারে উপজেলায় ১৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। ইতোপূর্বে আগাম জাতের বোরো ধান কৃষকরা ঘরে তুলেছেন এবং ফলনও ভালো পেয়েছেন।
তবে আলুর জমির ধান এখনো কাটা মাড়াই সে ভাবে শুরু হয়নি। আর আলুর জমিতে সাধারণত একটু বেশি কীটনাশক স্প্রে করতে হয়। কেননা দেরিতে ধান রোপনের ফলে জমির ধানে পোকার আক্রমণ বেশি হয়। আমরা চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। তবে এর মধ্যে কৃষকরা ভাল ফলন ও ভাল দাম পাবে বলে দাবি করেন তিনি।