তানোরে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির || আতঙ্কিত না হতে প্রশাসনের মাইকিং

আপডেট: মার্চ ২৩, ২০২০, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

তানোর প্রতিনিধি


করোনা আতঙ্কে সারা দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কেনাকাটা বেড়ে যাওয়ায় তানোর বাজারে বেড়ে গেছে নিত্যপণ্যের দাম। চালের বাজারে বড় ধরনের প্রভার লক্ষ করা গেছে। খুচরা বাজারে বস্তাপ্রতি চালের দাম বেড়েছে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত। পাশাপাশি কিছু দিন আগেও যে পেঁয়াজের দাম কমতে কমতে ৪০ টাকায় নেমে এসেছিল সেই পেঁয়াজ কোথাও কোথাও ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
তবে প্রশাসনের তরফ থেকে বাজারমূল্য স্বাভাবিক রাখতে নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করায় ব্যবসায়ীদের জরিমানাও করা হচ্ছে। তবে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এই অপতৎপরতা চালানোর সাহস পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানুষকে আতঙ্কিত না হতে বারবার অনুরোধ জানানো হচ্ছে এবং বাজারে কোনো পণ্যের সঙ্কট নেই বলে আশাস্ত করে মাইকিং করা হচ্ছে।
তানোরে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্তের কোনো খবর পাওয়া না গেলেও দেশব্যাপী আক্রান্তের খবরে ঝুঁকি বাড়তে থাকায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আতঙ্কিত মানুষ নিত্যপণ্য মজুদ করতে কেনাকাটার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছে।
তানোর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সারোয়ার হোসেন জানান, গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে বাজারে নিত্যপণ্যের দোকানগুলোতে ঈদের আগের রাতের মতো ভিড় জমে যায়। মানুষ চাল, ডাল, আটা, চিনি, সাবানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে যায়। একই অবস্থা দেখা যায় মুণ্ডুমালা পৌর বাজার, কালিগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে।
কাঁচামালের দামও এক লাফে দ্বিগুণ হয়ে যায়। বাজারে চালের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি গড়ে পাঁচ টাকা দরে। শুধু উপজেলা পর্যায়েও একই দশা নয় গ্রাম পর্যায়েও এর প্রভাব পড়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে তানোরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলেও তা অপ্রতুল।
তানোর উপজেলার নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতো জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের আমদানি-রফতানি স্বাভাবিক রয়েছে। বাজারে কোনো পণ্যের ঘাটতি হয়নি। কেউ অতি উৎসাহী হয়ে পরিস্থিতি খারাপ করবেন না। বাজার পরিদর্শনে কাউকে অনিয়ম বা অন্যায়ের সাথে জড়িত থাকতে দেখলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।