তানোরে নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর হাসপাতালে মৃত্যু, স্বামী পলাতক

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৭, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

তানোর পৌর প্রতিনিধি


রাজশাহীর তানোরে নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের পর গতকাল শনিবার সাড়ে ১১টার দিকে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জরুরি বিভাগে নেন স্বামী। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসককে জানানো হয় বিষপান করেছে তার স্ত্রী। চিকিৎসক বিষপানের চিকিৎসা শুরু করলে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় বলে জানান স্বামী। এমন উলোট-পালোট কথা শুনে চিকিৎসক তার স্বামীকে ধমক দেন।
এ ঘটনার কয়েক সেকেন্ড পর স্ত্রীর মারা যাবার খবর শুনে স্বামী হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনা নিয়ে মৃতার চাচা রিন্টু বাদি হয়ে শনিবার দুপুরে থানায় অভিযোগ করেছেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে থানায় ইউডি মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে, শনিবার বিকেল ৫টার পর্যন্ত নিহতের লাশ হাসপাতালের বারান্দায় রেখে এক লাখ টাকায় সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান হাসপাতালে বসেই দফারফা করেছেন বলে সেখানে অবস্থানরত এক কর্মচারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে, এনিয়ে চেয়ারম্যান আবদুল মালেক বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে মৃতব্যক্তির পরিবারের লোকজন মিমাংসা চেয়েছেন। এ কারণে তিনি হাসপাতালে বসে মিমাংসার কথা পাকা করেছেন। লাশ দাফনের সপ্তাখানেক পর টাকা লেন-দেন হবে বলে জানান এই জনপ্রতিনিধি।
অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তানোর পৌর এলাকার পিন্টু আলীর ১৪ বছরের মেয়ে শ্যামলীকে ১১ মাস আগে বিয়ে করেন উপজেলার শিধাইড় গ্রামের আনারুলের ১৬ বছরের ছেলে মোহাম্মদ রকি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্বামী-স্ত্রী মিলে কেন্দ্রে গিয়ে সমিতির কিস্তির টাকা দেন। এরপর রাস্তা দিয়ে যাবার সময় এক ছেলেকে দেখে স্ত্রী শ্যামলী মুসকি হাসেন। তার হাসি দেখে স্বামী রকি হাসির কারণ জানতে চেয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকেন। এসময় রকির বাবা আনারুল মাছ ধরতে বাড়ির বাইরে ছিলেন। কিন্তু রকির মা আগে থেকেই ঢাকায় গার্মেন্টেসে চাকরি করার সুবাদে বাড়িতে ছিলেন না। শ্যামলীর দেবর শাকিল ঘটনার ঘণ্টা দুয়েক পর প্রতিবেশীদের জানান, তার ভাবী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পরে স্বামী রকি তার স্ত্রীকে অচেতন অবস্থায় ভ্যানযোগে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জরুরি বিভাগে নেন। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শ্যামলীকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক রেহেনা পারভীন বলেছেন, হাসপাতালে নেয়ার আগেই শ্যামলী মারা যান। তবে, রোগির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। আত্মহত্যা না কী হত্যা এ সম্পর্কে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া বলা সমুচীন নয়।
জানতে চাইলে শ্যামলীর চাচা রিন্টু জানান, তার ভাতিজি শামলীকে মনে হয় নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তা না হলে জামাই পালিয়ে যাবে কেন? এ ঘটনায় বাদি হয়ে জামাই রকির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল ইসলাম বলেছেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক অবস্থায় ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মৃতের স্বামী রকি পলাতক থাকায় বিষয়টি হত্যা না কী আত্মহত্যা তা নিশ্চিত হবার জন্য ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া বলা সম্ভব নয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ