তানোরে প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত || বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে দ্বন্দ্ব

আপডেট: আগস্ট ৩১, ২০১৭, ১:২৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহীর তানোর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিতের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুস সাত্তারের নেতৃত্বে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমানকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এবং অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। বিষয়টি নিরসনের জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুন পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবার ফলে আগামি নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে এডহক কমিটি গঠন করা হয়। গত ১ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, রাজশাহীর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা অনুমোদন করে। বিধি অনুযায়ী চার সদস্যের এ এডহক কমিটি ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচনে সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে।
কিন্তু আকস্মিকভাবে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে গত ৮ আগস্ট সহকারী শিক্ষক আবদুস সাত্তার সংশ্লিষ্টদের অবহিত না করে খসড়া ভোটার তালিকা এবং ১৬ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকার জন্য রেজুলেশন তৈরি করেন। এরপর তিনি তা অনুমোদনের জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমানের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। রেজুলেশন তৈরির বৈধ কোন ব্যক্তি না হবার কারণে এবং বিধি না মানায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনুমোদন করতে অস্বীকৃতি জানান।
এদিকে এ ঘটনার পর গত ২৯ আগস্ট সহকারী শিক্ষক আবদুস সাত্তার তার লোকজন নিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমানের ওপর চড়াও হন। এসময় তাকে রেজুলেশন অনুমোদনের জন্য আবারো চাপ দেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তা অনুমোদন না করলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। তবে আবদুস সাত্তার এসময় ভয়ভীতি দেখিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অব্যাহতিপত্রে জোর করে স্বাক্ষর করে নেন। এরপর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান বলেন, এ ঘটনার পর থেকে আমাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমি নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছি। আগামী দু’একদিনের মধ্যে আমি সংশ্লিষ্ট তানোর থানায় লিখিত অভিযোগ করবো।
অভিযোগের ব্যাপারে সহকারী শিক্ষক আবদুস সাত্তার বলেন, বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে। লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঠিক না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বিধিসম্মতভাবে চলবে এটাই আমার প্রত্যাশা।
এ ব্যাপারে তানোর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, চাপ সৃষ্টি করে রেজুলেশন অনুমোদনের বিষয়টি বিধিসম্মত নয়। আর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করাটাও ঠিক হই নি। একারণে বিদ্যালয়ে পাঠদানের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে আমি উভয়পক্ষকে ডেকে বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ