তানোরে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ

আপডেট: এপ্রিল ১৮, ২০১৭, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

লুৎফর রহমান, তানোর


রাজশাহীর তানোরে দিনে-রাতে পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎ মিলে ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা বদ্যুৎ থাকছে। বিদ্যুতের এই ভেলকিবাজিতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বৈশাখের তীব্র ভ্যাপসা গরমে মানুষ যখন অতিষ্ঠ ঠিক তখনই বিদ্যুতের লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। ফলে ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, কলকারখানার মালিকসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন কারখানার মালিকেরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে বিভিন্ন কারখানার উৎপাদন অর্ধেকে নেমে গেছে। মোকামে উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা থাকলেও তা সরবরাহ করতে না পারায় মোকামগুলোতে মোটা অঙ্কের টাকা বাঁকি পড়ছে। সারাদিন রাতে গড়ে মাত্র ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে। বিদ্যুতের অভাবে জেনারেটর দিয়ে কারখানা চালিয়ে প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে মালিকদের।
এএম কোল্ড স্টোরেজের ম্যানেজার জালাল উদ্দিন জানান, গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে যেভাবে বিদ্যুতের লোডশেডিং শুরু হয়েছে তাতে এই গরমে আলু টিকিয়ে রাখা মুশকিল হয়ে পড়েছে। জেনারেটর চালিয়েও কূল পাচ্ছেন না তারা। এভাবে যদি বিদ্যুতের লোডশেডিং চলতে থাকে তা হলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাদেরকে। গত ৫ বছরেও এমন লোডশেডিং দেখা দেয় নি এই উপজেলায়।
উপজেলার কচুয়া গ্রামের গভীর নলকূপ অপারেটর আবদুল লতিব বলেন, তার নলকূপ অধীনে প্রায় দেড়শ বিঘা জমিতে বোরো খেতের আবাদ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে উঠে যাওয়া আলুর জমিতে এসব বোরো ধানের আবাদ করা হয়। দুই সপ্তা ধরে যেভাবে লোডশেডিং দেখা দিয়েছে তাতে বোরো আবাদে সেচ ব্যবস্থা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। দুই-এক দিনের মধ্যে বিদ্যুতের সমাধান না হলে পুরো বোরো খেত নষ্ট হয়ে যাবে। তার মতো বেশ কয়েকজন নলকূপ অপারেটর একই কথা জানান।
চাল ব্যবসায়ী ও মিল মালিক জুয়েল রানা জানান, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে চাতালের চাল উৎপাদন অনেকাংশে কমে গেছে। ভরা এই মৌসুমে ব্যবসা করতে না পারলে সারা বছর ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।
এদিকে সারাদিনের তীব্র গরমে অতিষ্ঠ মানুষ সন্ধ্যায় বাড়ি গিয়ে রাতে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। গত কয়েকদিন থেকে দিন রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে বিদুতের লোডশেডিং চলায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। বাড়ির স্কুল পড়–য়া ছেলে-মেয়ে আর বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
অপরদিকে, বিদ্যুতের এই ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে বাসা-বাড়ি ও দোকানের বিভিন্ন মূল্যবান ইলেট্রোনিক জিনিসপত্র যেমন টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, ফটোকপি মেশিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও লোডশেডিংয়ের কারণে চলতি বোরো মৌসুমে সেচ ব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়েছে। যে কোন সময় সেচ সঙ্কটের কারণে মাঠের খেত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের তানোর জোনাল অফিসের এজিএম সামসুজ্জোহা আনসারী বলেন, চাহিদা অনুপাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় এ ধরনের লোডশেডিং হচ্ছে। গত কয়েক দিন আগে এখানকার ফিডারের অধীনে মোট বিদ্যুতের চাহিদা ১৫ মেগাওয়াট থাকলেও বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে মাত্র ৬ মেগাওয়াট। যার ফলে লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে দুই-এক দিন এ ধরনের লোডশেডিং নেই বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ