তানোরে বৃষ্টির অভাবে হুমকির মুখে আমন চাষ

আপডেট: জুলাই ৪, ২০১৭, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

তানোর প্রতিনিধি


আষাঢ়ের ১৯ দিন পার হলেও কৃষি নির্ভর এলাকা রাজশাহীর তানোরে দেখা মিলছে না কাক্সিক্ষত বৃষ্টির পানি। ফলে আমন চাষ নিয়ে হুমকির মধ্যে পড়েছেন উপজেলার কৃষকরা। ফলে একপশলা বৃষ্টির পানির জন্যে চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে কৃষকরা।
বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কোন জমিতে তিল পরিমাণ পানি জমে নেই। জমিও চাষ করতে পারছেন না কৃষকরা। আমন চাষ হয় বৃষ্টির পানিতেই। সেই বৃষ্টির ছিঁটে ফোটা পানি পাচ্ছে না কৃষকরা। যার ফলে আমন চাষ ব্যাপক হুমকির মধ্যে পড়েছে। এদিকে বীজতলার বীজ রোপণেরও সময় হয়ে পড়েছে। যেসব জমিতে আলুর আবাদ ছিল না, ওসব শুকনো জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করছেন কৃষকরা। যাতে করে বৃষ্টি হলেই জমিতে লেগে থাকে পানি।
কৃষকরা জানায়, আষাঢ় মাসে ব্যাপক বৃষ্টি হয়। বৃষ্টির পানিতে জমির মাঠগুলো পানিতে থই থই করে। কিন্তু জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের কারণে সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না বৃষ্টির পানি। এসময় জমি চাষে পড়ে হিড়িক। খাওয়ার সময় থাকে না কৃষকদের। চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে বৃষ্টির পানির অপেক্ষা। কখন আসবে রহমতের বৃষ্টি।
উপজেলার উঁচু নিচু জমি রয়েছে বাধাইড়, মুন্ডুমালা ও কলমা ইউনিয়ন এলাকায়। এসব এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে শুকনো জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে দিচ্ছেন চাষ। প্রায় জমি চাষহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বৃষ্টি না হওয়াতে ওই এলাকার কৃষকদেরও কপালে ভাজ পড়া শুরু হয়েছে। এলাকার কৃষকদের ভরসা আমন আবাদ। আষাঢ় মাস মানেই বৃষ্টির পানির মাস।
এছাড়াও তালন্দ, সরনজাই, পাঁচন্দর ও তানোর পৌর এলাকায় এখনো বোরো ধান কাটা মাড়াই চলছে। যেসব জমিতে আলু লাগানো ছিল ওইসব জমির ধান এখনো উত্তোলন হচ্ছে। এক কথায় আলু উত্তোলন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষকের পিছু ছাড়ছে না।
এদিকে তানোরে হয় নি আউশ চাষ। তারপরও তিল পরিমাণ জমিতে আউশের চাষাবাদ না হলেও উপজেলা কৃষি দফতর ছয় হাজার হেক্টর জমিতে আউশ চাষ হয়েছে মর্মে রিপোর্ট দিয়েছে। মূলত আউশ চাষ হয় তানোর পৌর এলাকায়। কারণ বিলের জমি থেকে বোরো ধান কেটে আউশ চাষাবাদ করা হয়। উল্টো বিনামূল্যের আউশ প্রণোদনা তানোর পৌরসভার কৃষকদের ভাগ্যে জোটে নি। এজন্যে পৌর এলাকার কৃষকরাও আউশ চাষ করেন নি। তারপরও কৃষি দফতর বলছে, ছয় হাজার হেক্টর জমিতে হয়েছে আউশ চাষ।
এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, রাজনীতির গ্যাড়াকলে পৌর এলাকার কৃষকরা পাই নি প্রণোদনা। পৌর এলাকার কৃষক বাবু সরদার মিনারুল মাহাতাব জানান, পৌর এলাকার বিলের জমিতে হয় আউশ চাষ। কিন্তু সরকারি প্রণোদনা না পাওয়াতে আউশ চাষের আগ্রহ হারিয়েছে কৃষকরা।
কলমা ইউনিবয়নের কৃষক বদের, পাঁচন্দর ইউনিয়নে এলাকার কৃষক রাজ্জাক, কামরুল, লুৎফর, মুন্ডুমালা পৌর এলাকার কৃষক অসীম জেন্টুসহ কয়েকজন কৃষক জানান, এসময় জমি চাষ করে রোপণের জন্যে তৈরি করা হয়। আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে আমন রোপণের সময়। যেসব কৃষকরা আলু চাষ করবেন তারা এ আষাঢ় মাসেই জমি রোপণ করে থাকেন। কিন্তু বৃষ্টির দেখা না পাওয়ায় জমি রোপণ তো দূরে থাক চাষ করতে পারছেন না। জমিগুলোতে ঘাসে ভরপুর হয়ে আছে। সময়মতো চাষ দিতে না পারলে বিপদে পড়তে হবে বলে জানান তারা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ