তানোরে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশায় চাষীরা

আপডেট: এপ্রিল ১০, ২০২১, ৯:০৩ অপরাহ্ণ

লুৎফর রহমান.তানোর:


শস্য শ্যামলা সবুজ বাংলার কৃষি ভান্ডার হিসেবে খ্যাত উত্তরাঞ্চলের একটি উপজেলা রাজশাহীর তানোর। সেখানের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ চলতি বোরো মৌসুমে চাষাবাদকৃত ধানের ক্ষেত এখন গাঢ় সবুজে পরিণত হয়েছে। দিগন্ত জুড়ে নজর কাড়ছে বোরো ফসলের ক্ষেত। বোরো ধানের সবুজ পাতা দোল খাচ্ছে। কৃষকরা ইতোমধ্যে ক্ষেত পরিচর্যা শেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় সার-কীটনাশক প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে। এতে করে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশায় রয়েছেন চাষীরা।
তানোর উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আবহাওয়ার অনুকূল থাকলে এবারে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের অধিক ফলন উৎপাদন লক্ষ্যে বোরো ক্ষেতে পার্সিং স্থাপন করাসহ নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কয়েক বছরে ধরে ধানের দাম ও ফলন ভালো পাওয়ায় বোরো ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ জুড়ে এখন বোরো ধানের সবুজের সমারোহ।
তানোর কৃষি অফিস সূত্রে জানিয়েছে, এবার তানোর উপজেলায় বোরো ধানের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিলো ১২ হাজার ১৫৫ হেক্টর। বর্তমানে অর্জিত হয়েছে সাড়ে ১৩ হাজার হেক্টর। এতে চলতি বোরো মৌসুমে ৭৯ হাজার ১০৫ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হবে বলে তারা আশা করছেন কৃষি অফিস।
তানোর মু-মালা পৌর এলাকার বোরো ধান চাষি মোজাহার আলী, হোনগুর গ্রামের আবদুল খালেক জানান, আবহাওয়া অনুকূল বা কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে গত বছরের তুলনায় এবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
চিমনা গ্রামের হাবিবুর রহমার, বেলাল উদ্দিন ও গ্রানপুর গ্রামের জাকির হোসেন সুমনসহ একাধিক চাষী জানান, বাজারে বর্তমানে মোটা ধানের দাম এক হাজার ২০০ টাকা। এতে চাষীরা ধানচাষে অধিক মাত্রায় ঝুঁকেছে। বর্তমানে ধানের অবস্থা ভালো। বাজারে সারের অভাব নেই। ভয় শুধু শিলা বৃষ্টি ও ঝড়ের।
চুনিয়াপাড়া গ্রামের জিয়াউর রহমান জানান, তিনি এবার ১০ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছেন। ধানের অবস্থা ভালো। পোকা মাকড়ের আক্রমণ এখন পর্যন্ত নেই।
চিমনা ব্লকের উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, আগে ধানের দাম কম থাকায় চাষিরা ধান চাষ কমিয়ে দিয়ে অন্য ফসল চাষে ঝুঁকেছিলো। চলতি বছরে ধানের দাম ভাল হওয়ায় চাষী ধান চাষ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়াও এবার বৈরি আবহাওয়ার কারণে মসুরসহ কয়েকটি রবিশস্য চাষও ভাল হয়েছে। আবার সেসব জমিতে চাষীরা বোরো চাষ করেছে।
তানোর উপজেলা কৃষি অফিসার শামিমুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বোরো মৌসুমে ধান খেক্ষের অবস্থা অতান্ত ভালো। কোন ধারণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো ফলন হবে বলে আশা করেন তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ