তানোরে বড় ভাই পেটালো ছোট ভাইকে

আপডেট: জুন ২৯, ২০১৭, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ

তানোর প্রতিনিধি


রাজশাহীর তানোর পৌর এলাকার ধানতৈড় গ্রামে বড় ভাই ইসলাম তার স্ত্রী ও ছেলেরা মিলে বেধড়ক পিটিয়েছেন ছোট ভাই মিন্টুকে। ঈদের আগে ২১ জুন ভোরে এ মারপিটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মিন্টু বাদী হয়ে বড় ভাই ইসলাম, স্ত্রী কহিনুর বেগম, ছেলে ইকবাল উদ্দিন ও আবু বক্করের নাম উল্লেখ করে তানোর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। আহত মিন্টুকে তানোর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দুই দিন চিকিৎসা করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার সেখানে গিয়ে দেখা যায় উপজেলা গেট থেকে চাপড়া যাওয়ার মূল রাস্তার ধানতৈড়-গুবিরপাড়া ঈদগাহ্ ময়দানের উত্তরে মিন্টু ও ইসলামের বাড়ি। মূল রাস্তা থেকে কয়েক গজ হেঁটে যেতে হবে তাদের বাড়িতে। মিন্টুর বাড়ীর কাছে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামবাসী ও কমিশনারের কথামতো চলাচলের জায়গা ছেড়ে দিয়ে বাঁশের বেড়া ও সিমেন্টের খুঁটি দিয়ে নিজের সীমানা নির্ধারণ করেন। মিন্টুর বাড়ির পূর্বদিকে ভাই ইসলামের বাড়ি। তিনি দাপট দেখিয়ে ট্রলি যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন। এতে মিন্টু নিয়ম অনুসারে চলাচলের জায়গা ছেড়ে দেন। মিন্টুর মা মইফুন জানান, আমার ছেলেকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে ২১ জুন সাহরী খাওয়ার পর মিন্টুকে বাহিরে ডেকে আমার বড় ছেলে ইসলাম ও নাতীরা মিলে বেধড়ক এলোপাথাড়ি মারপিট শুরু করে। এতে মিন্টুআহত হয়ে মাটিতে পড়ে থাকে। পড়ে থাকা অবস্থায় মিন্টুকে পেটাতে থাকে। আমিও মিন্টুর স্ত্রী কোনক্রমে উদ্ধার করে মিন্টুকে মেডিকেলে নিয়ে যাই। কমিশনার ও গ্রামের লোকজন শালিস বিচার করে সীমানা নির্ধারণ করে দেন। সে মোতাবেক আমার ছোট ছেলে মিন্টু জায়গাটি ঘিরে দেয়। এখন কমিশনারসহ সবাইকে জানানোর পরও শুধু ইসলামের স্ত্রীর অকথ্য গালাগালিজের জন্যে কেউ আসছে না শালিস বিচার করতে।
তার মা আরও জানান, আমার ছোট ছেলে মিন্টুর কোন বড় ছেলে নেই। সে একাই। এইজন্যে যখন তখন আমার বড় ছেলে ইসলাম ও তার ছেলেরা মেরে ফেলার হুমকী দিয়ে যাচ্ছে। আমি চাই আমার বড় ছেলের শাস্তি হোক। তা না হলে আমার ছোট ছেলেকে মেরে ফেলবে। মিন্টু জানান, সকলের কথা মতো চলাচলের রাস্তা ছেড়ে দিয়েছি, তারপরও ইসলামের ট্রলি যাবার রাস্তা দিতে হবে আমাকে। আমার বাড়ির সামনে আরেকটি বাড়ি আছে। সেখানে কোন দাবী-দাওয়া নেই ইসলামের। অযথা গায়ে পড়ে এবং আমাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে সেদিন এলোপাথাড়ি ভাবে মারপিট করে। ঈদের সমস্ত আনন্দ মলিন হয়ে গেছে। তাদের মারপিটের আঘাতে এখনও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় যন্ত্রণায় ভুগছি। যে কোন সময় তারা আমাকে মেরে ফেলতে পারে। থানায় অভিযোগ দেয়ার পরেও কোন কাজ হচ্ছে না।
পুলিশ এসে বিবাদীদের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে অভিযোগের বিষয়ে কোন গুরুত্ব দিচ্ছে না। এনিয়ে ৩নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুরছালিনের কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। বসে সমাধান করা হবে। আপনাকে মিন্টু ও তার স্ত্রী ডেকে পাচ্ছেনা বললে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি। এ নিয়ে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই শরিকুল ইসলামের ব্যক্তিগত মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও রিসিভ করেননি তিনি। তবে ঈদের ছুটিতে রয়েছেন তিনি।
এ ব্যাপারে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্তকারী এএসআই শরিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ