তানোরে যত্রতত্র করাতকল || হুমকির মুখে প্রাকৃতিক পরিবেশ

আপডেট: এপ্রিল ৫, ২০১৭, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

লুৎফর রহমান, তানোর


রাজশাহীর তানোরে সরকারি বিধি ও নীতিমালা উপেক্ষা করে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে অবৈধ করাতকল (স’মিল)। এইসব করাত কল গড়ে উঠায় একদিকে হুমকির সম্মুক্ষীণ হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ অন্যদিকে উজাড় হচ্ছে বন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত, রক্ষিত বন ও সমুদ্র তীরবর্তী এলাকার ১০ কিলোমিটার, পৌর এলাকায় সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী করাতকল নির্মাণ করতে হবে, সকল করাতকল মালিককে লাইসেন্স, প্রতিবছর লাইসেন্স নবায়ন ও রেজিস্ট্রার খাতা তৈরি করতে হবে।
বিগত ১৯৯৮ ও ২০০২ সালে গাছ কেনাবেচার ক্ষেত্রে বিধিমালা ও কিছু সংশোধিত বিধিমালাও প্রণয়ন হয়। বিধিমালায় উল্লেখ্য রয়েছে, বন বিভাগের কর্মকর্তা ছাড়াও প্রশাসনিক কর্মকর্তা যেকোনো প্রয়োজনে করাতকলের কার্যক্রম পরিদর্শন করতে পারবেন। কিন্তু সরকারি ওই বিধিমালা সম্পর্কে তানোরের অধিকাংশ করাতকল মালিকরা অবগত না থাকায় গড়ে ওঠেনি লাইসেন্সধারী করাতকল। প্রায় শতাধিক করাতকল গড়ে উঠলেও অধিকাংশের কোন লাইসেন্স নাই। প্রতিটি করাতকলের লাইসেন্স ফি দুই হাজার ও নবায়ন ফি পাঁচশ টাকা নবায়ন বাধ্যতামূলক হওয়ায় সরকারের প্রতিবছর এখাত থেকে প্রচুর পরিমান রাজস্ব আদায় হচ্ছে। কিন্তু তানোরের অধিকাংশ করাতকলের কোন লাইসেন্স না থাকায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হতে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
এদিকে করাতকল পরিদর্শনের নামে উপজেলা বন কর্মকর্তা দেবাশীষ দে প্রতি করাতকল থেকে এক হাজার টাকা করে অর্থবাণিজ্য করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তানোরের মালারমোড়ে অবস্থিত সরদার স’মিলের এক কর্মচারী বলেন, তাদের প্রতিমাসে ৫শ টাকা ও ছয়মাস পর পর এক হাজার টাকা করে বন কর্মকর্তাকে দিতে হয়। বন বিভাগের কর্মচারী ফণি ভূষণ এসব টাকা উত্তোলন করেন বলে তারা জানান।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, তানোরে সরকারি বিধিমালার তেমন কোন প্রয়োগ না হওয়ায় গাছ কেনা-বেচার ক্ষেত্রে সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে করাতকল মালিকরা অবাধে গাছ কিনছেন। ফলে বেড়েই চলেছে গাছ কাটা। ফলে পরিবেশ হচ্ছে হুমকির সম্মুক্ষীণ। তাছাড়া রেজিস্ট্রার খাতা না থাকায় কোনটি বৈধ বা কোনটি অবৈধ তা যেমন বোঝার উপায় নেই, তেমনি সরকারি কর ফাঁকি দিতেও করাতকল মালিকদের তেমন বেগ পেতে হচ্ছে না। তানোরে বেসরকারি বা ব্যক্তি মালিকানাধীন শিশু, মেহেগনি, ইউকালেক্টর ও ইপিলিপির তেমন কোন বাগান বা মজুদ না থাকলেও তানোরের অধিকাংশ করাতকলেই এসব গাছের বিপুল পরিমাণ কাঠ প্রতিদিনই চেরাই হচ্ছে ও মজুদ রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা বন কর্মকর্তা দেবাশিষ দে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার জানা মতে তানোরে ১৫ থেকে ২০টি স’মিলের লাইসেন্স আছে। আর জনবল সঙ্কটের কারণে আমরা স’মিলগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করতে পারি না। তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের নির্দেশে বিশেষ বিশেষ দিন উৎযাপনে করাতকলগুলোর কাছে থেকে কিছু আর্থিক অনুদান গ্রহণ করা হয় সত্য, তবে এটাকে অর্থবাণিজ্য বলা উচিৎ নয়।