তানোরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি চাষ মশুর ডাল ও সরিষার

আপডেট: ডিসেম্বর ২৭, ২০১৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

লুৎফর রহমান, তানোর



তানোরে চলতি মৌসুমে সরিষা ও মশুর ডালের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে  চাষাবাদ হয়েছে। বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখচ্ছেন এ অঞ্চলে কৃষকরা। এ উপজেলা এবার ব্যাপকভাবে মশুর ডাল ও সরিষা আবাদ হয়েছে। ধান আবাদের চেয়ে মশুর ডাল চাষাবাদ করে কৃষকরা বেশি লাভবান হচ্ছে। তাই তারা অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ার কারণে বোরো ধান চাষাবাদের পাশাপাশি মশুর আবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েছে।
মাঠের দিকে তাকালে চারিদিকে চোখে পড়ার মত দিগন্ত জোড়া হলুদের চাঁদরে ঢাকা সরিষা ও মশুর ডাল। আর হলুদ চাঁদরে ঢাকা এসব সরিষা খেতের পাশে গেলে হলুদ ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য আর মৌ মৌ গুনগুণের শব্দে সেখান থেকে ফিরে আসতে মন চাই না। সরিষা খেতের গাঢ় হলুদ রঙের ফুলে বসেছে কীট-পতঙ্গ আর মৌ-মাছির  মেলা।
তানোর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে তানোরে সরিষা ও মশুর ডাল চাষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমি। এ পর্যন্ত লক্ষমাত্রা ছড়িয়ে চাষ হয়েছে ১৩ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমিতে। গত বছরের চেয়ে এবার ২ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ বেশি হয়েছে। আর মূর ডাল চাষাবাদ হয়েছে ১ হাজার ৫২৮ হেক্টর জমিতে। তবে কৃষি অফিস ধারণা করছে, গত বছরের তুলনাই চলতি বছরে বাম্পার ফলন হবে। আর মশুর ডাল ও সরিষা তেলের দিয়ে এ অঞ্চলের মানুষ চাহিদা মেটিয়ে অন্য এলাকায় বিক্রয় করতে পারছে বলে এ আবাদ করছে কৃষরা বলে জানান কৃষি অফিস।
এক সময় উপজেলার মানুষের কাছে সরিষার তেলই ছিল একমাত্র ভোজ্য তেল। এই সরিষার তেল ছিল শরীরে মাখাসহ নানা রকম তরি-তরকারি রান্না ও পিঠাপুলি ভাজার অপরিহার্য উপরকণ। যুগ যুগ ধরে আমাদের দেশের মানুষ ভোজ্য তেল হিসেবে সরিষার তেল ব্যবহার করে আসছে। স্বাধীনতা পরিবর্তী সময়ে ভোজ্য তেল হিসেবে প্রবেশ ঘটে বিদেশি সোয়াবিন ও পাম তেলের। দামে সস্তা সহজ লভ্য হওয়ায় এই তেল সহজে জায়গা করে নেয় সরিষার তেলের স্থানে। উঠে আসে ভোজ্য তেলের তালিকার প্রথম সারিতে। সস্তায় সোয়াবিন ও পাম তেলের মত ভোজ্য তেল পাওয়ার সুবাদে ভাটা পড়ে সরিষা আবাদে। ক্রমন্বয়ে সস্তা দরে সোয়াবিন তেল ও পাম তেলের ব্যবহারে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা লাভের আসায় এ সস্তা দরের তেলেও নানা রকম ভেজাল মেশাতে শুরু করে। আর এই ভেজাল তেল খেয়ে মানুষের পেটে পিড়াসহ নানা রকম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই দেরিতে হলেও এলাকার মানুষ ভুল বুঝতে পেরে আবারো সরিষা আবাদের দিক ঝুঁকে পড়েছে। হেমন্তের শেষ ভাগে উপজেলার দিগন্ত জোড়া মাঠের হলুদ চাঁদরে ঢাকা সরিষার খেতগুলো তারই জানান দিচ্ছে।

মু-মালা ও চিনাশো  গ্রামের কৃষক সাহিন  জানান, এবারে ২ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। বিঘা প্রতি মাত্র ২ হাজার ৫’শ টাকা থেকে উর্ধ্বে ৩ হাজার টাকা খরচ হয়। আবাদ ভাল ও কোন প্রতিকূলতা সৃষ্টি না হলে বিঘা প্রতি ৫-৬ মন করে ফলন হবে বলে ধারণা করছি। গত বছর ১ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করে ৪ মন ফলন হয়। সেই জন্য লাভজনক হওয়ায় এবারো সরিষা চাষ করছি। একই এলাকার আরেক সরিষা চিনাশো গ্রামের মশুর ডাল মতিউর রহমান জানান, এবারে ২ বিঘা জমিতে মশুর ডাল চাষবাদ করিছি। এবং মশূর ভালো হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন ভালো হবে বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা  শফিকুল ইসলাম জানান, অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় এ অঞ্চলে কৃষকরা মশুর ডাল ও সরিষা চাষে ঝুঁকে পড়েছে। গত বছরের চেয়ে বেশী মশুর চাষাবা হয়েছে। এবার ভালো ফলন হবে বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাওয়ার ফলে এক দিন বরেন্দ্র অঞ্চল মরু ভুমিতে পরিনত হতে পারে। তার জন্য আমারাও বিভিন্ন জায়গা সভা সেমিনার করে ধানের পরিবর্তে মশুর ডাল, সষিসা, আলু রষুন, পেঁয়াজ চাষাবাদের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি।