তানোরে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যে জড়ানোর অভিযোগ

আপডেট: জানুয়ারি ৮, ২০১৭, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

তানোর প্রতিনিধি  


তানোর উপজেলার স্কুল কলেজগুলোতে শিক্ষা ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিক্ষকরা কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্কুলে গেলেও পাঠদান না দিয়ে শিক্ষকরা ঘরে বসে সময় পার করছেন।  আর ঘড়িতে ১টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্কুল ত্যাগ করে শিক্ষকরা প্রাইভেট কোচিঁংয়ে  চলে আসছেন। ফলে নি¤œমধ্যবত্তি সমাজের শিক্ষার্থীরা স্কুলের পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবক সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা উপজেলা সদরসহ অধিকাংশ মফস্বল বাজারের প্রাইভেট কোচিংয়ের সাথে জড়িয়ে পড়ায়  শিক্ষা ক্ষেত্রে এ অবস্থা দেখা দিয়েছে। তারা আরো বলেন শিক্ষকদের বেতন ভাতা সরকার দ্বিগুন করলেও শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে তারা উদাসিন। তারা নিজ প্রতিষ্ঠানের দিকে লক্ষ না দিয়ে তাদের প্রাইভেট বাণিজ্যে নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। শিক্ষকদের মাঝে রয়েছে ব্যাপক দলাদলি। সকল শিক্ষার্থীকে একের ভেতরে এগার নামের গাইড কিনতে চাপ দিচ্ছেন শিক্ষকরা। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষর্থীদের একের ভেতরে এগার নামের পাঞ্জেরী, অনুপম, জুপিটার, লেকচার উল্লেখযোগ্য। এতে করে দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা পড়েছেন চরম বেকায়দায়। সে জন্যেই অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে তাদের সন্তানদের কোচিং ভর্তি করছেন ও গাইড কিনে দিচ্ছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অধিক প্রাইভেট হোম ও কোচিং সেন্টার হওয়ায় বিদ্যালয়ের চেয়ে শত গুণে এগিয়ে কোচিং সেন্টারগুলো।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, তানোরে নি¤œমাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৯টি। প্রাথমিক বিদ্যালয় ১২৭টি, মাদ্রাসা ২৮টি, কলেজ ১৩টি।  মডেল মাধ্যমিক ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলে রয়েছে প্রায় ২০টি মতো। এছাড়াও অধিকাংশ কলেজগুলোতে প্রায় অধিকাংশ বিভাগে শিক্ষককের চেয়ে শিক্ষার্থীর সংখা অনেক বেশি। আবার অনেক কলেজ রয়েছে যার কোন বিভাগে নেই কোন শিক্ষার্থী। আর কিছু কলেজে প্রতি বিভাগে শিক্ষার্থী থাকলেও পাস করতে পারে না কেউই। তার মধ্যে অন্যতম হলো তানোর মহিলা ডিগ্রী কলেজ। এ কলেজের বিজ্ঞান শাখার কোন শিক্ষার্থী পাস করতে পারে নি।  ওই কলেজে পড়ালেখার চেয়ে দলাদলিতে ব্যস্ত শিক্ষকরা। প্রায় সবাই আসেন শহর থেকে। তানোর মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ইসাহাক আলী বিজ্ঞান শাখার কোনই শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি কথাটি স্বীকার করে বলেন, প্রতি বছর আমার কলেজ ভালো ফলাফল করে। এ বছর খারাপ হলেও আগামীতে ভালো করবে।  এ নিয়ে প্রাথমিক ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল লতিব  ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম জানান,  প্রাইভেট কোচিংয়ের সাথে কোন কোন শিক্ষক জড়িত রয়েছে। আমরা তাদের তালিকা শুরু করেছি। যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষার গুণগত মান ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানান তারা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ