তানোরে শিব নদীতে বোরো চাষ || সবুজ ধানে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন

আপডেট: মার্চ ২১, ২০১৭, ১:২৯ পূর্বাহ্ণ

তানোর প্রতিনিধি



রাজশাহীর তানোরে বোরো ধানে ছেয়ে গেছে শিবনদী। যেদিকে তাকানো যায় শুধু বোরা ধানের সবুজ পাতার হাতছানি। বিলকুমারী বিলের এ সবুজ পাতার সঙ্গে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন।
গতবার দেরিতে বিলকুমারী বিলের পানি নামায় খুব একটা বোরো চাষ করতে পারে নি এখানকার কৃষকরা। আর যারা দেরিতে পানি নামার পর বোরো ধান লাগিয়ে ছিলেন তাদের জমির ধান বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। এর ফলে লোকসানের মুখে পড়তে হয় এখানকার কৃষকদের। এবার বিলকুমারী বিলে গতবারের চেয়ে তিনগুণ বেশি বোরো ধানের চাষ হয়েছে। তবে এবার অনেক আগেই বিলের পানি নামায় বুক ভরা আশা নিয়ে বোরো ধান চাষ করেছে এখানকার কৃষক।
গতকাল সোমবার বিলকুমারী বিলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ ধানের পাতায় ঢেকে গেছে বিলকুমারী বিল। ধানের সমারোহ কৃষকের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে। কৃষকরা বলছেন, বিলের পানি এবার সঠিক সময়ে নামায় সময়মতো বোরো ধান লাগানো গেছে। সঠিক সময়ে তাদের কাঙ্খিত বোরো ধান ঘরে উঠবে বলে আশা করছেন উপজেলার কৃষকরা।
গতবার বন্যার পানি নামতে দেরি হওয়ায় চারবিঘা জমিতে বোরো ধানের ভালো ফলন হয় নি। তবে এবার আগাম বিলের পানি নামায় ছয় বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন তানোর পৌর এলাকার গুবিরপাড়া গ্রামের কৃষক আবদুল হান্নান। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও কৃষি অফিসারের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা সাইফুল্লা আহম্মেদ জানান, এ বছর তানোর উপজেলায় বোরো মৌসুমে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলন শীল বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে রবি মৌসুমে আলুর আবাদ বেশি হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার বোরো আবাদ কম হয়েছে। সঠিক সময়ে সেচ, সার, কীটনাশক দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে আমনের চেয়ে বেশি ফলন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ