তানোরে শিল্পীর তুলির আঁচড়ে প্রতিমা সাজছে প্রতিটি মণ্ডপে

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৭, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

লুৎফর রহমান, তানোর


তানোরে চলছে শেষ মুহূর্তের তুলির আঁচড়-সোনার দেশ

রাজশাহীর তানোরে শেষ মুহূর্তে প্রতিমা শিল্পীর তুলির নিপুণ আঁচড়ে নতুন সাজে সাজছেন দেবী দুর্গা। তুলির আঁচড়ে উদ্ভাসিত মা দেবী দুর্গা বসত গড়ছেন তানোর সদরসহ উপজেলার প্রতিটি গ্রামগঞ্জে, পাড়ায় পাড়ায় মণ্ডপগুলোতে। পুরো বরেন্দ্র এই জনপদ জুড়ে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের মাঝে যেন মায়ের জন্য উৎসবের ধুম লেগেছে। নানা রঙে বর্ণিল আলোক সজ্জায় সাজছে প্রায় প্রতিটি মণ্ডপ। নিজেদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তানোর উপজেলার হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। মণ্ডপে মণ্ডপে এখন চলছে উৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
উপজেলার কারিগররা রাতদিন কঠোর পরিশ্রম করে তৈরি করা মা দুর্গা, লক্ষী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, অসুর, সিংহের মৃন্ময় মূর্তি শিল্পীর নিপুণ তুলির আঁচড়ে জীবন্ত হয়ে উঠছে প্রতিমাগুলো।
পুলিশ ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, তানোরে এবার ৫৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে। এর মধ্যে উপজেলার তানোর পৌরসভায় ১৩টি ও মুণ্ডুমালা পৌরসভায় একটি। তাছাড়াও উপজেলার কলমা ইউনিয়নে তিনটি, পাঁচন্দর ইউনিয়নে চারটি, চাঁন্দুড়িয়া ইউনিয়নে তিনটি, তালন্দ ইউনিয়নে তিনটি, কাঁমারগাঁ ইউনিয়নে ২৫টি, সরনজাই ইউনিয়নে একটি মণ্ডপে পূজা হবে।
২৬ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। ৩০ সেপ্টেম্বর হবে দেবীর বিসর্জন। উপজেলার চাপড়া, কাঁমারগা ও তালন্দের কয়েকজন কারিগরের কারখানায় ঘুরে দেখা গেছে, পূজার জন্য গড়া মায়ের মূর্তি সাজাতে এখন তানোরের মৃৎশিল্পীদের চোখে ঘুম নেই। উপজেলার বিভিন্ন মৃৎশিল্পী পাড়ায় রং তুলির আঁচড়ে প্রাণ পাচ্ছে মায়ের প্রতিমা। পরানো হচ্ছে শাড়ী, গয়নাগাটি। মৃৎশিল্পীদের রংতুলির ছোঁয়ায় জীবন্ত হয়ে উঠছে। সাধারণত কারিগররা এবার বানিয়েছেন দুই ধরনের মূর্তি। এর মধ্যে আছে অজন্তা ধাঁচের মূর্তি। যেগুলো রিয়েন্টাল প্রতিমা হিসেবে পরিচিত। আবার চিরায়ত বাঙালি নারীর রূপের প্রতিমাও আছে।
মৃৎশিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অজন্তা ধাঁচের মূর্তির চাহিদা এখন বেশি। এ ধরনের মূর্তিতে শাড়ি, অলংকার ও অঙ্গসজ্জা সবই করা হয় মাটি ও রঙ দিয়ে। বাংলা প্রতিমায় শাড়ি, অলংকার, সাজসজ্জার উপকরণ আলাদাভাবে কিনে নিতে হয় বলে অজন্তার চাহিদা বেশি বলে জানা যায়। পূজা উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন স্থানের পূজামণ্ডপগুলোতেও এখন চলছে আয়োজনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বানানো হচ্ছে মণ্ডপ, তোরণ। বিভিন্ন জায়গার পাকা মন্দিরগুলো রং আর কাপড়ের বাহারি সাজে সাজছে। গান, নাচ, আরতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটকের মধ্য দিয়ে বর্ণিলভাবে উৎসব পালনের জন্য চলছে বিরামহীন প্রস্তুতি।
দুর্গাপূজা শাস্ত্রীয় রীতি সম্পর্কে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির তানোর উপজেলা শাখার সম্পাদক, পারিশো দুর্গাপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সনাতন ধর্মীয় নেতা রাম কমল সাহা বলেন, এবারে ২৬ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠী, মঙ্গবার থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর বিজয়া দশমী, রোববার পর্যন্ত আর পূজার স্থিতিকাল পাঁচ দিন।
কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের তানোর উপজেলার সভাপতি শ্রী সুনীল কুমার বলেন, শাস্ত্রমতে এবার দেবি আসছে নৌকায় চড়ে, আর ফিরে যাবেন দোলায় করে। তাই দেবী দুর্গাকে বরণ করে নিতে তানোর উপজেলায় চলছে পুরোদমে প্রস্তুতি। তিনি আরও বলেন, তানোর উপজেলায় সবমিলিয়ে ৫৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে। তারা সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। সকলের সহযোগিতায় সর্বাঙ্গীন সুন্দরভাবে পূজা অনুষ্ঠিত হবে বলেই আশা করছি। এদিকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রতিটি মণ্ডপে দুই জন করে পুলিশ সদস্য এবং ৫ থেকে ৭ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। যেসব মণ্ডপ ঝুঁকিপূর্ণ বা বেশি লোকসমাগম হবে, সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরালো করা হচ্ছে। পূজামণ্ডপের আশপাশে সার্বক্ষণিকভাবে বিভিন্ন স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।
এ বিষয়ে তানোর থানার অফিসার আনচার্জ (ওসি) রেজাউল ইসলাম জানান, দুর্গাপূজা ধর্মীয় উৎসবকে মাথায় রেখে আমরা নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজিয়েছি। আশা করছি শান্তি এবং সৌহার্দের মধ্য দিয়েই উৎসবটি সম্পন্ন হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ