তানোরে শ্রমিক সঙ্কটে আলু চাষিরা

আপডেট: নভেম্বর ২৪, ২০১৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ


লুফর রহমান, তানোর
তানোরে শ্রমিক সঙ্কটের করণে আলু চাষিরা বিপাকে পড়েছে। প্রতি বছরে তুলোনায়। গত বছর প্রতি বিঘা জমি আলু রোপন করতে শ্রমিককে দিতে হয়েছিল ১ হাজার থেকে ১হাজার ১শ টাকা। অথচ এ বছর দিতে হচ্ছে ১ হাজার ৫ শ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা। এর পরেও সিরিয়াল দিয়ে আলু  রোপন করতে শ্রমিকের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে চাষিদের।
তবে প্রতি বছরের তুলোনায়। এ বছর চাষিদেরদেরকে বেশি ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যাচ্ছে। যদিও  এবছর বেশি দামে বীজ কিনতে হচ্ছে আলু চাষিদের। কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে আমন ধান। তারপরও থেমে যান নি কৃষকরা। ঘুরে দাড়াতে মহা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষক-কৃষানিরা। আমনের ধান জমি থেকে ওঠা মাত্র ওই জমিতে আলু চাষ, বোরো বীজ তলা তৈরি, রবি শস্য, ধান মাড়াই, বীজের আলু কাটা থেকে শুরু করে কাজের চাপে দম ফেলারও সময় নেই এ অঞ্চলের কৃষকদের।
গতকাল বুধবার মাঠে আলুর জমিতে গিয়ে দেখা যায়, পর্র্ণমা রানী নামের এক শিক্ষার্থীকে। তিনি এবার জেএসসি পরীক্ষা দিয়ে নানির বাড়িতে বেড়াতে এসেছে। তার নানির বাড়ি তানোর  উপজেলার মোহনপুর  গ্রামে। নানির বাড়িতে এসে দেখে নানি মামিরা আলু চাষি জব্বারের বীজের আলু কাটছেন। সে শুরু করে আলু কাটা। শুধু পর্ণীমা নয়, পিএসসি পরীক্ষার আরো শিক্ষার্থীদের আলু কাটার কাজে  ব্যাস্ত দেখা গেছে।  শুধু মোহনপুর গ্রামে এ অবস্থা না পুরো উপজেলা জুড়ে চলছে ব্যস্ততা।
সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব জমি থেকে আমনের ধান কাটা শেষ। বাড়ির উঠানে কেউ ট্রলি, ভুটভুটি ও গ্রামীণ এলাকায় মাঝে মাঝে গরুর গাড়িতে করে নিয়ে আসছে জমির সোনালী আমনের ফসল। উপজেলার প্রায় আমন ধানের মাঠে এ সময় আলু লাগাতে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বিভিন্ন থানা, জেলা থেকে ট্র্যাক্টর নিয়ে এসে। সারা রাত জমির চাষ করছেন।
চিমনা গ্রামের আলু চাষি হাবিবুর রহমান জানান, প্রতি বছর ৩০ থেকে ৩৫ বিঘা জমিতে আলু চাষ করি। সব জমি টেন্ডার নিয়ে আলু চাষ করতে হয়। এবার ২০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করাছি।  সেখানে আলুর  বীজগুলো কেটে ছোট সাইজ করে দিচ্ছেন গ্রামের গৃহিনীরা।
শ্রীমতি সুর্শীলা রানী জানান, প্রতি বস্তা আলুর বীজ কেটে ২৫ টাকা করে মজুরী পাই আমরা। দিনে ১৫ থেকে ২০ বস্তা আলুর বীজ কাটেন ৬ জন গৃহিনী। শুধু হাবিবুর রহমান নয় কৃষ্ণপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক, ধানতৈড় গ্রামের মহোম্মাদ আলী, তারও প্রতি বছর অন্তত ১শ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে থাকেন।
মোহনপুর  উপজেলার ধুরইল গ্রামের গ্রামের আলু চাষি আমিনুল ইসলাম জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও তানোর উপজেলা মোহনপুর গ্রামে  ৪০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করছি। কিন্তু এবার বীজের দাম অতিরিক্ত বেশী। সে জন্যে এ মৌসুমে অতিরিক্ত খরচ গুণতে হচ্ছে আলু চাষিদের। মোহনপুর উপজেলার প্রতি গ্রামে এমন আলু চাষির সংখ্যা অনেক।
ধানতৈড় গ্রামের আলু চাষি মোহম্মাদ আলী  জানান, গত বছর চেয়ে এবছর প্রতি বিঘা জমিতে আলু লাগাতে শ্রমিককে বেশী দিতে হচ্ছে ৬শ টাকা থেকে ৯ শ টাকা করে। তার পরেও শ্রমিক পাওয়া  দুস্কর হয়ে পড়েছে। এবারও ১শ বিঘা জমিতে আলুর চাষ করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিন্তু বীজের মূল্য অতিরিক্ত ও শ্রমিক সঙ্কটের কারণে টার্গেট পূরণ করা যাচ্ছে না। একই এলাকার আলু চাষি আমরাফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন থেকে আলু চাষ করে আসছি। কিন্ত আলু বীজের দাম এত চড়া হবে ভাবতে পারিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে আলুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৬০ হেক্টর এ পর্যন্ত প্রায় ৫৫০ হেক্টর জমিতে আলু লাগানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, গত বারের চেয়ে এবার আলু চাষ বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ