তানোরে সরকারি জমিতে আ’লীগ নেতার ভবন নির্মাণ!

আপডেট: এপ্রিল ১২, ২০১৭, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


তানোরে আ’লীগ নেতা সাইদুর রহমানের নির্মাণাধীন ভবন- সোনার দেশ

তানোর উপজেলার মুন্ডুমালায় সরকারি রাস্তা দখল করে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করছেন পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান। তিনি জেলা পরিষদের কাছ থেকে দেড় শতক জমি নিজের নামে লিজ নিয়েছেন। এই সুবাদে জমি সংলগ্ন সরকারি রাস্তার জমিও দখলে নিয়েছেন তিনি।
আর সেখানেই বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন সাইদুর। এরই মধ্যে দুইতলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। নিচতলায় দোকান ভাড়াও দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তানোর-আমনুরা সড়ক নির্মাণের সময় মুন্ডুমালা কামিল মাদ্রাসার জমি সাদিপুর মৌজার (জেল নম্বর ৬৮) ২০৪ নম্বর দাগে জমি বিভক্ত হয়ে যায়। এসময় মাদ্রাসার দখলে থাকা সাড়ে পাঁচ শতাংশ জমি পাকা রাস্তাঅংশে পড়ে। কিন্তু মাদ্রাসার প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ ওই জমি রক্ষার জন্য জেলা পরিষদের কাছে লিখিত আবেদন করে। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা পরিষদ সাড়ে পাঁচ শতাংশ রাস্তার পরিত্যক্ত জমি হিসেবে মাদ্রাসার নামে লিজ প্রদান করে। কিন্তু এই সাড়ে পাঁচ শতাংশ জমির মধ্যে মুন্ডুমালা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান ক্ষমতা দেখিয়ে এক শতাংশ জমির লিজ বাতিল করে নিজের নামে জেলা পরিষদের থেকে বরাদ্দ নেন। পরবর্তীতে তিনি ওই জমি সংলগ্ন সরকারি হাটের প্রায় দুইশতাংশ, মাদ্রাসার লিজ নেয়া জমি হতে ৫০ সহ¯্রাংশ এবং মাদ্রাসার নিজ খতিয়ান হতে ২৫ সহস্রাংশ সম্পত্তিসহ প্রায় চার শতাংশ জমির ওপর বহুতল নির্মাণ করেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা সাইদুর সরকারি জমি লিজের নামে দখল বলে ব্যবসা করছেন। ওই ভবনের নিচতলা দোকানঘর হিসেবে ভাড়া দিয়েছেন।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সদস্য তাসির উদ্দিন জানান, সাইদুর রহমান স্থানীয় সরকারি দলের নেতা হওয়ায় যা ইচ্ছা তাই করছেন। মাদ্রাসার জমি দখলে নিয়ে তিনি ভবন নির্মাণ করে ফেলেছেন। কিন্তু প্রভাবশালী হওয়ায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কিছু করতেও পারছে না।
এ ব্যাপারে মুন্ডুমালা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা (তহসিলদার) মিজানুর রহমান জানান, লীজের শর্ত লঙ্ঘন করে সাইদুর রহমান পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে তারা পারছেন না। তবে বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।
তবে আওয়ামী লীগ নেতা সাইদুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি জেলা পরিষদের কাছে ৩-৪বছর দেড় শতক জমি লিজ নিয়ে দোকান করেছিলেন। এখন বিল্ডিং করেছেন। মাদ্রাসার লিজ নেয়া জমি দখলও করেন নি বলে দাবি তার।
এ বিষয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্মকর্তা শওকাত আলী জানান, তিনি এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পান নি। তবে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন।