তানোরে সেতু নির্মাণে ধাপে ধাপে ১৮ কোটি টাকা ব্যয় ।। এক যুগেও কাটে নি শিবনদীতে সেতু যন্ত্রনা

আপডেট: জুলাই ১৬, ২০১৭, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

ইমরান হোসাইন, তানোর


তানোর শিবনদীর উপর সেতুন সংযোগ সড়ক বার বার নির্মাণ করা হলেও এভাবে ভেঙে পড়ায় কোন ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারে না -সোনার দেশ

২০০৫-০৬ অর্থবছর। বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায়। ক্ষমতার দাপটে তৎকালীন সময়ের স্থানীয় সাংসদ ও ডাক-টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক রাজশাহীর তানোর সদরে শিবনদীর ওপর ২১৫ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ সেতুর সংযোগ সড়ক ছাড়াই নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন। এখানে ব্যয় ধরা হয় তিন কোটি ৯৫ লাখ টাকা।
দীর্ঘ সাত বছর পর ২০১২ সালের ৩০ জুন সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হয়। কিন্তু সংযোগ সড়কের অভাবে সেতুটি কোনো কাজে আসে নি। এরই মাঝে ২০০৮ সালে রাজশাহী-০১ (তানোর-গোদাগাড়ী) সংসদীয় আসনে ওমর ফারুক চৌধুরী সাংসদ নির্বাচিত হন। এ অবস্থায় সেতুর এমন বেহাল অবস্থা দেখে ভূমি অধিগ্রহণ ও এক দশমিক ৪৫০ কিলোমিটার সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেন।
সংযোগ এই সড়কটি মোহনপুর উপজেলার সিমান্তবর্তী এলাকার শিবনদীর বাঁধ থেকে রাজশাহী থেকে তানোর গোল্লাপাড়াহাটে পৌঁছার প্রধান সড়ক পর্যন্ত ধরা হয়। এই সংযোগ সড়ক নির্মাণে প্রথমে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়। পরে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে সাড়ে সাত কোটি টাকা ব্যয় ধরে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ। ধাপে ধাপে ব্যয় বাড়ানো হলেও সেতুর কাজ সম্পূর্ণ হয় নি। কিন্তু ২০১৬ সালের ৩০ জুন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার শতভাগ কাজের বিল-ভাউচার দেখিয়ে পুরো টাকা তুলে নিয়েছেন।
অপরদিকে, ওই সংযোগ সড়কের নাম পরিবর্তন করে মোহনপুর এলজিইডি অফিস ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সইপাড়া আর অ্যান্ড এইচ হতে গোল্লাপাড়াহাট পর্যন্ত সাত হাজার ২১০ মিটার চেইনেছে শিবনদীর ওপর অবস্থিত ২১০ দশমিক ৫ মিটার দীর্ঘ আরসিসি সেতুর উভয় পার্শ্বে সংযোগ সড়ক নির্মাণে টেন্ডার আহ্বান করে। এই কাজের উদ্বোধন করেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) সংসদীয় আসনের সাংসদ আয়েন উদ্দিন। এসময় ব্যয় ধরা হয় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা। কিন্তু সড়কটি আজো নির্মাণ হয় নি। ফলে মোহনপুর সিমানার বাঁধ থেকে তুলসিখেত্র পর্যন্ত সংযোগ সড়কে শুধু পায়ে হাটা যায়। ভারী কোন যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, গরুর গাড়ি কিংবা ভ্যান গাড়িও চলে না।
এছাড়া ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সংযোগ সড়কের দুইধারে ব্লক বসানোর নামে সেতু সংশ্লিষ্টরা ৮৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। কিন্তু নামমাত্র কাজ দেখিয়ে আবারো পুরো টাকা তুলে নেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। ওই একই কাজে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৯৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরে আবারও টেন্ডার আহবান করা হয় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তানোর এলজিইডি অফিসের এক কর্মচারী জানিয়েছেন।
তানোর পৌর সদরের আমশো মহল্লার বাসিন্দা আরিফুজ্জামান মোল্লা বাচ্চু জানান, সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণে সরকারের ধাপে ধাপে ১৮ কোটি টাকা ব্যয় হলেও দুর্ভোগ কাটে নি তানোর ও মোহনপুর উপজেলার লাখো মানুষের। ফলে ১২ বছর ধরে এই অঞ্চলের মানুষ সেতু যন্ত্রনায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। কিন্তু টনক নড়ে নি কর্তৃপক্ষের। তিনি অবিলম্বে শিবনদীর সংযোগ দিয়ে সুগমপথ চালু করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ সংক্রান্ত ব্যাপারে তানোর এলজিইডি প্রকৌশলী আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেছেন, সেতুর সংযোগ সড়ক সুগম করতে চলতি অর্থবছরে রাজশাহী এলজিইডি অফিস থেকে টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। ঠিকাদার নিযুক্ত ব্যাপারে তিনি অবগত নন বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান এই প্রকৌশলী।