তানোরে সেশন ফি ছাড়া মিলছে না বিনামূল্যের বই!

আপডেট: জানুয়ারি ৩, ২০১৭, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

তানোর প্রতিনিধি


বছরের প্রথম দিনটি ছিল দেশজুড়ে বই উৎসব। প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই উঠেছে ১ জানুয়ারি। কিন্তু তানোর উপজেলার অনেক শিক্ষার্থী সেই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সেখানে বিনামূল্যের বই বিতরণের সময় সেশন ফি আদায় করা হচ্ছে। তা না দিলে মিলছে না বিনামূল্যের বই।
জানা গেছে, সেশন ফির নামে উপজেলার অনেক নামি দামি স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী প্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা করে আদায় করছেন। যারা এই টাকা পরিশোধ করেছে, তাদের ভাগ্যেই জুটেছে বিনামূল্যের পাঠ্যবই। আর যেসব শিক্ষার্থী টাকা দিতে পারেনি, ‘বই উৎসবের’ দিন তাদের হাতে ওঠে নি বিনামূল্যের বই। বই উৎসবের দিন রোববার সরেজমিনে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় এসব তথ্য। বিনামূল্যে বই দিয়ে অর্থ নেয়া বিষয়ে অনেক অভিভাবক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক অফিসের তথ্য মতে, তানোর উপজেলায় নিন্ম মাধ্যমি, ভোকেশনাল, স্কুল এ- কলেজ, বালিকা বিদ্যালয়সহ ৮৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে মধ্যে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শিক্ষাটি প্রতিষ্ঠানে সেশন ফি’র নামে বই বিতারণের সময় শিক্ষার্থীদের কাছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। একাধিক স্কুলের কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রোববার সারা দেশে নতুন বই উৎসব হলেও তানোর অনেক প্রতিষ্ঠানে সে উৎসব খুব একটা ছিলনা, কারণ বলতে তারা জানান, যেখানে বই নিতে বাড়ি থেকে ২০০ টাকা আনলে তবেই মিলছে বই। অনেক গরিব পরিবারের শীক্ষার্থী টাকা টাকা দিতে না পারায় তারা সেদিন বই পাই নি। বিল্লি, কলমা ও মু-মালা এলাকার কয়েকজন অভিভাবক জানান, রোববার সারাদেশে নতুন বইয়ের উৎসব থাকলে তানোরে অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে কোন উৎসবের আমেজ ছিল না। নতুন বই বিনামূল্যে সরকার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে অথচ তারা টাকা নিচ্ছে, তাতে সরকারের ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করেছে। সেশন ফি’র নামে বইয়ের জন্য টাকা নেয়ার বিষয়টি সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্তপূর্বক আইনগতভাব ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
এদিকে উপজেলার সাতপুকুর উচ্চবিদ্যালয়ে বই বিতারণের সময় সেশন ফি’র নামে ১৮০ টাকার নেয়া হয়েছিল। সেখানে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোস্তাফিজুর রহমানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষা কর্মকর্তার নিদের্শে সোমবার আংশিক কিছু শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে। সাতপুকুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফিরোজ কবির জানান, স্কুল পরিচালনার জন্য কিছু অর্থ প্রয়োজন হয়, তাই বই দিয়ে নয়, সেশন ফি বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছে সামান্য কিছু অর্থ নেয়া হয়েছিল। শিক্ষা কর্মকর্তার নিদের্শে সেটিও সোমবার ফেরত দেয়া হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম জানান, সাতপুকুর উচ্চবিদ্যালয়ে বই বিতরণকালে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের বিষয়টি স্থানীয়রা তাকে জানিয়েছেন। তিনি আরো জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর প্রধানশিক্ষকে টাকা ফেরত দেয়া নিদের্শ দিলে সোমবার সে টাকা শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে দেয়া হয়। তিনি বলেন, শুধু সাতপুকুর উচ্চবিদ্যালয়ে নয়, উপজেলার যে কোন প্রতিষ্ঠানে বই বিতারণের দিন সেশন ফি’র নামে অর্থ আদায়  অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।