তানোর আমন ঘরে তুলে বোরো বীজতলা তৈরীতে ব্যস্ত কৃষক

আপডেট: ডিসেম্বর ৩, ২০১৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

লুৎফর রহমান, তানোর
রাজশাহীর তানোরে আমন ধান কাটা প্রায় শেষ হয়েছে। মাড়াই কাজে চলছে কৃষকের ব্যস্ততা। আমন ধানের পরে বোরো ধানের বীজলতা তৈরীতে আবারো ব্যস্ত হয়ে পড়েছে এই অঞ্চলের কৃষকরা। এর মধ্যেই এ অঞ্চলের বোরো বীজ তৈরীর সময় হয়ে গেছে। অনেকে বীজতলা তৈরী করেছেন। অনেকের বীজ কয়েক ইঞ্চি পর্যন্ত হয়েও গিয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার চলতি বোরো মৌসুমে চাষাদের জন্য বীজতলার পনিমাণ ৯৫০ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরী হয়েছে। আর বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে।
গত মঙ্গলবার সকালে কালীগঞ্জ হাটে এবং বিকেলে তানোর পৌর এলাকা ও গোল্লাপাড়া হাটে গিয়ে কথা হয় কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে। এর মধ্যে সরনজাই উপরপাড়া গ্রামের সোহেল নামের এক কৃষক জানান, এবার আমন ধানের ভালো ফলন ও দাম ভালো পেয়েছি। তাই বোরো ধানের বীজ রোপণের জন্য জিরা জাতের একমণ ধান ক্রয় করেছি। আশা করছি আমন ধানের মতো বোরো ধানের ফলন ভালো পাব। উপজেলার মোহাম্মাদপুর গ্রামের কৃষক আবদুর রশীদ জানান, টিয়া (টিয়ামণ) তথা ভাদ্র মাসের সময় জিরা ধান ১০ বিঘা জমিতে রোপণ করেছিলাম। বীজ হিসাবে বিক্রয় করা জন্য। গত বছরের চেয়ে এ বছর ভালো দামে বিক্রয়  করতে পারছি। এতে করে আমার ১০ বিঘা জমিতে প্রায় জিরা জাতের বীজের ধান বিক্রয় করে এক থেকে দেড় লাখ টাকা লাভ হবে বলে আশা করেন তিনি।
এ বিষয়ে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত কৃষক নুরমোহাম্মাদ জানান, ধানের দাম গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি।  এ কারণে বোরো বীজ ধানের দাম আকাশ ছোয়া। কখনোই কল্পনা করি নি এবার এতো বেশি দরে বীজ কিনতে হবে চাষিদের। তবে ধানের দাম ভালো পেয়ে এ অঞ্চলের চাষিদের বোরো বীজ কিনতে অতোটা কষ্ট পেতে হচ্ছে না। যদি দাম ভালো না থাকতো তাহলে কৃষকদের এ বীজ কিনতে হিমশিক খেতে হতো।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বছর আমন ধানের দাম ভালো থাকার কারণে বোরো বীজের দাম অনেক বেশি। তবে আবহাওয়া অনুকূল থাকলে আমন ধানোর মতো ভালো ফলন হবে। এর ফলে চাষিরা ভালো দামও পাবে। তবে শুধু ধানের প্রতি আগ্রহ কমিয়ে অন্য ফসলের দিকে গুরুত্ব দিতে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি বলে জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ