তাপদহে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাড়তি রোগী

আপডেট: এপ্রিল ২১, ২০২৪, ৯:১৫ অপরাহ্ণ


মোহনপুর ও কেশরহাট প্রতিনিধি:


মোহনপুরে তীব্র তাপদাহ ও গরমের কারণে জনজীবনসহ প্রাণিকূল অতিষ্ঠ। দিনের বেলায় তীব্র তাপ এবং রাতের শেষভাগে বইছে ঠান্ডা। আবহাওয়ার এই বৈরিতার ফলে বাড়ছে নানা ধরনের রোগ। এই কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাড়তি রোগীর চাপ। শয্যার চেয়ে মেঝেতেই বেশি সংখ্যাক রোগী। সার্বক্ষণিক শতভাগ চিকিৎসা সেবায় দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সতর্ক রাখা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিন রোববার (২১ এপ্রিল) দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত সংখ্যক রোগী রয়েছে। এসময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা টিএইচএ ডা. আরিফুল কবীরকে ওয়ার্ডে গিয়ে প্রতিটি রোগীর সঙ্গে চিকিৎসা প্রদান এবং খোঁজ খবর নিতে দেখা যায়। জানা যায়, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় চলতি বছরের এ মৌসুমে সর্বাধিক রোগীর উপস্থিতি। ডায়রিয়া, পেট ব্যথা, মাথা ব্যথা,শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরনের শিশুরোগের রোগীর সংখ্যায় বেশি।

একাধিক রোগী এবং তাদের স্বজনরা জানায়, সম্প্রতি মোহনপুর উপজেলার চিকিৎসাসেবা খুব ভাল হয়েছে। দিনও রাতের প্রতিটি মুহূর্তে রোগী আসলে এখন চিকিৎসার কোনো কমতি নেই। এজন্য আগের মতো এখন রোগীরা আর দ্রুত স্থানীয় ক্লিনিক বা জেলা সদরে যায় না। চিকিৎসার মান বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকদের সুন্দর ব্যবহারে এসব কারণে রোগীরা এখন ক্লিনিক ছেড়ে হাসপাতালে হুমড়ি খেয়েছে। এছাড়াও তীব্র তাপদাহের প্রভাবে বাড়ছে অধিক সংখ্যাক রোগীর উপস্থিতি।

মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন কেশরহাট মহিলা কলেজের কম্পিউটার প্রদর্শক মশিউর রহমান। তিনি জানান, মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বর্তমান চিকিৎসা সেবা আসলেই প্রশসংসার দাবী রাখে। আমি একজন হার্টের রোগী। এরপর গত ৩ দিনে আগে আমার পেটের মারাত্মক যন্ত্রণায় অজ্ঞান হয়ে যায়। এরপর আমার স্বজনরা এখানে ভর্তি করেন। ভাল চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছি। তবে এখানকার টয়লেটের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি।

তিলাহারি গ্রামের আহম্মেদ হোসেন জানান, মোহনপুর মেডিকেলে এখন এতো ভাল চিকিৎসা রেখে কোনো ক্লিনিকে ভর্তির দরকার নাই। রোগীর হয়রানি নাই। কয়েক দিন আগে আমার একটি অপারেশন হয়েছে। আমি বর্তমানে সুস্থপ্রায়। এতে আমি অর্থনৈতিক ভাবে রেহায় পেয়েছি। তবে হাসপাতালে যে এতো রোগীর চাপ তাতে ডাক্তাররা বিরক্ত হচ্ছেনা এটা আমার কাছে খুব ভাল লেগেছে।

মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচএ) ডা. আরেফুল কবীর জানান, আমরা রোগিদের সেবায় নিয়োজিত। চিকিৎসা সেবা প্রদান আমাদের কর্তব্য। আমরা নিয়মিত রোগীদের সুষ্ঠুভাবে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছি। আরো আগে থেকেই হাসপাতালে রোগী ধরছে না। সম্প্রতি তীব্র তাপদাহের কারণে ডায়রিয়া, পেটের সমস্যা, মাথার সমস্যা, হিটস্ট্রোক রোগীর পাশাপাশি বৃদ্ধ ও শিশু রোগীর চাপ বেশি। বেডের চেয়ে মেঝেতেই বেশি রোগী। গত সপ্তা থেকে রোগীর চাপ আরো বাড়ছে। এজন্য হাসপাতালের চিকিৎসকসহ নার্সরা সব সময় সতর্ক রয়েছেন।

তিনি জনসাধারণের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান অবস্থায় সূর্যের তাপদাহ বৃদ্ধির আগেই প্রয়োজনীয় কাজ সেরে ঘরে ফিরেন, বেশি করে পানি পান করুন, নরম এবং তরল জাতীয় খাবার খান। তৈলাক্ত এবং ভাজাপোড়া খাবার ছেড়ে শসা, তরমুজ জাতীয় ফলমূল খান। শিশুদের ঘরে আগলে রাখুন। বিনা প্রয়োজনে অতিরিক্ত সময় কেউ ঘরের বাইরে থাকবেন না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ