তামাক পণ্যের বিজ্ঞাপন বন্ধে ভ্রাম্যমান আদালত || প্রকাশ্যে ধূমপান বন্ধে নিয়মিত আদালত চাই

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৭, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

নগরীতে তামাক পণ্য বিক্রয় কেন্দ্রে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন কমাতে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে সোমবার। ভ্রাম্যমাণ আদালত নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অর্থদ- দিয়েছেন।
দোকানের সামনে তামাক কোম্পানি কর্তৃক প্রদর্শিত খালি মোড়কের আদলে সাজানো প্যাকেট, ডেস্ক লিফলেট, ডালা প্রভৃতি প্রদর্শন করা হচ্ছিল। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারা ৫ এর (ছ) অনুযায়ী ৫ জন দোকানদারকে ৫০০ টাকা করে মোট ২৫০০ টাকা অর্থদ- প্রদান করা হয়। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা বাস্তবায়নের প্রধান অন্তরায় তামাক কোম্পানিগুলোর আইন না মানার সংস্কৃতি। ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০৫ অনুসারে তামাক পণ্যের বিক্রয় কেন্দ্রে যে কোন উপায়ে বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ অথচ তামাক কোম্পানিগুলো দোকানদেরকে আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে অবাধে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে চলেছে। এরই প্রেক্ষাপটে  ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান পরিচালিত হয়।
মাদক ও তামাক পণ্যের বিরূদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতকে নগরবাসী আন্তরিকভাবেই স্বাগত জানাই।  তামাক পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের সাথে তামাকসেবিদের বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হয় না। ফলে ধূমপায়ীদের দৌরাত্ম্য ব্যাপকভাবেই বেড়েছে। জনবহুল স্থানে এবং পাবলিক যানবাহনে ধূমপানের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমান আদালত ধূপানের দায়ে অর্থদ- দেন বটে তবে ধূমপায়ীদের মধ্যে তার প্রভাব পড়ছে না। আইনের প্রয়োগের দুর্বলতার কারণে আইনের লঙ্ঘনের ব্যাপারটি বেশ খেলামেলা।
আমরা জানি, ধূমপান অন্যান্য মাদকের জননী। ধূমপান থেকেই মাদকসেবনের সূচনা। কৌতুহল, হতাশা, নিরাশা বিভিন্ন কারণে তরুণরা মাদকের প্রতি আসক্ত হচ্ছে। তরুণ ধূমপায়ী হলে মাদকে নিমগ্ন হওয়া খুবই সহজ হয়ে পড়ে। আর এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ফল স্বরূপ সমাজে অসামাজিক ও অপরাধমূলক কর্মকা- বৃদ্ধি পায় এবং সমাজের স্থিতিশীলতা ক্ষুণœ হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছে, ২০২০ সাল নাগাদ তামাক ব্যবহারজনিত কারণে বিশ্বে এক কোটি লোকের মৃত্যু হবে। যাদের বেশির ভাগই মারা যাবে ক্যান্সার, হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে। আন্তর্জাতিক ফুসফুস ফাউন্ডেশন এবং আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির এক নিরীক্ষায় বলা হয়, বিশ্বে প্রতিবছর তামাক ব্যবহারজনিত রোগের চিকিৎসার জন্য ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে। ধূমপানের কারণে একটি দেশের জিডিপি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পাচ্ছে। বিশ্বে বর্তমানে প্রতি দশ জনের মধ্যে এক জনের মৃত্যুর কারণ ধূমপান। বাংলাদেশে বর্তমানে তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা তিন কোটির বেশি। প্রতিবছর তামাক ব্যবহারজনিত ৮টি প্রধান রোগে ১২ লাখ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। এই রোগিদের মাত্র ২৫ শতাংশ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে ধরে হিসাব করলে বছরে দেশের অর্থনীতিতে ৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়। অন্যদিকে তামাক খাতে বছরে সরকারের আয় হয় ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এক গবেষণায় দেখা গেছে, সিগারেট থেকেই মাদকের নেশা শুরু হয় এবং মাদকাসক্তদের ৯০ শতাংশই ধূমপায়ী।
মাদকের সহজলভ্যতা হয় মাদকের উৎপাদন, আমদানি ও চোরাচালানের মাধ্যমে। মানুষ নেশা বা মাদকে আসক্ত হবার সুযোগই পাবে না যদি ঈপ্সিত নেশা জাতীয় বস্তুটি তার হাতের কাছে না থাকে। পাশ্চাত্যের অনেক দেশেই ১৮ বছরের নিচে ছেলেমেয়েদের সিগারেট ক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশে যে আইন রয়েছে তার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারলেও ধূমপানের ব্যাপকতা রোধ করা যায়। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে প্রকাশ্যে ধূমপান বন্ধ করা সম্ভব বলে মনে হয়। আইনের প্রয়োগ থাকলে অধূমপায়ীরাও  সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়তে উৎসাহিত বোধ করবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ